৩০ মার্চ ২০২০

চীনে আটকা পড়াদের নিজ খরচে দেশে ফিরতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীনে আটকা পড়াদের নিজ খরচে দেশে ফিরতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনে আটকা পড়া বাংলাদেশীদের নিজ খরচে দেশে ফিরতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, প্রথম দফায় তিন শতাধিক বাংলাদেশীকে আনতে তিন কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমাদের ফান্ডে টাকা নেই। ব্যক্তিগত খরচে কেউ ফিরলে পরবর্তী ব্যবস্থা সরকার নেবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরে ওয়ার্ল্ড ইউনিভারসিটির পদক বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, আমরা খুব সংবেদনশীল। অভিভাবকদের অনেকেই অনুরোধ করেছেন তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। আমরা তাদেরকে বলেছি, আপনারা যদি নিয়ে আসেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। তারা আসলে চাইলে আসতে পারে। বিশেষ করে কুনিমং ও গুয়াংজু থেকে চায়নিজ ফ্লাইট আসছে। তবে এই মুহূর্তে কোনো বাংলাদেশীকে সরকারিভাবে চীন থেকে দেশে ফেরানো হচ্ছে না।
করোনাভাইরাস সংক্রামনের উৎপত্তিস্থল হিসাবে বিবেচিত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩১২ বাংলাদেশীকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিমানে দেশে ফিরিয়ে এনে আসকোনা হজ্জক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। কিন্তু এসব বাংলাদেশীদের বহনকারী বিমানের পাইলট ও ক্রুদের এখন অন্য কোনো দেশে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে অন্য কোনো পাইলটকে আর চীনে পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না সরকার। চীনা কোনো বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ ভাড়া করে উহানে আটকে থাকা আরো ১৭১ বাংলাদেশীকে আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হলেও চীনা কর্তৃপক্ষের সাড়া দেয়নি বলে জানানো হয়েছে।

চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফেরানোর ক্ষেত্রে টাকাই একমাত্র বাধা কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টা তা নয়। চীন থেকে আগে আসা বাংলাদেশীরা হজ্জক্যাম্প থেকে ছাড়ার আগে অন্যদের রাখার জায়গা কোথায়? তিনি বলেন, নতুন করে কেউ উহান থেকে এলে আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে কোয়ারেন্টিনে পৌঁছে দেব।

ড. মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, সিঙ্গাপুর- এরকম কয়েকটি দেশ চীন থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছে। বাকি অনেক দেশের লোকেরা ওখানে আছে। চীন সরকার তাদের দেখভাল করছে।

সৌদি থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর তথ্য নেই : সৌদি আরব ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় বলে সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি সরকার এ ধরনের কথা আমাদের কখনো বলেনি। বলার কারণও নেই। রোহিঙ্গা হলে তাদেরকে মিয়ানমারে পাঠানো উচিত। আমাদের এখানে কেন?

মালয়েশিয়ায় যাওয়া পথে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে রোহিঙ্গাদের হতাহতের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে জানান ড. মেমেন।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রামনের কারণে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে শোক প্রকাশ করেছেন ড. মোমেন। চীন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে বলে তিনি প্রকাশ করেন।


আরো সংবাদ