০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

আবদুলরাজাক গুরনাহর একটি সাক্ষাৎকার

-

[এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তানজানিয়ান ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ ১৯৪৮ সালের ২০ ডিসেম্বর জানজিবার সালতানাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ষাটের দশকে তিনি শরণার্থী হিসেবে ইংল্যান্ডে আশ্রয় গ্রহণ করেন যখন জানজিবার বিপ্লবের মাধ্যমে জানজিবারের সুলতানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। পেশায় তিনি কেন্ট বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। তাঁর দুটি উপন্যাস প্যারাডাইস (১৯৯৪) ও বাই দ্য সি (২০০১) তাঁকে বিখ্যাত করে তোলে। ৫ মার্চ ২০১০ তারিখে আবদুলরাজাক গুরনাহর সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন শেন ক্রিভি, যা প্রকাশিত হয় বিখ্যাত আইরিশ পত্রিকা ম্যাজিল-এ।]
শেন ক্রিভি: কিছু কিছু লেখক হন বিশ্রীভাবে লাজুক প্রকৃতির যখন অন্যেরা হলেন গুরুত্বপূর্ণ গণ-ব্যক্তিত্ব। আপনার মতে, গণজীবনে একজন লেখকের অবস্থান কোথায় যদি তিনি পুরুষ হন বা মহিলা তাঁকে এরকম ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: আমি জানি না। আমার মনে হয় একজন লেখকের সম্ভবত নানা ধরনের ভূমিকা আছে। আমি ঔপন্যাসিকদের ব্যাপারে কিছুটা খুশি এই ব্যাপারে যে, তাঁদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করতে পারে। আমি খুবই খুশি লেখকদের জন্য যে, তাঁরা পাঠকদের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন এবং তাঁরা কখনোই বলবেন না যে “এটাই হলো সঠিক, ওটা একেবারে ভুল”। আমি মনে করি এটাই হলো সব।
শেন ক্রিভি: কেন্ট বিশ^বিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর হিসাবে আপনি কি মনে করেন আপনার পেশাগত লেখালেখি ও আপনার শৈল্পিক লেখালেখি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক? নাকি আপনি উভয়ের সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: এর বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অর্থাৎ সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক দিক সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, তিনি যিনি সাহিত্য পড়ান এবং তিনি যিনি বই লেখেন, তাঁদের মধ্যে আসলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সত্যি বলতে কী, যদি কোনো কিছু সম্পূর্ণ সুন্দরভাবে তাঁরা পরস্পরকে জানান, আপনি জানেন, যাতে, যখন আপনি একটি বই নিয়ে কথা বলেন অথবা বই পড়া নিয়ে কথা বলেন এবং এ ব্যাপারে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করার জন্য আপনি তৈরি হয়ে যান তখন আপনি অবশ্যই চিন্তা করেন এ বইটা কিভাবে লেখা হয়েছিল এবং কখনো কখনো ব্যাপারটা আপনার কাছে ফিরে আসে যখন আপনি আপনার লেখা নিয়ে কথা বলেন (অথবা আমার বলা উচিত আমার নিজের কথা, আমার বলা উচিত নয় ‘আপনি’, আসলে আমি বুঝাতে চাচ্ছি ‘আমি’), এটা আমার কাছে ফিরে আসে এবং আমি চিন্তা করতে থাকি কিভাবে একজন লেখক এরকম একটি কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন; সেভাবে আমিও চেষ্টা করতে পারি এবং হতে পারে, এরকম কিছু লিখেও ফেলতে পারি।
আমার মনে হয়, দ্বন্দ্ব যেখানে শুরু হয় সেটা হলো আপনি যখন আপনার পেশার মধ্য দিয়ে যান এবং আপনি আরও সিনিয়র হয়ে ওঠেন এবং আরো বেশি দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে থাকেন যার সাথে শিক্ষকতার কিংবা বইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং বলা যায় আপনি কেবল প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তখনই সংঘর্ষের উৎপত্তি হয়, তার মানে হলো, আপনার মাথা ভর্তি হয়ে যায় অন্য চিন্তায় এবং এসময় আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে একটু অবসর খুঁজে পাওয়ার যে-ব্যাপারে আপনি আগ্রহী তার জন্য, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, লেখালেখির জন্য।
যে-জিনিসটি আমি বুঝাতে চাচ্ছি তা হলো, অধ্যাপনা পেশার সব কিছুই অর্থহীন নয়। এর কিছু কিছু বিষয় আমার কাছে খুবই আনন্দদায়ক বলে মনে হয়। এজন্য বিশ^বিদ্যালয়ের একজন হওয়াটাকে আমি খুবই পছন্দ করি এবং কিভাবে ডিপার্টমেন্ট চালাতে হয় এবং কিভাবে এটা করতে হয় সেটা করতে হয়-এসব বিষয় আমি খুবই উপভোগ করি। কিন্তু এটাও সত্য যে, পেশার দিকে আপনি যত বেশি নজর দিবেন, লেখালেখির চিন্তাভাবনা করার জন্য আপনি তত কম সময় পাবেন।
শেন ক্রিভি: আপনার উপন্যাস বাই দ্য সি-এ লতিফ মাহমুদ চিন্তা করে, “এটা হলো সেই বাড়ি যেখানে আমি বাস করি, এটা হলো সেই ভাষা যেটা, প্রত্যেক তৃতীয় প্রান্তের পিছনে দাঁড়িয়ে, আমাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে ও তিরস্কার করে।” আপনি ইংরেজি ভাষায় লিখতে পছন্দ করেন, কিন্তু আপনি আপনার উপন্যাসের মধ্যে অন্যান্য ভাষার টুকিটাকি বিষয় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে দেন, বিশেষ করে সোয়াহিলি ভাষা। আমি কি ধরে নেবো যে, আপনি ভাষার প্রশ্নে গুগি ওয়া থিওঙ্গোর পরিবর্তে চিনুয়া আচেবের পক্ষ অবলম্বন করছেন, অর্থাৎ উপনিবেশবাদীদের ভাষাকে অবশ্যই ভিতর থেকে দখল করে নিতে হবে?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: না, না তা আমি মনে করি না। আমি মনে করি না যে, এই বিতর্কে আমি এঁদের যে-কোনো একটি ক্যাম্পে থাকবো কারণ আমি মনে করি তাঁদের যুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন আমার যুক্তি থেকে যেটা আমি আমার লেখালেখির জন্য ব্যবহার করতে পারি।
আচেবে যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, উপনিবেশবিরোধী কার্যকলাপের জন্য যেভাবেই হোক ইংরেজি ভাষাকে আত্মস্থ করে নেয়া যেতে পারে। গুগি বলছেন যে, এটা করা যেতে পারে কারণ ভাষা সবকিছুকেই দখল করে নেয়, আপনি যা করেন তার সবকিছুই; এটা দখল করে নেয় যা আপনি ব্যাখ্যা করেন, দখল করে নেয় মূল্যবোধ, নিয়ন্ত্রণ করে সমস্ত জিনিস, ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমার মনে হয় না আমি এর কোনোটার সাথে একমত, বরং আমার বলা উচিত, ভাষা কিভাবে একজন লেখকের জন্য কাজ করে বলে তাঁরা যে চিন্তা- চেতনা পোষণ করে আমি তার সাথে একমত নই। আমি মনে করি না যে, তাঁরা যেভাবে বলছে ভাষা সেইভাবে কাজ করে, যেমনটি বলা হচ্ছে ভাষাকে যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, অন্যদিকে বলা হচ্ছে ভাষা এমন একটা কিছু যার মাধ্যমে আমরা কথা বলি যার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি মনে করি না যে, একজন লেখক ও একটি ভাষা এভাবে একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সুতরাং আমি নিজেকে কখনো এ দুটি ক্যাম্পের একটিতেও খুঁজে পাইনি। আমি বলবো, যে-কারণে আমি ইংরেজি ভাষায় লিখতে শুরু করেছিলাম তা হলো ঔপনিবেশিকতা, তা না হলে সম্ভবত আমি ইংরেজিই শিখতাম না। আমি ইংরেজিতে লিখতে শুরু করেছিলাম কারণ আমি যা পড়ছিলাম তা ছিলো ইংরেজিতে, কারণ আমি যখন লিখতে শুরু করেছিলাম তখন আমি নিজেকে নিমজ্জিত দেখতে পেয়েছিলাম ইংরেজি ভাষার মধ্যেই। এরকম আরো কারণও আছে, বাকিটা দুর্ঘটনা।
আমি বলতে চাই, আমি ছিলাম এমন একজন কেউ, যে হঠাৎ করে লেখালেখির মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। আমার বয়স যখন ছিলো ১০ কিংবা ১১ তখন আমি ভাবতেই পারিনি যে, একদিন আমি একজন লেখক হবো। বিশ বছর বয়সের পর আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলাম লেখালেখির মধ্যে যখন আমি দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলাম ইংল্যান্ডে। তখন আমি একথা ভাবার সুযোগই পাইনি যে, আমার কোন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। তখন যে ভাষা লেখালেখির জন্য আমি ব্যবহার করতে জানতাম তা ছিলো ইংরেজি, কারণ তখন আমি ইংরেজি ভাষাতেই পড়াশুনো করছিলাম। ঐ সময় লেখালেখির জন্য যে মাধ্যম আমার কাছে উন্মুক্ত ছিলো তা ছিলো ইংরেজি, অন্য কোনো ভাষায় আমার দক্ষতা ছিলো না।
কিন্তু অবশ্যই আমার কাছে অন্য একটা ভাষাও ছিলো যেটা আমি জানতাম কিন্তু লেখালেখির জন্য তা জরুরি ছিলো না। আমি সেই ভাষাতেই লেখা শুরু করেছিলাম যেটায় আমি ভালো কাজ করতে পারবো বলে মনে করেছিলাম। এটা কিছুতেই অনন্য ব্যাপার নয় যে আমি একটিমাত্র ভাষা ইংরেজিতে লেখালেখি করছি। আমি এ ভাষাতে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন ভাষার একটি কাল্পনিক পটভূমি নির্মাণ করছি যা আমার মনে হয় এ ভাষাকে গতিশীল করছে এবং এর মধ্যে আনন্দদায়ক সংমিশ্রণ ঘটাচ্ছে।
শেন ক্রিভি: সালেহ ওমর নিজের ব্যাপারে মনে করে যে, “আমি সব সময় সামনের দিকে তাকাতে চাই, কিন্তু আমি সবসময় নিজেকে দেখতে পাই পিছনের দিকে তাকাতে।” আপনার উপন্যাসগুলো অতীত ও বর্তমানের মধ্যে ঘুরপাক খায়। তাহলে কি আমরা বলবো যে, আপনার জন্যে অতীত কোনো ‘হারিয়ে যাওয়া জগৎ’ নয়?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: হ্যাঁ, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। এরচেয়ে বেশি আর বলতে যাবো না এ ব্যাপারে। অনিতা দেশাইয়ের একটা চমৎকার বাক্য আছে, সেটা হলো “কোনো কিছুই কখনো শেষ হয় না”। তিনি তাঁর একটি চরিত্রকে দিয়ে একথা বলিয়েছেন। “কোনো কিছুই কখনো শেষ হয় না”। আমিও অতীতকে এরকমভাবে দেখি। এটা কখনো শেষ হয় না, এমনকি যদিও এটা শেষ হয়ে যায়। আসলেই এটা কখনো শেষ হবার নয়।
শেন ক্রিভি: এই অর্থে, অতীত তাহলে বর্তমানের মধ্যেই বাস করে?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: ঠিক তাই। অতীতই বর্তমান। অতীতই বর্তমান কারণ আমরা একই সাথে আমাদের কল্পনা ও বাস্তব জীবনের মধ্যে বাস করি। এ কারণে অতীত, যা আমাদের কল্পনার জগতের একটা অংশ, আমাদের জন্য এখনো জীবন্ত। এদিক দিয়ে আমি মনে করি, এটা কখনো শেষ হয়ে যায় না।
শেন ক্রিভি: আপনার ডিজার্সন উপন্যাসের লেগব্রেকার চরিত্রটি আমার ভালো লাগে।
আবদুলরাজাক গুরনাহ: মারামারি করা বালকেরা!
শেন ক্রিভি: এটা কি কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র, নাকি স্রেফ কাল্পনিক?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: এর বেশির ভাগ্যই কাল্পনিক। সম্ভবত ৯০ ভাগ কাল্পনিক যদিও এরকম কুখ্যাত, ভয়াবহ কিছু লোক বাস্তবেও ছিলো ।
শেন ক্রিভি: আপনি তার হাতেই আপনার জীবনকে সঁপে দিচ্ছিলেন!
আবদুলরাজাক গুরনাহ: আসলে তাই।
শেন ক্রিভি: আমাদের আধুনিক পৃথিবী ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে নতুন নুতন মিডিয়া ও তাৎক্ষণিক- যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্বারা। আমাদের বসবাস করা এরকম একটি নতুন পৃথিবীতে, আপনার দৃষ্টিতে, উপন্যাসের ভূমিকাটা কী, যেটা এখন আর কিছুতেই নতুন কোনো বিষয় নয়?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: আমি নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারবো না। কিন্তু আমি দেখতে পাই কিভাবে এটি পত্রপত্রিকার মতো প্রকাশনার জিনিসসমূহকে প্রভাবিত করে যাচ্ছে। অনলাইনে প্রচুর ম্যাগাজিন ও জার্নাল রয়েছে যা সহজলভ্য; ফলে এসব তো কিছুটা হলেও আপনার ওপর প্রভাব ফেলে যাবে। কিছু কিছু লোক, যাঁরা আরো বেশি উচ্চাকাক্সক্ষী, অনলাইনে বই প্রকাশ করে যাচ্ছে, আপনি তা ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আমি একটা ওয়েবসাইটের কথা জানি, যারা অনলাইনে বই প্রকাশ করে থাকে। আপনি চাইলে এ বইয়ের একটা প্রিন্ট কপি ক্রয় করে নিতে পারেন যা ডাকযোগে চলে যাবে আপনার কাছে। আপনি এটা কিনতেও পারেন, তা না হলে অনলাইনে পড়ে নিতে পারেন। আপাতদৃষ্টিতে তারা এ ধরনের কাজ সহজেই করতে পারে কারণ এক কপি প্রকাশ করা খুবই সহজ। এটা করতে কোনো খরচ হয় না। কিন্তু আপনাকে যদি ৫০০ কপি প্রকাশ করতে হতো, তাহলে?
শেন ক্রিভি : সুতরাং আপনি কি মনে করেন নতুন প্রযুক্তিসমূহ স্বাধীন থাকা উচিত, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই?
আবদুলরাজাক গুরনাহ : আমি অবশ্য তাই মনে করি। আমার মনে হয় না এতে ভয় পাওয়ার কিছু আছে। আপনি পেতে পারেন-
শেন ক্রিভি: কম মানুষ বই পড়ছে?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: না, আমি তা ভাবিনি। আপনি বরং এরকমই পেতে পারেন যে, লোকেরা বিচিত্র ধরনের বই পড়ছে। হতে পারে, ভবিষ্যতে ইন্টারনেটে বই পর্যালোচনা সাইটও খুলে যাবে যেটা অন্যান্য লোকেরা কী কী বই প্রকাশ করছে সে-সম্পর্কে খোঁজখবর রাখবে। আমি জানি না, আদৌ সে রকমটি হবে কিনা। তবে আমি মনে করি অনলাইনে বই বা ম্যাগাজিন প্রকাশের ব্যাপারটা নানা বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা আনবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, হার্ড কপি বই প্রকাশ করা খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার। তখন আপনি অনলাইনে ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে পারেন, যেজন্য কোনো খরচই হবে না। আমি দেখতে পাচ্ছি এসব জিনিস কিছু মানুষের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক।
শেন ক্রিভি: আপনার উপন্যাস ডিজার্সান প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। আমি আগ্রহী ছিলাম এটা জানতে যে, আপনি নতুন কোনো উপন্যাস নিয়ে কাজ করছেন কিনা?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: বেশ। আমার ধারণা আমি সবেমাত্র নতুন একটা লিখে শেষ করেছি।
শেন ক্রিভি: আপনি কি ম্যাজিল পাঠকদের এ ব্যাপারে কিছু বলবেন?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: না।
শেন ক্রিভি: না? কোনো গোপনীয় ব্যাপার?
আবদুলরাজাক গুরনাহ: না, একদম না। কিন্তু আমি এটা বলতে পছন্দ করি না যে, “বইটা এই সম্পর্কে এবং বইটা ওই সম্পর্কে”, এমনকি এসব বই যদি সেসব বইও হয়, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তারপরও আমি এরকমটি বলবো না কারণ এসব বলার অর্থ হলো এক ধরনের অর্থহীন কর্তৃত্ব ফলানো। পাঠকরা নিজেরাই ব্যাপারটা খুঁজে বের করুক এবং আমি দেখতে চাই তারা এটা নিয়ে কী ভাবে। মাঝে মাঝে আমি খুবই অবাক হই যখন তারা নিজেদের মতো করে পাঠপ্রতিক্রিয়া জানায় এবং আমি আনন্দিত হই তারা কিভাবে বইটি পাঠ করছে শুনে। আমি কখনোই চাই না তাদেরকে একথা বলতে যে, বইটা তাদের কিভাবে পাঠ করা উচিত।
শেন ক্রিভি: খুব ভালো, প্রফেসর গুরনাহ। আমরা অবশ্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আপনার পরবর্তী বইয়ের প্রকাশনীর জন্য! (সংক্ষেপিত)



আরো সংবাদ


ইসরাইলকে ইরানে গোয়েন্দা অভিযান চালাতে নিষেধ করল যুক্তরাষ্ট্র (১৪২০৫)‘ওমিক্রন’ থেকে বাঁচাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন চিকিৎসক (১০৭০২)ইরান ইস্যুতে আমেরিকা একঘরে হয়ে পড়েছে : ব্লিঙ্কেনের স্বীকারোক্তি (৯৯৯১)বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে যাবে না (৮০৩৩)রুশ অস্ত্র কিনলে নিষেধাজ্ঞা, ভারতকে বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের (৭৯২৯)পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হেরেও খুশি পাপন (৭২২৬)এরদোগানকে হত্যার চেষ্টা! (৭০৫৬)যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি : প্রতিবেশীর ঘরে অস্ত্র ঢোকালে যুদ্ধ বাধবে (৬৩৮৯)‘বুথে নয়, নৌকার ভোট হবে টেবিলের উপরে, পুলিশ প্রশাসনকে সেভাবেই দেখবো’ (৫৮৩৫)জ্বর নেই, স্বাদ-গন্ধও ঠিক আছে! ওমিক্রন চেনার সহজ উপায় (৫৮৩১)