১৬ জানুয়ারি ২০২১
`
সংসদে পয়েন্ট অনির্ধারিত আলোচনা

শেয়ারবাজার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

শেয়ারবাজার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা - ছবি : নয়া দিগন্ত

শেয়ারবাজার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে জাতীয় পার্টির এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ বুধবার সংসদে বলেছেন, আজকে লিড নিউজ হয়েছে, ‘মাটিতে শুয়ে গেছে শেয়ার বাজার’। বিক্ষোভ করছে বিনিয়োগকারীরা। শেয়ার মার্কেট নিয়ে কেন এমন হলো?

তিনি বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন তবে বাজার ফিরে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, মার্কেটে সুশাসনের অভাব। বিনিয়োগকারীরা ভরসা পাচ্ছে না। এটা বাজারের জন্য অশনিসংকেত।

সন্ধ্যায় পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করে ফিরোজ বলেন, এটা কেন হচ্ছে? মাননীয় মন্ত্রী মিটিং করেছিলেন। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ছিলো। স্টেক হোল্ডাররা ছিলো। আমাদের মন্ত্রীর সামনে আমি কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে ছিলাম। বলেছিলাম দুর্বল কোম্পানিগুলো যেগুলো তার লিস্টিং যাতে না নেয়। ব্রোকার হাউজগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইইসি) সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে শেয়ার মার্কেট ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়ে গেছে। বলা হলো, এটা করা হলে আমাদের কাছ থেকে ৭ বছর ট্যাক্স নেয়া হবে না। দুই বছর পর আমাদের ওপর ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। এই যে শেয়ার মার্কেটের অবস্থা একমাত্র কারণ দুর্বল কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে লিস্টিং দেয়া হয়েছে। আমাদের কিছু করার থাকে না। লিস্টিং দেয় সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন। আমরা বারবার বলি এই কোম্পানির লিস্টিং দিতে পারবো না। কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু বরোয়ার এসব দুর্বল ও পঁচা কোম্পানি নিয়ে আসছে বাজারে। বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এসইসি যারা দেখাশোনা করবে তারা পঁচা কোম্পানিগুলো গুছিয়ে দিচ্ছে। এই কোম্পানির শেয়ার নেমে আসতে ৭,৮,১০ টাকায় নেমে আসে। মূল দামের নীচে চলে আসে। বিনিয়োগকারীরা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ১০ টাকার শেয়ার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পড়ে ১৫ টাকায় নেমে এসছে। বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় বসে গেছে। ৩০ বছর ধরে শেয়ারবাজারে যাতায়াত করে। এখন পায়ে জুতা নেই। তারা বলে আমাদের দেখার কী কেউ নেই। আমাকে বলেছে সংসদে গিয়ে বলতে। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন নিশ্চিত। সমস্ত দোষ বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয়। তারা যে পঁচা কোম্পানি আনছে সে ব্যাপারে কিছু করা হচ্ছে না। কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত নেয়া হয় নাই। ১০টাকার শেয়ার ৩০টাকা প্রিমিয়াম হতে পারে না। এগুলো কিভাবে বাজারে আসলো? মার্চেন্ট ব্যাংককে জবাবিদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না।

ফিরোজ রশীদ বলেন, প্রশান্ত হালদার নামে একটা লোক নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান করে ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। উনি এখন উধাও হয়ে গেছে। এভাবে টাকা চলে যাচ্ছে কার জবাব কে নেবে, কার জবাব কে দেবে ?

ফ্লোর নিয়ে একই প্রসঙ্গে বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, মন্ত্রীরা বিপর্যয় দেখতে পান না। তারা বলেন, সঙ্কট নাই। আমরা হতভম্ভ হয়ে যাই, বিস্মিত হয়ে যাই। গত এক সপ্তাহ ধরে মানুষ শেয়ারবাজারের জন্য রাস্তায় শুয়ে পড়েছে। কান্নায় বিপর্যস্ত। লক্ষ লক্ষ পরিবার ধূলায় মিশে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আমরা আশ্বস্থ হতে পারছি না। পত্রিকায় খবর এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চলে যাচ্ছে অথচ আমরা আজ মুজিববর্ষ পালন করছি, বলছি দেশে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এত উন্নতি, চারদিকে বিশাল বিশাল স্থাপনা বানাচ্ছি। অথচ অর্থনীতির কী বিপর্যয় অবস্থা। বিনিয়োগকারীকে রক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আবারও অনুরোধ করছি এখানে সংসদ নেতা আছেন।

প্রতিনয়ত পত্রিকা নিউজ হচ্ছে। হুমকি-ধামকি, প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলারক্ষারী বাহিনীর সদস্যরা পোস্টার টাঙাতে বাধা দিচ্ছে। এগুলো সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের পথে অন্তরায়। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে জবাবদিহিতামূলক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। সিলেকটেড মেয়রদের হাতে ক্ষমতা দিলে হবেনা।



আরো সংবাদ