২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সে এক রাজ্যে

সে এক রাজ্যে -

দুপুর বেলা।
রব মাস্টার ও রহিম চেয়ারম্যান একই রাস্তার বিপরীত দিক থেকে এসে মুখোমুখি দাঁড়ায়। দুজনের বয়স ষাটের ওপর। রব মাস্টার রাগে গজ গজ করতে করতে বলল, কোথায় যাও?
জাহান্নামে যাই। যাবে নাকি? রহিম চেয়ারম্যানও পালটা প্রশ্ন করে।
ত্রিশ বছর আগে তুমি আমার বউ নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলে। সে থেকে আমি একা। তিন কূলে আমার কেউ নেই। এক নিদারুণ কষ্টের ভেতর দিয়ে দিন কাটছে আমার। আজ আমি প্রতিশোধ নিতে চাই। চরম প্রতিশোধ।
হা হা হা। কিছুই করতে পারবে না মাস্টার। আমি এলাকার চেয়ারম্যান। আমার এক ডাকে শত শত লোক এসে জড়ো হবে।
সত্যি। রব মাস্টার চার দিক দেখে নেয়। কোথাও কেউ নেই। বর্ষাকাল। রাস্তার দুই পাশে থই থই পানি। রহিম চেয়ারম্যান বলল, কি কথা বলছ না কেন?
ওই আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ কী সুন্দর চাঁদ উঠছে।
রহিম চেয়ারম্যান এবার একটু ভয় পায়। এবং অবাক হয়ে বলল, দিনের বেলা চাঁদ উঠছে! এই বলে আকাশের দিকে তাকায়। এই সুযোগে রব মাস্টার রহিম চেয়ারম্যানকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দেয়। রহিম চেয়ারম্যান পানিতে পড়ে হাবুডুবু খেতে থাকে।
রব মাস্টার তৃপ্তির হাসি হাসে এবং রহিম চেয়ারম্যানকে লক্ষ করে এক টুকরো ইট ছুড়ে মারে। রহিম চেয়ারম্যান চিৎকার করে ওঠে। রব মাস্টার বলল, সেদিন আমি এত কষ্ট পেয়েছিলাম যে আত্মহত্যা করতে গিয়েও সফল হতে পারিনি। নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল আমি খড়কুটো।
সব দোষ কি আমার? তোমার বউয়ের কোনো দোষ ছিল না?
না। তার কোনো দোষ ছিল না। তুমি তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিলে। সে ছিল অসহায়। একা একটা মেয়ে মানুষ কি করবে। আমি জানি সে সুখে নেই।
তার নামে পাঁচ বিঘা ধানি জমি লিখে দিয়েছি। পঁচিশ ভরি সোনার গয়না দিয়েছি। তার সেবার জন্য দুইজন কাজের মহিলা রেখে দিয়েছি। তারপরও সে সুখে নেই?
না। কারণ তুমি অসৎ। আর অসৎ সঙ্গ কখনো ভালো হয় না। রব মাস্টার দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামনে এগুতে থাকে।
অনেক দূর থেকে হুইসেল দিতে দিতে একটা ট্রেন হাসেমপুর স্টেশন হয়ে ঢাকার দিকে যায়। রহিম চেয়ারম্যান রাস্তায় ওঠে। চার দিক দেখে দ্রুত হাঁটে। ভাগ্য ভালো যে কেউ দেখেনি।

 


আরো সংবাদ


premium cement