০৯ আগস্ট ২০২০

মহামারীর কারণে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ হতে পারে : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শঙ্কা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশের জন্য জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি জাতিসঙ্ঘের সাথে অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সিপ্পোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাত- তৈরি পোশাক শিল্প ও প্রবাসী আয়ের ওপর মহামারির নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশ থেকে ফিরে আসা কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সমাজের সাথে পুন:একত্রিকরণের জন্য তিনি জাতিসঙ্ঘের সহায়তা চান। জনসংখ্যা বিবেচনায় জাতিসঙ্ঘের তহবিল থেকে বাংলাদেশ বড় অঙ্কের বরাদ্দ পাবে বলে ড. মোমেন আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর দায়ভার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরামের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসাবে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কাজ করবে। তিনি দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বাড়াতে গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন সেন্টার এবং উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘ সংস্থাগুলোর সমর্থন চান।

বৈঠকে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান সঙ্ঘাত ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণে মিয়ানমারের নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে স্থল ও সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে পালাচ্ছে। এটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরো জটিল করে তুলছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রত্যাবাসনের জন্য সই হওয়া ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় মিয়ানমারের সাথে আরো গঠনমূলকভাবে কাজ করতে জাতিসঙ্ঘের প্রতি অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধারে জাতিসঙ্ঘের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান মিয়া সিপ্পো। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সাথে জাতিসঙ্ঘ গঠনমূলকভাবে জড়িত থাকবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান মিয়া সিপ্পো।


আরো সংবাদ