০২ জুলাই ২০২২
`

‘আমার সে গান হারিয়ে গেছে’

-

কে জি ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয়েছিল রমজানের আগে আগে। রমজানের মধ্যেও একবার বোধহয় হয়েছিল। তার সাথে পরিচয়ের সূত্রপাত বহু আগে হলেও যোগাযোগের সূত্রপাতগুলো ঘন ঘন ঘটত না। কখনো দেখা হলে, কখনো টেলিফোনে কথা হতো- হলে আড্ডাও হতো খুব। আমাদের কথার বিষয় ছিল গান। সবসময়ই গান। তার আর আমার শেষের দিকের কথাও এই গানকে নিয়েই। আমি বিটিভিতে দীর্ঘদিন ধরে ‘চিরশিল্পের বাড়ি’ নামে একটি অনুষ্ঠান তৈরি ও উপস্থাপনা করে আসছি। ঠিক করেছিলাম তার কয়েকটি ভালো কিন্তু ভুলে যাওয়া গান নতুন শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াব আমার অনুষ্ঠানে। প্রথম যে গানটি নেবো ঠিক করেছিলাম সেটি হলো ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমার একটি গান। না, ‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো’ গানটি নয়। এই গানটি ‘ভুলে-যাওয়া’ গান নয়। প্রবাহিত হচ্ছে। তালাত মাহমুদ কে জি’র আরেকটি গান গেয়েছিলেন ওই সিনেমায় রবীন ঘোষের সুরে- ‘আমার সে গান হারিয়ে গেছে দূর অজানার বনে!’ এই গানটিও আমাকে আমার কিশোরকাল ও প্রথম যৌবনকে খুব ছুঁয়েছিল মনে পড়ে। বেতারসহ সম্ভাব্য নানান জায়গায় খুঁজে না পেয়ে শেষে গানের গীতিকারের সাথেই যোগাযোগ করলাম। তার সাথে প্রবহমান যোগাযোগ না থাকায় টেলিফোন নম্বরও ছিল না। জোগাড় করতে হলো। অনেক দিন পরে আবার যোগাযোগ হলো।
তো, গানটির কথা উঠতেই আপ্লুত ও বিস্মিত হলেন, বললেন, ‘তাহলে মনে আছে তোমার গানটির কথা? বহুদিন পরে কেবল একজন তুমিই আমাকে এই গানটির কথা বললে’। আমি বললাম, ‘আমাদের প্রচুর না হোক বেশ কিছু ভালো গান আছে যেগুলো বিস্মৃত হয়ে গেছে যথাপ্রচারের অভাবে’।
আমার গান নিয়ে কথা বললেন। আফসোসের সুরে জানালেন, কেন আমি সংখ্যায় এত সামান্যই লিখলাম। বললেন, ‘তোমার গানই কিন্তু আমাদের গানকে আরো বেশি কবিতার দিকে নিয়ে আসতে পারত। প্রকৃত গান সেটাই যে গানে কবিতা আছে। তোমার প্রত্যেকটা গানই কিন্তু কবিতা আমি যে কটা শুনেছি!’
আমি মূল প্রসঙ্গে ফিরে যেতে চাইলাম এবং বললাম, ‘এখন আপনার এই গানটি কিভাবে পাই’?
কে জি ভাই বললেন, ‘ঈদের পরপরই আমাদের দুজনের সুবিধামতো এক শনিবারে তুমি প্রেস ক্লাবে এসে আমার সাথে লাঞ্চ করো, আমি আমার মোবাইল থেকে তোমার মোবাইলে গানটি তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’
যেদিন রাতে কে জি ভাই মারা গেলেন সেদিন দুপুরে কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাইয়ের সাথে ফোনে অনেকক্ষণ কথা বলেছি কবিতা আর গান নিয়ে। আশ্চর্য, কে জি’র গানের কথা উঠেছিল অনেকবার। আমার ‘চিরশিল্পের বাড়ি’তে কে জি’র ‘আমার সে গান হারিয়ে গেছে দূর অজানার বনে’ গানটি নতুন করে গাওয়াতে যাচ্ছি বলে জানালাম হাসনাত ভাইকে।
এখন সমস্যা হবে তার মোবাইল থেকে আমার মোবাইলে গানটি তুলে দেয়ার জন্য কে জি ভাইকে কোথায় পাবো! তবে বাসায় গেলে মোবাইলটা তো পাওয়া যাবে, সেখান থেকে তুলে নিতে পারব নিশ্চয়ই। কিন্তু লাঞ্চ খাওয়া, আড্ডা মারার কী হবে? হবে! আমি অদৃশ্যে বিশ্বাসী, আমার ভ্রমণ তো... রুমীর মতো, ... সেই গোলাপ বাগানের দিকেই। কে জি মোস্তফার জন্য প্রার্থনা করছি জান্নাত!
আমাদের গানের এই অসাধারণ গীতিকার তার অপরূপ গানগুলোর মধ্যেই বেঁচে থাকবেন!

 

 


আরো সংবাদ


premium cement
সৌদি আরবে আরো ৩ বাংলাদেশী হজযাত্রীর মৃত্যু চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জামায়াতের গৃহ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ তাহিরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বন্যার্তদের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের ত্রাণ বিতরণ কওমি মাদরাসা নিয়ে ফখরুল ইমাম এমপির বক্তব্যের প্রতিবাদ শিবিরের ফুলগাজীতে বিএনপির ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি সভায় আ’লীগের হামলায় আহত ৩০ চট্টগ্রামে ৫০ চোরাই মোবাইলসহ পাকড়াও ৪ চোর হামলার ভয়ে বড়থলির ২৩টি পরিবার বান্দরবানে আশ্রয় নিয়েছে হবিগঞ্জে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১ চট্টগ্রামে গরুর বাজার দখলের চেষ্টা অস্ত্রসহ ৩ ছাত্রলীগ ক্যাডার গ্রেফতার বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ডিএসসিসি পশুর হাটে থাকবে ১১ ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম

সকল