০৩ আগস্ট ২০২১
`

বিদেশগামীদের যথাসময়ে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি ফোরাব’র

বিদেশগামীদের যথাসময়ে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি ফোরাব’র - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিদেশগামী কর্মীদের যথাসময়ে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিদেশে নারীকর্মী প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন ফোরাব (ফিমেল ওয়ার্কার রিক্রুটিং এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)। করোনা প্রতিরোধমূলক ফাইজার বা অন্যান্য কোম্পানির দুই ডোজ টিকা কিংবা বিদেশগামীদের জন্য নেদারল্যান্ডের জনসন এন্ড জনসনের কোভিড-১৯ প্রতিরোধে এক ডোজে কার্যকর টিকাটি আমদানি করার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফোরাব’র পক্ষ থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে ফোরাব’র মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ টিকার অপ্রাপ্যতা থাকার কারণে কেবল ৪০ বছর বয়সের উপরে ব্যক্তিদের টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখানে বিদেশগামী কর্মীদের বয়সসীমা সাধারণত ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেই হয়ে থাকে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্প্রতি সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিদেশগামীদের একদিকে উচ্চমূল্যে বিমান টিকেট ক্রয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যয়বহুল হোটেলে সাত দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে একজন বিদেশগামী কর্মীর লক্ষাধিক অর্থেও ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে। এই ব্যয়ে কেবল ক্ষদ্রাংশ অর্থাৎ মাত্র ২৫ হাজার টাকা একজন বিদেশগামী সরকার কর্তৃক ভর্তুকি পাচ্ছেন। উচ্চমূল্যে বিমান টিকেট ক্রয় ও ব্যয়বহুল হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকার এই বিশাল ব্যয়ভার বহন করে কর্মীদের বিদেশে কর্মস্থলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে জনশক্তি রফতানি খাতটি ক্রমন্বয়ে বিপর্যয়ের দিকে ধাবমান হচ্ছে। নানা নিয়ম-অনিয়মের বেড়াজালে বিদেশগামীদের অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

তিনি বলেন, করোনার প্রথম ধাক্কার পর বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে এখনো কর্মী প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে। অতএব, অভিবাসন প্রত্যাশি কর্মীদের টিকা প্রদানের বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নিয়োগকারী দেশসমূহ বাংলাদেশ হতে কর্মী গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অনিহা প্রকাশ করবে না বলেই আমরা আশাবাদী। এছাড়াও দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের হতদরিদ্র নারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তারা হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যয়ভার বহন করতেও অপারগতা প্রকাশ করছেন।

ফোরাব মহাসচিব বলেন, আমাদের দেশে কোডিভ-১৯ টিকার প্রথম ডোজ হতে দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে এক মাস সময় লাগে, যা একজন অভিবাসী কর্মীর জন্য সময় সাপেক্ষ ও বিড়ম্বনামূলক। এক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডের ওষুধ কোম্পানি জনসন এন্ড জনসন-এর টিকাটি কেবলমাত্র একটি ডোজ গ্রহণই যথেষ্ট। তাই এই টিকাটি অবিলম্বে আমদানির পরামর্শ তার। এরপর অভিবাসী কর্মীদের পাসপোর্ট নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি নিবন্ধিত করে প্রতি জেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহায়তা/অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরাব জানায়, সৌদি আরবে সাত দিনের হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে বিদেশগামীদের ডলারের মাধ্যমে অর্থ পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যার ফলে বাংলাদেশ হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে। চলমান সঙ্কটের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এই দুর্যোগের সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উপরই জাতীয় অর্থনীতি অনেকাংশ নির্ভরশীল। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বেকারত্বের হার হ্রাসকরণ এবং ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্সের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য অভিবাসন প্রত্যাশি কর্মীদের টিকা প্রদানের বিকল্প নেই।

ফোরাবের সভাপতি আব্দুল আলিম ফাইজার বা আমাদানি করা অন্যান্য কোম্পানির টিকা বিদেশগামীদের জন্য অন্তত ৫০ হাজার ডোজ বরাদ্দের দাবি জানান। তিনি বলেন, হয় বিদেশগামীদের চলমান টিকা থেকে দুই ডোজ টিকা নিশিচত করুন, নইলে নেদারল্যান্ডের কোম্পানি জনসন এন্ড জনসনের কোভিড-১৯ টিকা, যেটা এক ডোজ দিলেই কার্যকর হয় ওটা আমদানি করুন।

আলিম আরো বলেন, সৌদি আরবে হোটেল কোয়ারেন্টিনের জন্য বিদেশগমীদের ৫০০ ডলার করে দিতে হচ্ছে। টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করলে এই বিপুল পরিমাণ টাকা নষ্ট হবে না। এছাড়া এই টাকা তো আমাদের দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। এছাড়া সামনে এমন হবে যে, টিকাগ্রহণ ছাড়া শ্রমিক গ্রহণকারী দেশগুলো বিদেশগামীদের ঢুকতে দেবে না। তাই আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ আবুল বাশার ও অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন, সাবেক অর্থসচিব নুরুল আমিন ও নাসির উদ্দন সিরাজ ফোরাবের সিনিয়র সহসভাপতি কে এম মোবরক উল্লাহ শিমুলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



আরো সংবাদ