০৯ মে ২০২১
`

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আজ আসছেন

নরেন্দ্র মোদি - ছবি : সংগৃহীত

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের সফরে আজ ঢাকা আসছেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নরেন্দ্র মোদি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন। আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের প্রতি শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নিয়ে আসছেন সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার ১২ লাখ ডোজ করোনা টিকা এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামসমৃদ্ধ শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স।

কর্মসূচি অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। ১৯ গান স্যালুট ও গার্ড অব অনার দিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হবে। নরেন্দ্র মোদি এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখান থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে মধ্যাহ্নভোজের পর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তিনি যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু-বাপু জাদুঘর উদ্বোধন করবেন।

নরেন্দ্র মোদি কাল শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যশোরেশ্বরী দেবী মন্দির পরিদর্শন করে পূজা দেবেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সেখানে অভ্যর্থনা জানাবেন। বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মোদি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার ওরাকান্দি মন্দির পরিদর্শন করবেন। সেখানে মাতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের সাথে তিনি মতবিনিময় করবেন।

এই সম্প্রদায়কে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরে বেলা সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে প্রথমে একান্ত এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই এবং প্রকল্প উদ্বোধন হবে। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। রাত সাড়ে ৮টায় দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন তিনি। মোদির সফরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান ও ভারতীয় সৈন্যদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে আশুগঞ্জে সমাধিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর (বৈদ্যনাথতলা) থেকে নদীয়া হয়ে কলকাতা পর্যন্ত চলে যাওয়া ‘স্বাধীনতা সড়ক’ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা-জলপাইগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যৌথ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হবে, উন্মোচন করা হবে স্মারক ডাক টিকিট। এসব আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের এই সফরে দুই দেশের অগ্রাধিকারে থাকা ইস্যুগুলোর অগ্রগতির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিস্তা নিয়ে ভারতকে চাপে রেখেছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, আমরা ছয়টি বড় বড় অভিন্ন নদী নিয়ে আলোচনা করছি। এ ব্যাপারে দুই দেশের পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। এ সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে এখনো কাজ চলছে। তিনি বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তবে চুক্তিটি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে জটিলতা চলছে। তিস্তা চুক্তি সইয়ের জন্য আমরা ভারতকে চাপে রেখেছি।

মোদির সফরের বিরোধিতা করে ঢাকায় আহ্বান করা কর্মসূচিগুলো কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে মন্তব্য করে ড. মোমেন বলেন, আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক। এখানে সব মতের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। কেউ কেউ হয়তো মোদির সফরের বিরোধিতা করছেন। তবে দুই দেশের বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ এই সফরে খুশি। রাষ্ট্রীয় অতিথি যারা ঢাকা সফর করছেন বা করবেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে উপলক্ষ করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করছেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের সফরে কিছু চুক্তি সইয়ের বিষয় থাকে। এবারো হবে। পাঁচটির বেশি এমওইউ সই হতে পারে। তবে এগুলো নিয়ে এখনো কাজ চলছে।

করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় সামাজিক দূরত্ব এবং অন্যান্য সতর্কতা মেনেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান ড. মোমেন।

সর্বাত্মক সহযোগিতার মাইলফলক হবে : ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে। এই সফর হবে সর্বাত্মক সহযোগিতার এক মাইলফলক, যা অন্য সব দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য।

মোদির বাংলাদেশ সফরের ওপর গত বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রিংলা এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতার একাধিক চুক্তি সই হবে। বাণিজ্য, দুর্যোগ মোকাবেলা, সমুদ্রবিদ্যাসহ কিছু বিষয়ে চুক্তি হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, রেলওয়ে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কতগুলো ক্ষেত্রে এবং কী কী চুক্তি বা বোঝাপড়া হতে যাচ্ছে- প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সংখ্যাটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো চুক্তি ও বোঝাপড়ার গুণগত মান। সহযোগিতার এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যা দুই দেশের বোঝাপড়ার মধ্যে আসছে না।

সুবর্ণজয়ন্তীর উপহার : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১২ লাখ ডোজ করোনা টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিচ্ছে ভারত। নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসার দিনই টিকা বহনকারী ভারতের কার্গোবিমান ঢাকা এসে পৌঁছাবে। এর আগে ভারত ২০ লাখ ডোজ করোনা টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিল। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ভারতের দেয়া ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্সের প্রথম চালান গতকাল বৃহস্পতিবার বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

প্রসঙ্গত, সেরাম ইনস্টিটিউট বেক্সিমকোর মাধ্যমে কেনা ফেব্রুয়ারি মাসের ৩০ লাখ ডোজ এবং চলতি মাসের ৫০ লাখ ডোজ টিকা এখনো বাংলাদেশে সরবরাহ করতে পারেনি। ভারত ইতোমধ্যে ছয় কোটি ডোজ টিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে হয় বিক্রি করেছে অথবা উপহার হিসেবে দিয়েছে। আর নিজ দেশে সরবরাহ করেছে চার কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা। এ কারণে ভারতের অভ্যন্তরে টিকা কূটনীতি বা সরবরাহ নীতির সমালোচনা হচ্ছে।



আরো সংবাদ