২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩
`
ব ই আ লো চ না

মিথের বাইরে

বঙ্গ, বাঙ্গালা, বাঙ্গালী ফাহমিদ-উর-রহমান প্রচ্ছদ : হিশাম আল নোমান প্রকাশক : মক্তব, প্রকাশকাল : নভেম্বর, ২০২১, মূল্য : ১৩০ টাকা -

ইতিহাস যেমন রাজনীতি বিষয়ে জানতে সহায়ক হয় তেমনি আবার ইতিহাসকে ঘিরে তৈরি হয় মিথ। এমন একটি মিথ ‘হাজার বছরের বাঙালি’ বা ‘হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতি’। এক হাজার বছর আগে এ ধরনের কোনো ধারণা প্রচলিত ছিল বলে জানা যায় না। তবে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী আমাদের হাজার বছরের বাঙালির সবক শিখাতে তৎপর। তারা সকাল-বিকেল এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য জ্ঞান ও মিডিয়াগত সব প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাচ্ছে। তাদের সেই মিথের বিপরীতে খুব কম লেখালেখি হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। সেসব বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের মানুষের জাতিগত পরিচয় ইতিহাসের গভীর থেকে তুলে আনতে নিমগ্ন ফাহমিদ-উর-রহমান তাদের অন্যতম। তার রচিত সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বঙ্গ, বাঙ্গালা, বাঙ্গালী’ সেই মিথের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সত্যকে তুলে আনার একটি প্রয়াস। তার গ্রন্থের নামকরণ দেখে আঁচ করা যায় তিনি প্রচলিত মিথের পথে হাঁটতে চাননি। আর সে কারণেই নামকরণের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাদী শব্দের অনুগামী হয়েছেন। তার নামকরণের স্টাইল নিয়ে বিপরীত মত থাকতেই পারে। তবে সেই বিপরীত মতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখকের বয়ান। সেই বয়ানে লেখক কতটা ঐতিহাকি সত্যকে অনুসরণ করেছেন সেটা বিচার্য। গ্রন্থটি পাঠ করলে পাঠকমাত্র বুঝতে পারবেন তিনি পূর্বজ ঐতিহাসিকদের যে বিবরণ থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছেন। দেখিয়েছেন ইতিহাসের ভেতরের মিথ এবং সত্যকে তুলে এনেছেন তার লেখায়।
‘হাজার বছরের বাঙালি’ শব্দটি যে একটি আগ্রাসনবাদী রাজনৈতিক শব্দ হয়ে উঠেছে স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা তিনি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন। পাশাপাশি এই শব্দগুচ্ছের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই তা প্রমাণ করেছেন ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে।
এই বইটি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বুঝতে সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ^াস।
এ প্রসঙ্গে লেখকের কথা দিয়ে শেষ করতে চাই- ‘সংস্কৃতির গরমিলটাই আত্মপরিচয়। মিলটা নয়। ওপার বাংলার সাথে এপার বাংলার পার্থক্যটাই আমাদের জাতি রাষ্ট্রের বুনিয়াদ। বাঙালিত্বের ভাবালুতার আড়ালে সেদিকটা যেন আমরা ভুলে না যাই।’
বইটি প্রকাশ করেছে মক্তব প্রকাশ। বইটির পাঠকপ্রিয় হোক।


আরো সংবাদ


premium cement