১৬ মে ২০২২
`

বাংলাদেশী পণ্য ব্রান্ডিংয়ে মালয়েশিয়ায় ক্রাউন বিজনেস কনফারেন্স

বাংলাদেশী পণ্য ব্রান্ডিংয়ে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় বিজনেস কনফারেন্স - ছবি : নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য বিপণন ব্যাপক করতে অনুষ্ঠিত হলো ক্রাউন বিজনেস কনফারেন্স। শনিবার দেশটির পিঙ্কসিটি পুত্রজায়া ফাইভস্টার হোটেল ইভারলি বলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশের মুন্নু সিরামিকের উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেন মুন্নু মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডি’র সিইও ও ডিরেক্টর মাহবুব আলম শাহ।

এ সময় কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন, দাতুক ড. দারিন গুহ, দাতুক গুনাহলাম সুব্রামানিয়াম, জাফর হোসাইন, লি কিম সুন, হাজী আসবুল্লাহ, মারুফ, তাজ উদ্দিন, মিস জাইতন, দাতুক তুয়ান সেরী তুয়ান কুনিং প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সিরামিক পণ্য আমদানি ও বিপণন শুরু করেছে মুন্নু মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডি।

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: গোলাম সারোয়ারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সিরামিকপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা। আলোচনা শেষে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্যের উদ্বোধন করেন হাইকমিশনার মো: গোলাম সারোয়ার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও কাউন্সেলর (বাণিজ্যিক) মো: রাজিবুল আহসান ও এ
সময় কে-লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডির ডিরেক্টর এবং যুগ্ম মহাসচিব বিএমসিসিআই দাতুক গুনাহলাম সুব্রামানিয়াম উপস্থিত ছিলেন। এসময় মালয়েশিয়ার শতাধিক ক্রাউন(শীর্ষ স্থানীয়) ডিস্টিবিউটর ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। ধারাবাহিক ভাবে এই অনুষ্ঠানটি সেলিব্রশন করা হয়েছে।

১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের মোট রফতানি ছিল ২৩২.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে রফতানি বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭৭.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।

মালয়েশিয়ার বাজারে সিরামিকের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, হিমায়িত মাছ, কাঁকড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, মসলা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, আলু, টেবিলওয়্যার ও হালাল খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও কৃষিজাত পণ্য সবচাইতে বেশি রফতানি হয়েছে মালয়েশিয়ায়।

এদিকে রফতানি বাজার হিসেবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

মালয়েশিয়ায় রফতানি বাজার অধিকতর সম্প্রসারিত হলে আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশেও রফতানির দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: গোলাম সারোয়ার।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতি জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশন নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - পণ্য রফতানিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, মালয়েশিয়ার ডিউটি ফ্রি কোটা-ফ্রি (ডিএফ কিউএফ) লিস্টে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তকরণ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলা ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ।

এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে নিয়মিত রোডশো ও ব্রান্ডিং অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশী পণ্যের পরিচিতি তুলে ধরার কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার।


আরো সংবাদ


premium cement