২৭ নভেম্বর ২০২০

আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে যা ভাবছে দেশের প্রধান দলগুলো


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধীদল বিএনপি-প্রধান দুই দল যেমন এই নির্বাচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, একইসাথে ইসলামপন্থী ও বামপন্থী দলগুলোরও আগ্রহের কমতি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে দেশের মধ্যপন্থী, ডান এবং বামপন্থী-সব ধারার দলেই অতিরিক্ত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এমনকি দলগুলো অনেক প্রত্যাশার কথাও বলছে।

ট্রাম্প অথবা বাইডেন - যিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না কেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব একটা হেরফের হবে না। এটা বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতারা।

সবার দৃষ্টি ভূ-রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের দিকে
তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলের একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে এগুচ্ছে এবং সেখানে বাংলাদেশকে সাথে চাইছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

"আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের যে অবস্থান বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কিছুদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছিলেন। তখন তিনি ইন্দো-প্যাসেফিক অ্যাগ্রিমেন্ট বা অ্যালায়েন্সের ব্যাপারে বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং চেয়েছেন যে বাংলাদেশ তাতে শরিক হোক।"

"এই জিনিসগুলো গুরুত্ব বহন করে। আমরা সেদিক থেকে মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এবং আমাদের এখানে যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।"

যদিও ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু সেই উদ্যোগের ব্যাপারে তিনি তাদের দল বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বাংলাদেশকে সাথে রাখার চেষ্টা নিয়ে উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও দলটির অভিযোগ রয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পর্দার আড়ালে থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাকগলায় এবং ভূ-রাজনীতিতেও তাদের কৌশলের শরিক করার চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন।

"বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ দেখা যায়। পেছনের দরজা দিয়ে বা নেপথ্যে থেকে পর্দার আড়ালে সবসময়ই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কলকাঠি নাড়াবার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল।"

ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার আরো বলেছেন, "একদিকে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল - এই দুই টানাটানিতে বাংলাদেশ চরম সংকটে পড়েছে। আমেরিকার উপসহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীতো নানা প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। এদের প্রস্তাবগুলোতো আমাদের উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে যে আমরা কোনদিকে যাব।"

তিনি বলেছেন, "সেকারণে আমরা মনে করি, আমাদের দেশকে স্বাধীন থাকতে দেয়া এবং আমরা যেন কোন আধিপত্যবাদের করালগ্রাসে পড়ে না যাই, ১৮ কোটি মানুষের জীবনমান যেন সংরক্ষিত হয়, আমরা সে ব্যাপারে খুব উৎকন্ঠার মধ্যে আছি। এই সব তৎপরতাকে আমরা শুভ মনে করি না।"

জামায়াতে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলের কৌশল বা উদ্যোগকে বাংলাদেশের জন্য 'বড় ইস্যু' হিসাবে দেখছে।

বিএনপিও বিষয়টাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলের জন্য যে কৌশল নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চেয়েছে।

সেজন্য কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জোট গঠন এবং তাতে বাংলাদেশকে শরিক করার বিষয় অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর হয়েছে।

বামপন্থী দলগুলোর নেতারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে এবং সেজন্য তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক বলে মনে হয়েছে।

দলটির নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে সবার দৃষ্টি রয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্বটা সবাই চায়। এটাই আমি মনে করি। এর বাইরে কেউ কিছু চায় বলে আমি মনে করি না।"

তবে ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে কোন কোন দলের উৎকন্ঠা বা উদ্বেগ থাকলেও সব দলই তাকিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন এবং তার ফলাফলের দিকে।

ভূ-রাজনীতির ইস্যুতে সর্তক আওয়ামী লীগ, বিএনপি
বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির বড় এই দুই দল প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হলেও তারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে নানা প্রত্যাশার কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগ নেত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কে কোন ঘাটতি হবে না বলে তারা মনে করেন।

মতিয়া চৌধুরী আরো বলেছেন, "আমেরিকা শক্তিধর দেশ, তাতে কোন সন্দেহ নাই। তার নির্বাচন নিয়ে পত্রিকা, মিডিয়া সবাই আগ্রহের সাথে সবকিছু অবলোকন করছে। সেখানে আমাদের মনে হয় যে, যেই আসুক, তাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। এটাই আওয়ামী লীগের নীতি।"

বিএনপি গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর প্রত্যাশার কথা বলছে।

দলটির নেতাদের অনেকে বলেছেন, কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেয়নি বলে তাদের মনে হয়েছে।

সেখানে তারা চাইছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনের পর বিশ্বে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রশ্নে দেশটির ভূমিকা যেন বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে বিশ্ব এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আশা করে বলে তারা মনে করেন।

"আমাদের মতো দেশগুলো যারা অত্যন্ত শক্তিশালী নই। এবং আমাদের এখনও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা নিতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নের অংশীদারিত্বও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেছেন, "আরেকটি বিষয় যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সবাই আশা করে যে তারা তাতে নেতৃত্ব দেবে।"

"সেদিক থেকেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা-এগুলোর জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোটা বিশ্বের কাছে। বাংলাদেশে বর্তমান যে প্রেক্ষিত, তাতে নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আমাদের দেশে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।"

মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলো
ইসলামপন্থী এবং কওমী মাদরাসাভিত্তিক দলগুলোও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অবস্থান তৈরি করেছে। এই দলগুলো আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির জোট গঠনের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্ব পায়।

এসব ইসলামপন্থী দলের চিন্তা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামের দলের আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং মুসলিম বিশ্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হতে পারে-সেই প্রশ্ন থেকে দেশটির এবারের নির্বাচনের দিকে তারা নজর রাখছেন।

"ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বাইডেন। এখানে কারো পক্ষেই বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে আমরা যোগ দেবো না। আর আমাদের এটা আশাও না। তবে আমাদের আশা হলো, আমেরিকার জনগণ যাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তাদের সাথেই আমরা সম্পর্ক গড়বো।"

ইসলামী আন্দোলনের নেতা রেজাউল করিম বলেছেন, "যিনি নির্বাচিত হবেন, তার সরকার যেন তামাম বিশ্বে যুদ্ধ বা অশান্তি সৃষ্টি না করে এবং তারা যেনো শান্তির পথ বেছে নেয়- সেটা আমরা আশা করবো। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ইসরাইল যে আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে, সেক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তারা কাজ করবে। এটাও আমরা আশা করি।"

আমেরিকার প্রতি জামায়াত ও বামদলগুলোর অভিযোগ
অন্য দলগুলো যেমন সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্যে আসছে বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা।

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় দল জামায়াতে ইসলামী গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

দলটির সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ তারা দেখতে চান না।

"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে এমন একটা পরাশক্তি, যাদের সারাবিশ্বে সাধারণ মানুষের প্রতি বা মানবতার প্রতি তাদের যে অত্যাচার যে জুলুম যে নির্যাতন, এবং আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী যে চরিত্র, এছাড়া সেখানে নেতৃত্বের বদলে যে ইতিহাস-এগুলো বিশ্বকে স্বস্তি দেয়নি। ফলে আগামী নির্বাচনের ঘিরে আমরা চাই যে তারা সারাবিশ্বের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা হস্তক্ষেপ না করুক।"

"এই তৃতীয় বিশ্বের গণতন্ত্রে চর্চা, মানবাধিকার এবং বাক স্বাধীনতাসহ আমাদের ইস্যুগুলোতে আমরা যেন সমাধান করতে পারি। আমরা যেন কারোর করদ রাজ্যে পরিণত না হই।"

বামপন্থী দলগুলোও বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

এই দলগুলোর নেতাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশ্বে দেশটির ভূমিকার কোন পার্থক্য হবে না। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী রাজনীতি স্থায়ী হলে গোটা বিশ্বেই তার প্রভাব বাড়বে বলে তারা মনে করেন। আর সেজন্যই দেশটির এবারের নির্বাচনকে তারা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

"সারাবিশ্বের রাজনীতির জন্যই আমেরিকার নির্বাচন এবং তার ফলাফল একটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশ্ব বাস্তবতায় বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজমান, তাতে আমেরিকা প্রধান সুপারপাওয়ার, যেটাকে তারা এককেন্দ্রিক বিশ্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তারপরও বলা যায়, দুনিয়াজুড়ে তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাব এবং হস্তক্ষেপ ইত্যাদির ভেতর দিয়ে তারা পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রধান পাহারাদার হযেছে। সেজন্য তাদের নির্বাচন নিয়ে সবার আগ্রহ দেখা যায়।"

কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সেলিম আরো বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রে যদি ফ্যাসিবাদ বা বর্ণবাদের দিকে ধাবিত হয়, এবং উগ্র ডানপন্থীর দিকে বা হোয়াইট সুপ্রিম্যাসির দিকে ধাবিত হয়, তাহলে সেটা গোটা বিশ্বের জন্যই বিপদজনক অবস্থা সৃষ্টি করবে।"

দলগুলোর নেতাদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, চীনকে ঠেকানোর লক্ষ্যে ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন যে কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে - সে ব্যাপারে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি সরকার বা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ প্রভাবশালী সব দলই শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের জন্য আরও ভাল সম্পর্কের প্রত্যাশা করছে।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ