২৭ নভেম্বর ২০২০

আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদেরকে বিনামূল্যে সার বীজ ও নগদ সহায়তাসহ দেয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক - ছবি : সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ঘুর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শাকসবজি ও মসলা চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ফল ও পান চাষিদেরকে মাত্র ৪% সুদে কৃষি ঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার আমফান এর ফলে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬০-৭০ ভাগ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় ঝড়ে পড়া আমগুলো ত্রাণ হিসেবে দুস্থ জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছ্।ে এতে একদিকে যেমন আমচাষিরা কিছুটা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে অন্যদিকে তেমনি দু:স্থ এবং অসহায় জনগণের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে।

ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদন তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও অল্প কিছু কৃষিজ ফসলের বিশেষ করে ফলের মধ্যে আম, লিচু, কলা, সবজি, তিল এবং অল্প কিছু বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির চুড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মোট জমির পরিমাণ ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাওড়ে শতভাগ, উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭ জেলায় শতকরা ৯৬ ভাগসহ সারা দেশে গড়ে ইতোমধ্যে ৭২ শতাংশ বোরো ধান কর্তন করা হয়েছে। ফলে, ক্ষতির পরিমাণ সামান্য যা আমাদের খাদ্য উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না।

কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদন বোরো ধান ৪৭ হাজার ২ হেক্টর শতকরা ১০ ভাগ, ভূট্টা ৩ হাজার ২৮৪ হেক্টর শতকরা ৫ ভাগ, পাট ৩৪ হাজার ১৩৯ হেক্টর শতকরা ৫ ভাগ, পান ২ হাজার ৩৩৩ হেক্টর শতকরা ১৫ ভাগ, সবজি ৪১ হাজার ৯৬৭ হেক্টর শতকরা ২৫ ভাগ, চিনাবাদাম ১ হাজার ৫৭৫ হেক্টর শতকরা ২০ ভাগ, তিল ১১ হাজার ৫০২ হেক্টর ২০ ভাগ, আম ৭ হাজার ৩৮৪ হেক্টর শতকরা ১০ ভাগ, লিচু ৪৭৩ হেক্টর শতকরা ৫ ভাগ, কলা ৬ হাজার ৬০৪ হেক্টর শতকরা ১০ ভাগ, পেঁপেঁ ১ হাজার ২৯৭ হেক্টর শতকরা ৫০ ভাগ, মরিচ ৩ হাজার ৩০৬ হেক্টর শতকরা ৩০ ভাগ, সয়াবিন ৬৪০ হেক্টর শতকরা ৫০ ভাগ, মুগডাল ৭,৯৭৩ হেক্টর শতকরা ৫০ ভাগ এবং আউশ ৬ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও সকলের সহযোগিতায় মহামারি করোনা এবং সুপার সাইক্লোন আম্পানের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করে দেশের খাদ্য উৎপাদনের বর্তমান ধারা শুধু অব্যাহত রাখা নয়, তা আরও বৃদ্ধি করে ২০৩০ সালের ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ (এসডিজি) অর্জন করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আরো সংবাদ