০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ১০ রজব ১৪৪৪
ads
`

বিষণ্ন সময়

-

বুড়িটার বয়স কত হবে? শয়ের অন্তিম রেখা কি পার করেছে! নাকি বর্ণহীন জীবনে না খেয়ে আধপেটে ঘুণে পোকা শরীরের বহ্নিক পক্বতা। কপালে বলিরেখাগুলো পরপর জেগে গেছে। কুঁচকানো গাল নেমে গেছে থুতনি পেরিয়ে। দন্তহীন মুখাবয়ব চেপে গেছে ভেতরে। মাথায় বিঘত চুল কারেন্টের পরিত্যক্ত জালের মতো কিলবিলে।
কমলাপুর ফুটওভারব্রিজের রেলিংয়ের পাশে নিত্যদিন নিজেকে গুঁজে রাখে। মেরুদণ্ড অর্ধবৃত্তের আকার নিয়েছে। মাথাটা দু’হাঁটুর ভাঁজে ছুই ছুই। দু’পায়ের মাঝখানে মেলামাইনের নকশি করা একটি বাটি। একটু পরপর হাতড়ে দেখে পথচারীদের কেউ কিছু ফেলল কি না!
ওভারব্রিজের এপারে বৌদ্ধমন্দির হয়ে দক্ষিণে যাত্রাবাড়ীর রাস্তা। ওপারে কমলাপুর রেলস্টেশন। প্রতিদিন সকাল থেকে হাজার মানুষের যাতায়াতের সংক্ষিপ্ত পদযাত্রা। বলা যায়, পায়দলে আকাশ ফেরি পারাপার। নিত্যদিনের পথটা আমারও। এ পদচলা বেশ উপভোগ করি। বিশেষত উত্তর দক্ষিণে অনেকটা ফাঁকা। প্রথম বাঁকে দু’পাশে আম, নারকেল, মেহগনি গাছের সজিব উদ্যান। দক্ষিণের বাতাস বাধাহীনভাবে উত্তরে বয়।
বামপাশে চারটি আমগাছ। উচ্চতায় ওভারব্রিজের পাটাতন ছুই ছুই। দু’টিতে বেশ আম ধরেছে। মসজিদসংলগ্ন আমগাছ। মাঝ বয়সী আমগুলো মধ্য বৈশাখেও আনমনে দোল খাচ্ছে। মনে হচ্ছে মসজিদের পবিত্রতার পরশে ওগুলো সংরক্ষিত। কারো না কারো বদান্যতায় সরকারি জমিতে গাছগুলো নিজস্বতায় বেড়ে উঠছে। ঢাকা মহানগরী তো আর গাছ চাষের জায়গা নয়। সবুজ পাতার থির থির কম্পন সে তো কল্পনার সাজে উড্ডীন। এখানে প্রাণ বলতে মনুষ্যনামক প্রাণী। দালান জট পেরিয়ে যানজট, মনুষ্যজট তো সর্বত্র।
রোদমুখী বুড়িটাকে নিত্যদিন চোখে পড়ে। একটু পরপর তার হাড্ডিসার ডান হাতের বাটিতে সঞ্চালন দেখে মনে হলো অন্ধ। চলার পথে কেউ দু-এক টাকা ফেললে ডান হাতে কুড়িয়ে বাম মুষ্টিবদ্ধ করে।

কতক্ষণ এভাবে হাঁটুর ভাঁজে গুঁজে থাকে জানি না। বিকেলে অন্য পথে বাসায় ফিরি কাজেই শেষটা জানা হয় না। সকালে নিশ্চয় কেউ এসে বুড়িকে রেখে যায় আবার কোনো এক সময় নিয়ে যায়। কেউ না কেউ তাকে দিয়ে খয়রাতি ব্যবসায় চালায়। এ ভাবনাটা আমাকে বাতিকগ্রস্ত করে তুলেছে। বিবেচনায় বুড়ির বাটিতে আমার হাত দিয়ে কোনো দিন এক টাকাও জমা পড়েনি।
নিত্যদিনের বুড়ির স্থিতাবস্থা, রোবটের মতো বাটির ওপর হাত সঞ্চালন, চোখে পড়ে, দেখে যাই। সেদিন মাঝ বৈশাখের তির্যক সূর্যালোক বুড়িকে টলিয়ে দেয়। ঘাড় নেড়ে মাথা উঁচু করে বোধ হয় সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করছে। বুড়ির মুখাবয়ব দেখে আমার হৃৎপিণ্ড একটা শক্ খেলো। বুড়ির চিকন থুতনি, কানের লতির অলঙ্কারহীন বড় বড় ফুটো, উন্নত অথচ বেঁকে যাওয়া নাক, চোখের পরিধি সব মিলিয়ে মনে হলো ২০ বছর আগে আমার প্রয়াত দাদীর সম্পূর্ণ আদল।
বুড়ির সামনে দু-মিনিট জমে থাকি। অবিকল দাদীর লম্বা লম্বা আঙুল, পায়ের বুড়ো আঙুলের চেয়ে মধ্যমা লম্বাটে, আঙুলের বিন্যাস, এমনকি দাদীর নীল পাড়ের সাদা শাড়িও বুড়ির পরনে। আজকের এ আবিষ্কার আমাকে স্মৃতিকাতর করে তোলে।
আমার দাদী অন্ধ ছিলেন না। নব্বই পেরিয়েও সুস্থ ছিলেন বলা যায়। কোমরে কিছুটা বাঁক ধরেছিল। শেষ পাঁচ বছর লাঠি ভর করে চলতেন। দাদীর মৃত্যুর পর লাঠিটি বাবার ঘরে সম্ভবত এখনো রয়েছে। দাদীর ছোট পুত্র আমার বাবাও গত হয়েছেন বছর আগে। হঠাৎ একটি মায়াময় আবেশ আমাকে আগ্রহী করে তোলে। ইচ্ছে হলো রোদমুখী বুড়িকে উল্টো দিকে বসিয়ে দেই। আরো কাছে গেলাম, মনের ইচ্ছেটা দমিত হলো। পাছে কেউ কিছু ভাবে।
সামনে পা বাড়ালাম। মনটা পেছনে যেতে যেতে ২০ বছর আগের স্মৃতি টেনে নিয়ে এলো। অতীতের খেলাঘরে ফিরে গেলাম। শীতের রাতে দাদী দু-তিনটে কাঁথা গায়ে জড়িয়ে দিতেন। পাশে থাকত দাদীর কুঁড়া জ্বালানো হাঁড়ি। ওখান থেকে ওম ধার করে আমার ঠাণ্ডা গালে লেপে দিতেন দু’হাতে।
ভোরে ওঠে নামাজ পড়ে রিহালে কুরআন শরিফ মেলে হাতড়ে হাতড়ে গুনগুন করে পড়তেন। তখনো অন্ধকার। শীত সকালের জানালা বন্ধ। আসলে দাদী মুখস্ত সুরা পড়তেন ঢুলে ঢুলে। একটু পরপর আমার গায়ের কাঁথা ঠিক আছে কি না দেখে নিতেন।

প্রতিদিন সকালে একাধিকবার দাদী সূরা হাশর পড়তেন অল্প উচ্চারণে, বলতেন কুরআনের হরফের সাক্ষ্য নাজাতের বড় উপায়। ‘হুয়াল্লøা হুল্লøাজি লা ইলাহা ইল্লাহু’। আমার বর্ণ শিক্ষার আগেই সূরাটা মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। দাদী আমার কপালে চুমু খেয়ে বলতেন, দাদারে তুই সূরাটা সব সময় পড়িস, সওয়াব আমারও হবে। আল্লøাহর দরবারে রহমতের কমতি নেই।
সূরা হাশরের এমনই মর্তবা, সরাসরি আল্লাহর আরশমহল্লøায় এর রোশনি চলে যায়। আল্লøাহর কুরসি তখন কাঁপতে থাকে। আল্লøাহ তখন প্রশ্ন করেন, হে কুরসি তুমি কাঁপছ কেন? কুরসি তখন বলে- ইয়া আল্লøাহ, আপনার অমুক বান্দা মুহব্বতের সাথে সূরা হাশর পড়ে আপনাকে স্মরণ করেছে। ওই বান্দাকে যদি মার্জনা না করেন আমি যে থামতে পারছি না। আল্লøাহ তখন কুরসির আরজি মেনে নেন।
সূরাটি পড়তে পড়তে কমলাপুর স্টেশন পার হলাম। অন্য রকম একটি ভালো লাগার আবহ মনটাকে উন্মুক্ত করে দিলো।
অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে বুড়িকে নিয়ে ভাবলাম। নিজ দাদীর জন্য তো কিছুই করতে পারিনি। দাদীর মৃত্যুর সময় ছাত্রত্বকে বিদায় জানাতে পারিনি। বলা যায়, আর্থিক ভারটা তখনো বাবার ঘাড়েই ছিল।
দাদীর মমতা ভরা মুখটি ভাবনার আড়াল করতে দিনটি চলে গেল। মনে হলো এ বুড়িকে যদি একটু খুশি করতে পারি দাদীর আত্মার কল্যাণ হবে। পরদিন বের হতেই একটি ১০০ টাকার কড়কড়ে নোট প্যান্টের পকেট থেকে বের করে বুক পকেটে মহব্বতের সাথে রাখলাম।
নিজেকে সজাগ রাখলাম, নিয়তের টাকা হেরফের করা যাবে না। হাঁটতে হাঁটতে দাদীর মায়াভরা মুখ, সেই আদুরে ডাক মনে করতে থাকি।
‘কইরে দাদা কই গেলি। গুড় মুড়ি নারকেল কুরিয়ে মেখে রেখেছি। জলদি আয়। মচমচে ভাবটা চলে গেলে মজা পাবিনে। আমার তো দাঁত নেই, মচমচে মুড়িতেও আওয়াজ নেই। তোর মুখের মুড়মুড়ে আওয়াজ যে আমার হৃদয় ভরে দেয়।
গাছের পাকা পেয়ারাটা, আতা, গাব, ঢেউয়া এসব রেখে দিতেন পাটের ছিক্কায় ঝোলানো হাঁড়িতে। দাদীর ছোট ছেলের ঘরের ছোট নাতি আমি। বড়রা তো উড়ে গেছে আরো আগেই। আমার একাকি স্থান ছিল খুব নিবিড়।

হাঁটতে হাঁটতে চালে এলাম ওভারপাসের প্রথম ধাপে। আজ কেন জানি বুকটা ঢিব ঢিব করছে। বুড়িকে আজ বুড়ি ভাবতে পাপবোধের একটি সঙ্কুচিত ভাবনা মনে ফোড়ন কাটছে। সত্যিই কি আমার দাদীর আসন তাঁকে দিতে পারিনি! দূর থেকে লক্ষ করলাম, একই অবস্থানে দাদী। ভাবনায় কতক সঙ্কোচের আচ্ছাদন মনের উদ্দাম আবহ থামিয়ে দিলো।
নিজকে ঝাড়া দিয়ে মুক্ত ভাবনার বিকাশে পা বাড়ালাম। অগণিত মানুষের নীরব মিছিল। ১০০ টাকার নোটটার অস্তিত্ব জেনে নিলাম পকেট চেপে। ঝট করে বুড়ির মুঠিতে নোটটা ধরিয়ে বলব, ভালো-মন্দ কিছু কিনে খেতে। আবার ভাবলাম, বুড়ি তো চোখে দেখে না। নোটটা যে ১০০ টাকার, বলে দিতে হবে। তারপর বুড়িকে সরিয়ে রোদের উল্টোমুখী বসিয়ে দেবো। একটি পুণ্যময় ভাবনার বিকাশে ছেদ পড়ল মুহূর্তে। আমি পৌঁছার আগেই একজন মাঝ বয়সী সুঠাম দেহের খোঁচা দাড়িওয়ালা লোক বুড়ির সামনে বসে পড়ল। বুড়িকে কিছু একটা বলে বাম মুঠিতে জমানো টাকাগুলো নিয়ে সরে পড়ল।
জর্জরিত একটা অন্তর্ঘাতে পদযাত্রা ভারী হয়ে যায়। সুভাসিত মনের মায়াময় আবেগ মুহূর্তে ভাঙচুর হয়ে গেল। অফিসে কাজে মন বসল না। দু-তিন বার নোটটা বের করে আলাদা কাগজে মুড়িয়ে রাখি। আবার ভাবলাম যে নিয়তে নোটটা আলাদা করেছি, ব্যতিক্রম হলে সাওয়াব হাসিল হবে না।
কিন্তু লোকটা কে? ছেলে, নাতি না দালাল। অসহায় বুড়ো মানুষটাকে রোজগারের কুৎসিত বাহন বানিয়েছে।
পরের সকালে ঘর থেকে বের হতে হতে নতুন উপায় খুঁজছি। মনে হলো গত রাতে দাদীকে স্বপ্নে দেখেছি। দাদীর কুঞ্চিত মুখাবয়বের হাসিটি মস্তিষ্কে লেগে থাকল। দাদী কি কিছু বলেছিলেন, মনে করতে পারলাম না। বারবার মনে হচ্ছে আলি-আলি ইশারায় কিছু একটা নির্দেশ দিয়েছেন। অসহায় বুড়ির প্রতি মমত্ববোধ বেড়ে গেল।
পথের পাশে একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকলাম। ১০০ টাকার মিষ্টি! না দাদীর পক্ষে খাওয়া সম্ভব না। তার চেয়ে ২৫ টাকা করে চারদিন খাওয়াব, যাতে ওই তাগড়া জওয়ানটার উদরে না গড়ায়।
নিত্যদিনের সময়ের আগেই চলে এসেছি। তখনো লোক চলাচল তেমন বাড়েনি। প্যাকেটে বালুসাই চারটি। একটি একটি করে খাইয়ে তবে উঠব এই পণ নিয়ে বসলাম বুড়ির সামনে। আমার শরীরের ছায়া দাদীর অবয়বে।

‘নারে বাজান, অহনে কেউ কিছু দেয় নাই। আইজ এত আগে ক্যান? বাজান এতটুকু পরেই রইদের তেজ বাড়ব, আমারে একটু ফিরায়া দিবি?’
কথা তুললাম, আমারে চিনবেন না। রোজ আপনারে দেখি। আপনার জন্য মিষ্টি আনছি। এই নেন... মুদ্রিত চোখে বুড়ি আমাকে দেখার চেষ্টা করল। ততক্ষণে বুড়ির ডান হাতে প্রথম মিষ্টিটা ধরিয়ে দিয়েছি।
‘আপনে কে গো? এত আদর কইরা মিষ্টি খাওয়াইবেন?’ বললাম, এটা খান, আরো আছে। সব খাইবেন।
বুড়ি দু-হাতে আমার ডান হাত চেপে ধরল। বাজান, আপনে থুইয়া যান; আমি পরে খামুনে। বুড়ির এক ঝল্ক হাসি আমার প্রয়াত দাদীকে জীবন্ত হাজির করল।
আবার বললাম, আপনি খান। বুড়ি মিষ্টিটা একটু চেটে খেল। আল্লায় আপনের ভালা করুক। প্যাকেটটা থুইয়া যান পোলাগো লইয়া খামুনে...
আমি আবারো নিরূপায়। লোক চলাচল বেড়ে যাচ্ছে। সময়মতো অফিসের হাজিরাও জরুরি। প্যাকেটটা বুড়ির দু-পায়ের ভাঁজে রেখে ছুটলাম। ব্রিজের বাঁকে গিয়ে পেছনে তাকালাম। বুড়ির পাশে রেলিংয়ে ঠেস দিয়ে সে লোকটি প্যাকেট থেকে মিষ্টি তুলে গপাগপ খাচ্ছে মহানন্দে।
মনে হলো পেছনে তাকানোটা ভুল ছিল। মনের ভেতর লাল পিঁপড়ার দংশনের জ্বালাটা কুরে কুরে আমার তপ্ত মনকটাকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে।
পরদিন আরো সময় নিয়ে ব্রিজে উঠলাম। উদ্দেশ্য একই। না ব্রিজটায় সে বুড়ি নেই। তবে কি এখনো পৌঁছায়নি। দোটানায় পড়লাম। ছোট্ট মিষ্টির প্যাকেটটা হাত ব্যাগে ঢুকিয়ে ব্রিজ পার হলাম।

আমার ধারণা, নিয়তের বরকত কার্যকর হচ্ছে না। টাকার মধ্যে কোনো প্রকার গোলমেলে অনুপ্রবেশ ঘটেনি তো! আমার দাদীর পুণ্যময় আত্মায় কাছাকাছি এ দান কোনো না কোনোভাবে গৃহীত হচ্ছে না। নিজেকে বড় অপরাধী মনে হলো। মনটা দমিত হলো!
হঠাৎ দেখি মতিঝিল ঢোকার গলির পাশে বুড়ি শুয়ে আছেন। বাম হাতে বাটিটা হাতড়াচ্ছে। পাশে বসতেই গোঙ্গানির আওয়াজ পেলাম। মনে হলো বুড়ি অসুস্থ। বাম হাতে মিষ্টির প্যাকেটটা বের করে ডান হাত কপালে রাখলাম। বুড়ি আমার ডান বাহু ধরে ফেলল। বুড়ির কপালে প্রচণ্ড তাপ।
-আপনে কি কালকার বাজান?
-বললাম, আপনার জন্য মিষ্টি এনেছি। খাবেন?
-বাজান আমারে একটু উঠায়া দিবেন? শুইতে বড় কষ্ট।
বললাম, আপনার তো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে।
-আল্লøায় দিছে, ইচ্ছা করলে আল্লøায় নিবো। বুড়ির পিঠে হাত দিয়ে ওঠানোর চেষ্টা করছি। মিষ্টির প্যাকেটটা সামনে। আমার অফিসিয়াল ব্যাগ কাঁধের পেছনে ঝুলছে।
হঠাৎ পেছনে লক্ষ করলাম, আমার এক জুনিয়র কলিগ মোড়টা পেরিয়ে আসছে। আমার অযাচিত ক্রিয়াকাণ্ড আড়াল করার জন্য বুড়িকে দ্রুত শুইয়ে বাটিতে দু’-টাকা ফেলে পা বাড়লাম। একটু আড়ালে গিয়ে লক্ষ করলাম। একটি চেঙড়া ছেলে ছুটে এসে মিষ্টির প্যাকেটটা নিয়ে বিপরীতমুখী ছুটে গেল।
রাতে ভালো ঘুম হলো না। বারবার দাদীর ক্রিয়াকর্মগুলো আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অতীতে।
সেই হালুম দেশের রাজার কাহিনী। রাজার একমাত্র মেয়ে ফুলঝুরির জন্য রাজপুত্র খুঁজছেন। দাদী আমায় থুতনি টেনে গালে চুমু দিয়ে বলতেন রাজপুত্রটা ঠিক আমার নাতির মতো। দাদী কুটকুট হাসতেন।

শুক্রবার নামাজ শেষে দাদীর জন্য চোখের জল ফেলে দোয়া করলাম। আল্লাহ আমার দাদীকে বেহেশত নসিব করো।
রোববার সে পথে যাত্রা। এবার নতুন করে চেষ্টা। যেন দায় মুক্তির জন্য শেষ চেষ্টা। বুড়ির আঁচলে নতুন করে একটি ১০০ টাকার নোট বেঁধে আসব। ব্রিজ পার হলাম। মতিঝিল পাড়ার মোড়, রাস্তা, কোথাও বুড়ি নেই। পর দিনও নেই। পরদিনও তাই হলো। অফিসের ছাদে দাঁড়িয়ে খোলা আকাশ দেখলাম অনেকক্ষণ। ক’ফোঁটা নোনাজল চোখ গলিয়ে বেরিয়ে গেল। মনে হলো, উপরে আকাশ নিচে আমি, কোথাও কেউ নেই।


আরো সংবাদ


premium cement