০৬ ডিসেম্বর ২০২১
`

যেসব কারণে মালদ্বীপের শ্রমবাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ


পুরো মালদ্বীপে মাত্র ছয় লাখ লোকের বাস। এর মধ্যে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে বাংলাদেশীর সংখ্যা দেড় লাখের ওপরে। অলস মালদ্বীপবাসীর কাছে খুবই পরিশ্রমী বাংলাদেশী শ্রমিকরা। তবে দু’বছর ধরে বাংলদেশীদের জন্য মালদ্বীপের ভিসা বন্ধ থাকায় এই শ্রমবাজার হাতছাড়া হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। এই সুযোগে ভারতীয়দের দখলে চলে যাচ্ছে এই শ্রমবাজার। মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানিয়েছেন এমন তথ্য।

গত শতাব্দীর ৮০-এর দশক থেকে মালদ্বীপে আসা শুরু বাংলাদেশীদের। আর ২০০৪ সালের পর ব্যাপক হারে বাংলাদেশীদের সমাগম এই দেশে। বর্তমানে বাংলাদেশীদের কেউ মালেতে বিভিন্ন দোকান বা হোটেলে কাজ করে। কারো কর্মস্থল বিভিন্ন ধরনের নির্মাণাধীন ভবনে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনেও চাকরি করেন অনেকে। সাগরে মাছ ধরা, এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে চলাচলকারী মালবাহী জাহাজে চাকরি করছেন তারা। বেতন বাংলাদেশী টাকায় ৩০-৩৫ হাজারের মতো। ভারত মহাসাগরের এই অংশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রিসোর্টগুলোতেও কাজ করেন অনেক বাংলাদেশী। রিসোর্টের চাকরিতে প্রচুর আয়।

উল্লেখ্য, এক মালদ্বীপের রুপিয়া সমান বাংলাদেশের পাঁচ টাকার চেয়েও বেশি।

২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে মালদ্বীপ সরকার। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনা হানা দেয়ার পর মালদ্বীপও এতে আক্রান্ত হয়। তখন বিদেশীদের আসা নিষিদ্ধ হয়ে যায় হাজার দ্বীপের এই দেশে।

হাজারের অধিক দ্বীপ নিয়ে মালদ্বীপ রাষ্ট্র। তবে জনবসতি আছে মাত্র ১৮৭ দ্বীপে। করোনার ফলে দেশটির রিসোর্টগুলোসহ অন্যপ্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি হারাতে থাকে বাংলাদেশীরা। ফলে দেশে ফেরা এই বাংলাদেশীরা পরে আর কর্মস্থলে আসার ভিসা পায়নি। এই সুযোগে ভারত তাদের শ্রমিকদের এই দেশে পাঠাতে শুরু করেছে।

প্রবাসীদের দেয়া তথ্য, দক্ষিণ ভারতের জনগণকেই মালদ্বীপে পাঠাচ্ছে ভারত।

বর্তমান মালদ্বীপ সরকারও এ কাজে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বাংলাদেশীদের ভিসা দেয়া বন্ধ রাখলেও ভারতীয়দের ভিসা বন্ধ হয়নি। তাই একে বাংলদেশীদের জায়গা দখলে নিচ্ছে ভারতীয়রা।

মালদ্বীপের ঐতিহ্য
শান্তির দেশ মালদ্বীপ। সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা এই দেশে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার নজির নেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশের কারণে বসবাসের দারুণ উপযোগী দেশটি। ফলে পর্যটক প্রিয়তা পেয়েছে সহজেই। এখানে কাজের জন্য আসা বাংলাদেশীরাও বেশ ভালো আছে। শতাধিক বাংলাদেশী মালদ্বীপের মেয়েদের বিয়েও করেছেন।

অবশ্য কেউ কেউ আবার বিয়ে করে মালদ্বীপে স্ত্রী-সন্তান রেখে বাংলাদেশে পালিয়েছেন। এদের কারণে এখন প্রবাসী বাংলাদেশীদের মালদ্বীপের মেয়েদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া প্রচুর বাংলাদেশী মালদ্বীপে টুরিস্ট ভিসায় এসে অবৈধভাবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ আছে। এসব কারণেই বাংলাদেশী শ্রমিকদের মালদ্বীপের ভিসা দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান মালদ্বীপের সাংবাদিক ওজোনে।

আগে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকরা চাকরি করতেন এই দেশে। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য এখন বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদেরও মালদ্বীপে আসা নিষিদ্ধ। এই তথ্য দেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। কয়েকজন প্রবাসী অভিযোগ করেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আর বাংলাদেশীদের আসতে দেয়া হচ্ছে না।

তাছাড়া বাংলাদেশীদের কেউ কেউ নিজেরাই নিজেদের সুনাম নষ্ট করেছে। প্রচুর বাংলাদেশী খাবারের হোটেল রয়েছে মালেতে। এই সব হোটেলে মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ, গোস্ত দিয়ে খাবার তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশীরাই দেন এই তথ্য।

মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোগান্তি
মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশে টাকা পাঠাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকায়। বাংলাদেশী কোনো ব্যাংকও নেই। ন্যাশনাল ব্যাংক অব বাংলাদেশের যে অফিস আছে মালেতে তা মূলত ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফারের মতোই কাজ করে। এতে মালদ্বীপের রুপিয়া ডলারে পরিবর্তন করে পাঠাতে গিয়ে লোকসানে পড়তে হয় বাংলাদেশীদের। দেড় লাখের বেশী বাংলাদশী মালদ্বীপে। এরপরও বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক নেই। অথচ সামান্য কিছু পাকিস্তানি কাজ করে এই দেশে। তাদের সুবিধার্থে পাকিস্তানের হাবিব ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে মালেতে। রয়েছে ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও শ্রীলঙ্কার সিলন ব্যাংকও।

ন্যাশনাল ব্যাংক অব বাংলাদেশের মানিট্রান্সফার (মালদ্বীপ) প্রাইভেট লিমিটেডের সিইও মাসুদুর রহমান জানান, ‘ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখা মালতে খোলা যায় কি না এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালদ্বীপ আসার কথা ছিল। কিন্তু মাঝে বাংলাদেশে করোনা বেড়ে যাওয়ায় উনার আসা হয়নি।’

যা বলছেন হাইকমিশনার
মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের মতে, ‘২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আগে মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশী অনিয়মিত (অবৈধ) শ্রমিকদের নিয়মিত করার উদ্যোগ নেয় মালদ্বীপ সরকার। এরপর করোনা শুরু হয়ে গেলে মালদ্বীপের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এ সময় কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রচুর বাংলাদেশী। তখন অনেক বাংলাদেশীকে টিকেট দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের ফিরে আসা আর হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, এখন ফের মালদ্বীপে সবপ্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। এই সবকাজে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা ও সুনাম রয়েছে। তারা অন্য দেশের শ্রমিকদের মতো নয়। মালিক যখনই তাদের কাজের জন্য বলে তারা কাজে সম্মতি দেয়। প্রচুর পরিশ্রমীও তারা। তাই মালদ্বীপে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও মনে করেন তিনি।

মালদ্বীপে বাংলদেশ হাইকমিশন আগে ছিল মালেতে। এখন তা ফেরিতে ১৫ মিনিটের দূরত্বের অবস্থান হুনহু মালেতে। আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে এই হুনহু মালে। একে বারেই খোলা মেলা। এই দ্বীপের পরিসর বর্ধিত করা হয়েছে সমুদ্র ভরাট করে। তৈরি করা হচ্ছে কূটনৈতিক জোন হিসেবে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানান, আসলে মালদ্বীপ সরকার এখন চাচ্ছে স্কিলড বা দক্ষ জনশক্তি আমদানি করতে। বাংলাদেশী শ্রমিকরা এই কাতারে পড়ে না। তাই তাদের আসা বন্ধ রয়েছে। দ্রুতিই এই সমস্যা কাটানো যাবে বলেও বিশ্বাস তার।



আরো সংবাদ


বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে যাবে না (১৭৫২৮)এরদোগানকে হত্যার চেষ্টা! (১৬৩৫৫)`আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’ - নির্বাচনে হেরে নৌকার প্রার্থী (৮৩১১)ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণ (৭৭৭৮)আইভী আবারো নৌকা পাওয়ার নেপথ্যে (৭৫৩৭)স্বামীর সাথে সম্পর্ক! গৃহকর্মীকে খুন করে লাশ ঝাউবনে ফেললেন গৃহকর্ত্রী (৬৭৩৮)নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ফরম কিনলেন বিএনপির ২ শীর্ষ নেতা (৬০১৬)ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ (৪৯০৯)আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি হেফাজতের (৪০১২)রুশ অস্ত্র কিনলে নিষেধাজ্ঞা, ভারতকে বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের (৩৭৬১)