০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
নি বে দি ত প ঙ্ ক্তি মা লা

দিগন্ত সাহিত্যিক কবিতা

-


মাহবুব হাসান
সাহস তোমার

রোদ হয়ে উঠেছিলে তুমি রুদ্রনীল আকাশে
তোমার চোখের মতো ভয়হীন নিশঙ্ক আকাশ,
বাজের ছোবল মারার ঢঙে আকাশপরীরা খেলছিলো
চিল বাজ আর ঈগলের ক্ষুধা নিয়ে যারা
নিচের পৃথিবী লুটে চলছিলো, যেন গনিমতের মাল-
তুমি তাদের শিরের পেছনে
তুললে তোমার গোখরো ফণা, দোদুল্যমান!
ছায়ার ভেতরে
রাজনৈতিক ছায়ায় রাত্রিদিনগুলো
লজ্জাবতী লতা!
রোদ কী কখনো ভীত হয়?
বৈশাখী ঝড়ের কালো উদ্দাম মেঘের ঝলকানিতে
সে কী হারায় পথ?
ক্ষীরোদ সাগরে, নোনা জলে?
পাকা আমের বাসনায় ভেসে যায় সকাল, জৈষ্ঠ্যের সকাল
তুমি জৈষ্ঠ্যের গরমে তক্ত
রাবনের ক্রোধে জ্বলে উঠলে বাংলার শ্যামল সম্পদে
জন্মভূমির নগ্ন সুন্দরে স্নান করে!
তুমি কাজী,
বড় বেশি উদ্দাম হে, বৈশাখী আমের মতো মচমচে তাজা
রুদ্র-বেগে উঠলে নেচে ত্রিভঙ্গ মুরারী হে আমাদের
সাহসের বৈঠায় তুললে পেশীর প্রাণ!
তুমি ইসলাম জীবন ও জগতের তখতে তাউস,
তুমি নজরুল
আপনাকে ভোলা বকুল ফুল;
আমি সাহসের রেসিপি পেয়েছি তোমার চোখের তারায় হে,
এই বাংলার মেটে জ্যোৎস্নায়!

 

দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
খুঁজে পেয়েছি

তুমি জন্মেছিলে জ্যৈষ্ঠে
আম কাঁঠালের রসালো গল্পের মাঝে
কিন্তু তোমার খোঁজ মেলে
দুরন্ত অশান্ত বৈশাখে।

তুমি জন্মেছিলে জ্যৈষ্ঠে
গরমে অসহনীয় কালে
তখন বৃষ্টি ছিলো কপালে ?
তুমি হারিয়ে গিয়েছিলে বৃষ্টির সম্ভাবনা ফুলে
আষাঢ়ি ধারার প্রস্তুতি পর্বে।
আর আমরা তোমাকে খুঁজে পেয়েছি
নিবিড় বসন্ত দিনে
কোকিল ডাকা ফাল্গুনে।

তুমি শিশু-হারাতে হারাতে হারিয়েই গেলে !
ইস্কুল থেকে পালালে
লেটো দলে গেলে
আর আমরা তোমাকে খুঁজে পেলাম
শৃংখল ভাঙ্গার গানে
ভালোবাসার টানে
প্রেমের বানে।

 

কাজী জহিরুল ইসলাম
নজরুল

চর্যা-মন্দিরের দেহজ-মদিরা থেকে,
মুকুন্দরাম, ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর,
বড়ু চণ্ডিদাসের জলজ ম্রিয়মাণ বৃত্ত ভেঙে,
মাইকেলের মহাভারত তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে, রবীন্দ্রনাথের আভিজাত্য আর স্নিগ্ধতার মায়াজাল ছিঁড়ে
বাংলা কবিতাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ হরিজন সভায়,
দলিত মানুষের ভিড়ে হাফ ছেড়ে বেঁচে ওঠে সহস্র বর্ষের বন্দিত্ব;
কবিতা হয় শৃঙ্খলমুক্ত অবাধ, সকলের;
স্বাধীকার ও স্বাধীনতার এক তীব্র হাতিয়ার।
ধমকে, ঠমকে, গমকে শব্দের কী নিপুণ চমকে
তুমি গড়ে তোলো গণমানুষের অন্তরে চেতনা-সৌধ,
এক লহমায় দিলে ভেঙে সহস্রাব্দের আদুরে ভুল;
কবিতা কেবল নয় শুধু প্রেয়সীর কালো তিল,
মায়াবী কঙ্কন, ভরা জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধ মদ,
কবিতা কেবল নয় শ্রীকৃষ্ণের বাঁকানো মোহন বাঁশি;
সে-এক উদ্যত পদাঘাত অত্যাচারী শাসকের বুকে, ক্রুদ্ধ ভৃগু।

 


ওমর বিশ্বাস
আসানসোল

আলো আঁধারের শরীরের মধ্য দিয়ে আর মৃত্তিকার খুব কাছাকাছি
কিংবা সমুদ্র্র উত্তাল স্রোত নয় ধাবমান গর্জনের কেন্দ্রিক ভিতর থেকে আসা
আলোর ফোয়ারা তুলে ধরেছিল শতাব্দীর কোনো এক কাল
উপনিবেশিক মস্তিষ্কের শিরা ধমনীতে বিদ্যুৎতরঙ্গ তুলে ছুঁয়ে দিয়েছিল
নিষ্প্রভ মানব অহংকার যত নির্ভরতার স্পন্দনে বিনষ্ট সময়ে।
এক সমুদ্র ফেনিল অস্থিরতাকে নিয়ে একটা সময় আকাশের মতো
অত বিশালাকার হতাশাকে জেনেছিল মানুষ প্রান্তিক ভাবনায়
দ্রোহের আগুনে জ্বলে কেটেছিল হৃদয়ের ক্ষতকাল বাতাসের
সাথে ভেসে থাকা চাঁদ নিঝুম অন্তর দিগি¦দিক শূন্যতা
এটাই একটা গল্প- সেই বহুদিন ধরে চলে আসা নীল চাষের ভিতর দিয়ে।
রাত শেষ হয় রাত শুরু হয় জ্ঞানের দরজা খোলে খুব ধীরে ধীরে
মানুষ অবাক হয় বজ্রের মতোন ধেয়ে আসা এক ভোরে এক রাতে
নয় এক কাল ধরে জেগে থাকা কোনো প্রাচীন বৃক্ষের ছায়ার কোঠরে
আসানসোলের রুটির দোকান যেভাবে উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছিল
হৃদয়ের ভিতর চুরুলিয়ার-সেটাই তো আরেকটা গল্প সেসব দিনের পথিকের।
সে আসানসোলের শরীর ছুঁয়ে কেঁপে ওঠে বাতাসের হৃদয় প্রায়শ।

 

 


শাহীন ভূঁঞা
বিদ্রোহী নজরুল

সে মহানাবিক এক... মুক্ত জীবনের প্রত্যাশায়
দূর দূরান্তর হতে-- ছুটে আসে সমুদ্রের বুকে;
ছুটে আসে রাত্রিদিন ঘূর্ণমান জোয়ার ভাটায়
ঘূর্ণিঝড় বুকে নিয়ে ছুটে যায় আবার সম্মুখে।
প্রতি মুহূর্তের স্রোত এ-সাহসী নাবিকের প্রাণে
তুলে যায় গতি-ঝড়; তারপর বিদ্যুতের মতো
আশ্চর্য ক্ষিপ্রতা নিয়ে পরিপূর্ণ মুক্তির সন্ধানে
অতলান্ত এ-সমুদ্রে ছুটে চলে শুধু অবিরত।
দ্রোহের নিগূঢ় বার্তা জেগে ছিল বক্ষপটে যার
দুরন্ত ইশারা যার ডেকে আনে মর্মের আহ্বান,
মানেনি না মানা কথা ব্যক্তি আর সমাজ সত্তার
খুলে দেয় অন্ধ চোখ, সবার নিষ্কম্প ভীত প্রাণ।
রেখে যায় প্রাণ তাঁর জ্বালাময়ী দ্রোহের সঙ্গীতে
অনেক বিদ্রোহকাব্য লেখা এই স্বদেশ ভূমিতে।

 


আরো সংবাদ


premium cement