১৩ জুলাই ২০২০

ভারতের পেঁয়াজের বিষয়ে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত : বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারতের পেঁয়াজের বিষয়ে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত : বাণিজ্যমন্ত্রী - ছবি : সংগৃহীত

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনা করার হবে বলে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আমরা এখনও অফিসিয়ালি কোনো প্রস্তাব পাইনি। প্রস্তাব পেলে বিচার-বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে বিজেপির ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকার। আমদানি করা পেঁয়াজ বাংলাদেশকে দেয়ার প্রস্তাব দেয়ার কথাও বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ভারত যে দামে পেঁয়াজ আমদানি করেছে তার চেয়েও কম দামে বাংলাদেশকে দিতে চাচ্ছে বলে খবর শোনা যাচ্ছে- সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাইস (দাম) কী সেটা ম্যাটার না। আমরা অফিসিয়ালি এ রকম কোনো প্রোপোজাল ( পাইনি। তাছাড়া এটা আমাদের কনসিডারেশনের (বিবেচনা) নেই। এ ধরনের প্রস্তাব এলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়েই আসবে।

যদি প্রস্তাব আসে তাহলে সরকার কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রোপোজাল আসলে দেখে বিবেচনা করবো, কী ধরনের প্রোপোজাল। কিন্তু আমরা তো এখন নিজেরাই সরাসরি আমদানি করছি। তারপরও যদি সুইটেবল হয় দেখা যাবে। বাট, এখন আমাদের এটা কনসিডারেশনে নেই।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে দেশটির সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ আমদানির পর ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকার তাদের চাহিদা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ বিপদ দেখা দিয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ রাজ্য সরকাররা কিনতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য প্রিন্ট’ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে চাহিদা পুরণ হয় না। দাম কম ও সহজ পরিবহনের কারণে সাধারণত প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এ বছর ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গত সেপ্টেম্বরে রফতানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারণ করে দেয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। এর পর দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম।

৩০ থেকে ৪০ টাকার পেঁয়াজের দাম ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় পৌঁছায়। এ অবস্থায় দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বর্তমানে নতুন দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা করে।


আরো সংবাদ