১৩ জুলাই ২০২০
মোমেন-পম্পেও ফোনালাপ

মোমেন-পম্পেও ফোনালাপ : অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ

-

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছতা ও তথ্য পাওয়ার অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সোমবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সাথে টেলিফোনে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। ড. মোমেন চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রফতানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দুই বছরের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা চান। তবে পম্পেও এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না দিয়ে করোনা মহামারী মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক বাজারে জরুরি চিকিৎসা ও সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহে বাংলাদেশের ভূমিকা জোরালো করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাপ করেন। এ সময় তারা কোভিড-১৯ মহামারীর মোকাবেলায় দুই দেশের অব্যাহত সহযোগিতার নিয়ে আলোচনা করেন। ড. মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের চার কোটি ৩০ লাখ ডলারের সহযোগিতা নিয়ে পর্যালোচনা করেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে পম্পেও। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটে মানবিক সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮২ কোটি ডলার দিয়েছে। এই অর্থের আওতায় অধিকাংশ কর্মসূচিই বাংলাদেশকে ঘিরে নেয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো দৃঢ় ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমার সময়ক্ষেপণ করছে। সম্প্রতি রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বসাম্প্রতিক মানবপাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতির প্রশংসা করেন পম্পেও। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পম্পেওকে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 


আরো সংবাদ