২৬ নভেম্বর ২০২০

প্রবাসী শ্রমিক : ভিসার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত রোববার

সৌদি এয়ারলাইন্সের সামনে সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ - ছবি : বিবিসি

সৌদি আরব থেকে ছুটি কাটাতে আসা বাংলাদেশীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্নে সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ আজ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর জন্য সৌদি আরব সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবে সরকারি ছুটি থাকায় সিদ্ধান্তের জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দু'দিন ধরে প্রবাসীদের অনেকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ করেন।

সেই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্র সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর একটি বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই বৈঠকের পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এ ধরণের বিক্ষোভ বা আন্দোলন করলে সৌদি আরবের কাছে ভুল বার্তা যাবে।

সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসে যারা আটকা পড়েছেন, তাদের অনেকে আজ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাছে ও কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন।

বিক্ষোভকারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজে ফেরত যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট না পাওয়া এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, সৌদি আরবের সব ধরণের বিমান যেনো ঢাকায় আসে এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের যাওয়ার সুযোগ দেয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে সৌদি আরবকে।

দু'জন মন্ত্রীই আটকে পড়া প্রবাসীদের দু'দিন ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর যে বিষয় এসেছে, তা নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, ৮০ সালে সৌদি আরব ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অনেকের সেখানেই জন্ম এবং তারা আরবিতে কথা বলে।

মন্ত্রী মোমেন বলেছেন, "সৌদি সরকার এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায়। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করতে বলেছে। আমরা বলেছি, তাদের কাছে যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট বা কোনো কিছু থাকে, তাহলে আমরা ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেব। কিন্তু অন্য জায়গা থেকে গেলে আমরা দায়িত্ব নেব না। সেটা তাদের জানিয়েছি।"

তিনি আরো জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে এ বিষয়ে সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

 


আরো সংবাদ