৩০ মার্চ ২০২০

রোহিঙ্গা স্থানান্তরের প্রস্তুতি দেখতে ভাসানচর যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা স্থানান্তরের প্রস্তুতি দেখতে ভাসানচর যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ছবি : নয়া দিগন্ত

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি দেখতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন শুক্রবার ভাসানচর যাচ্ছেন। সাথে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকতারা থাকবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর স্থানান্তর করা হবে।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ-পোল্যান্ড পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের (এফওসি) পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মাসুদ বিন মোমেন এ কথা জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখতে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ভাষানচর যাব। আমরা মনে করি, ভাসানচরে রোহিঙ্গারা ভালো থাকবে। এতে মানবপাচারসহ রোহিঙ্গাদের নিয়ে অন্যান্য ঝুঁকিও মোকাবেলা করা যাবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গারা যে পাচারের শিকার হচ্ছে বা হবে- এই ঝুঁকিটা সব সময়ই ছিল। প্রত্যাবাসন যত বেশি দীর্ঘায়িত হবে, ঝুঁকিগুলো বাড়তে থাকবে। আমরা প্রথম থেকেই বলেছি, রোহিঙ্গাদের হাতে যেন বাড়তি কোনো অর্থ না থাকে। সেটা এখন আমরা নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবছি। কেননা রোহিঙ্গাদের হাতে যখন বাড়তি অর্থ থাকবে, তখনই তারা পাচারকারীদের শিকার হবে। অতীতে আমরা দেখেছি, শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়, রোহিঙ্গারা রাখাইন থেকেও পাচারের শিকার হয়েছে।

মানবপাচারের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন বলে উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহাঙ্গাদের মধ্যেই পাচারকারী রয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে আরো তৎপর হবে। পাচারের সাথে মাদকেরও একটা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গা তরুণ ও নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে মানব ও মাদকপাচারসহ সবগুলো ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই বেড়া রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের নিরাপত্তার জন্যই নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা যেন গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেটাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে জঙ্গি গ্রুপের তৎপরতা সম্পর্কে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, টিআইবি কীসের ভিত্তিতে এ তথ্য দিয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমি বলবো, সেখানে কোনো জঙ্গিগ্রুপ নেই। থাকার কথাও না।

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরকে বসবাস উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। দুই হাজার ৩১২ কোটি ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে সরকারের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এ পরিকল্পনার বিরোধীতা করছে।

ঢাকায় দূতাবাস খুলবে পোল্যান্ড : এর আগে অনুষ্ঠিত এফওসিতে বাংলাদেশে দূতাবাস খোলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে পোল্যান্ড।

বৈঠক শেষে পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসিন প্রেডেক্স সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বাংলাদেশে নতুন করে মিশন খুলতে চায়। তবে কবে নাগাদ এটা হবে, তা বলতে পারছি না। আমরা দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে চাই। এ জন্য নিয়মিত আলোচনার লক্ষ্যে এফওসির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন জানান, এফওসি সই হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়বে। আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে পোল্যান্ডের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি।

বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে এফওসি সই হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, ভিসা সহজীকরণ, যোগাযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে বলে বৈঠকে দুই দেশ আশা প্রকাশ করে।


আরো সংবাদ