০৯ মার্চ ২০২১
`

বাংলাদেশ কি করোনার পর্যাপ্ত টিকা পাবে?

২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ কোভিশিল্ড টিকা প্রথম দেয়া শুরু হয়। - ছবি : বিবিসি

রোববারই ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে টিকার জন্য অপেক্ষমান বিশ্ববাসীকে ধৈর্য ধরার আহবান জানানো হয়েছে, কেননা আগে ভারতের আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা হবে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করতে কতটা সক্ষম হবে?

প্রথম ডোজ দেবার পর দ্বিতীয় ডোজের জন্য যথেষ্ট টিকা হাতে থাকবে কিনা - এমন প্রশ্নগুলো উঠতে শুরু করেছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর ধারণা দিয়েছেন কী পরিমাণে টিকা আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে পারে।

‘সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে কেনা টিকাসহ আমাদের পাইপলাইনে ১০ কোটির, যা পাঁচ কোটি মানুষকে দুই ডোজে দেয়া হবে’ - বলছেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বণ্টনের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে তৈরি হয়েছে কোভ্যাক্স।

তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২৭ শতাংশের জন্য টিকা তারা সরবরাহ করবে।

এ এস এম আলমগীর বলছেন, ‘ছয় কোটি আশি লাখ টিকা বাংলাদেশকে দেবে কোভ্যাক্স।’

এর প্রথম চালান এ মাসের শেষে আসতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী কয়েক মাসে যত ডোজ আসার সম্ভাবনা
আজ সোমবার রাতেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কোভিশিল্ড টিকার ২০ লাখ ডোজ ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে কিনে আনা তিন কোটি ডোজের দ্বিতীয় চালান এটি।

গত ২৫ জানুয়ারি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এবং ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের উৎপাদিত ৫০ লাখ ডোজের প্রথম চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।

তবে এর আগেই ভারত সরকারের উপহার দেয়া ২০ লাখ ডোজ ঢাকায় এসেছিল।

২৭ জানুয়ারি কোভিশিল্ড টিকা প্রথম দেয়া হয় পর্যবেক্ষণের জন্য। আর এ মাসের ৭ তারিখ থেকে দেশব্যাপী গণটিকা কর্মসূচি শুরু হয়।

এর পর থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই লাখ ডোজের মতো টিকা দেয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ৩৫ লাখের বেশি।

বাংলাদেশে শুরুর দিকে টিকার ব্যাপারে মানুষজনের অনাগ্রহ থাকলেও এখন আগ্রহ অনেকটাই বেড়েছে।

‘বাংলাদেশের টিকা কর্মসূচি অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মাহফুজা রিফাত মনে করছেন, বাংলাদেশ টিকা দেবার ক্ষেত্রে অনেক দেশের থেকে এগিয়ে থাকলেও বারবার সংখ্যা ও পরিকল্পনা পরিবর্তন না হলে ভালো হতো।

তিনি বলছেন, ‘বিশ্বব্যাপী টিকার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবকিছু অতিক্রম করেও যেভাবে আমাদের টিকা কর্মসূচি চলছে, আমি বলবো সেটা আশানুরূপ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যে পরিমাণ টিকা পাওয়া যাবে বলে বলা হচ্ছে তা বাংলাদেশে জনসংখ্যার জন্য যথেষ্ট নয়।’

‘তাই সামনে আমাদের এই সেবার মান ও গতি ধরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে যাতে কোনো চ্যালেঞ্জের মধ্যে আমরা না যাই।’

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ