০১ ডিসেম্বর ২০২০

যে ক থা হ য় নি ব লা

-

অবিশ্বাস করে জেতার চেয়ে বিশ্বাস করে ঠকা ভালো : মাহমুদ কামাল
যে প্রতিবন্ধকতা জয় করে লেখক হলেন?
ঢাকা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে থাকি। এটাই প্রতিবন্ধকতা। মফস্বলের লেখক এই গালিটা শুনতে হয়। অথচ হাতের মুঠোয় পৃথিবী। আমেরিকায় অবস্থান করেও এবং অজপাড়াগাঁতে থেকেও। আগে কিছু মনে হতো না। গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা একমাস বয়সী কবির মুখে যখন ‘মফস্বল’ শব্দটি শুনি তখন মনে হয় ঢাকাই বাংলাদেশ।
কবিতায় নিজেকে কেমন অনুভব করেন ?
তা না হলে কিভাবে কবিতা লিখি! আত্মমগ্ন হলেই বাক্যের পর বাক্য এসে যায়। আর যদি নির্মাণ করার জন্য কবিতা লিখতে হয় সেখানে নিজেকে তো আর সমর্পণ করা যায় না।
নিজের সম্পর্কে যে অভিযোগ মিষ্টি মনে হয়?
ভালোবাসা থেকেই স্ত্রী যখন বলেন, শিষ্যদের ওপরের দিকে তুলে দিচ্ছো। নিজে তো কিছুই হলে না!
কেন লিখতে এলেন?
বাবা লিখতেন। তাঁর লেখা ‘গল্প বলি গল্প শোনো’ এবং ‘কচিকাঁচাদের আসর’ নামে দুটো শিশুতোষ বই অনেক দিন দ্রুতপঠন হিসেবে প্রাথমিক শ্রেণীতে পাঠ্য ছিল। বড় দুইবোন লিখতেন। বলা যায় পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেই হয়তো লেখালেখিতে আসা।
জীবনের ব্যর্থতার কথা বলুন?
একজীবনে ব্যর্থতাই বেশি। এ এক মহাকাব্য। আমি তো অল্পতেই খুশি। কবি বলেছেন ‘হতাশাই শেষ কথা নয়।’
এখনো অপূর্ণ যে স্বপ্ন?
পরিপূর্ণ লেখক হয়ে ওঠা।
লেখক না হলে কী হতেন?
লেখক কি হতে পেরেছি? তোমার জীবনের উদ্দেশ্য কী?Ñ এই রচনায় আমাদের সময়ের ছাত্ররা লিখতো ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা। আমি কবি হওয়ার কথাই লিখেছিলাম। স্কুলে এই রচনা লেখার জন্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আমাকে ১৫-এর মধ্যে ১০ দিয়েছিলেন। তিনি সাহিত্যমোদী ছিলেন। আমাকে ডেকে বলেছিলেন লেখক হও ভালোÑ তা দিয়ে তো আহার জুটবে না। একটা কিছু করতে হবে। সেই একটা কিছু কলেজে শিক্ষকতা করে এখন অবসরে আছি। আমার শ্রদ্ধেয় স্যার এখনো বেঁচে আছেন।
পাঠকের ভালোবাসা কেমন পান ?
আমার লেখার পাঠক নির্ধারিত। তারা অকারণেই প্রশংসা করেন।
কবিতা সম্পর্কে আপনার নিজস্ব সংজ্ঞা কী?
ব্যাখ্যা না করেই বলি: অন্তর্মুখ ও বহির্মুখের সঙ্গমই হচ্ছে একেকটি কবিতা। যা কিছু কাব্যকুশলতা তা ঐ দু’য়ের মিলনেই।
নিজের লেখা কোন বইটি অধিক প্রিয়?
পিতার কাছে সব সন্তানই প্রিয়। তবে, ‘নির্বাচিত কবিতা’ গ্রন্থটি প্রিয় মনে হয় এ কারণে কবিতাগুলো নির্বাচিতই।
এখনো উজ্জীবিত রাখে যে বাণী?
অবিশ্বাস করে জেতার চেয়ে বিশ্বাস করে ঠকা ভালোÑ কথাটা আমারই। চল্লিশ বছর আগে মনে হয়েছিল।

একজন লেখক সাধারণত চালাক হন না : সোলায়মান আহসান

যে প্রতিবন্ধকতা জয় করে লেখক হলেন?
পরিবার চাইতো না আমি লেখালেখি করি। মানে আমার ব্রিটিশ গ্র্যাজুয়েট পিতা তার ধারণা ছিল লেখক হলে মানুষ বিশৃঙ্খল জীবন বেছে নেয়Ñ তার উন্নতি হয় না। পরে অবশ্য তিনি তার মত পাল্টান।
কবিতায় জীবনকে কেমন অনুভব করেন?
কবিতা এবং জীবন খানিকটা দ্বন্দ্বজ। যদি কবিতাকে ভালোবাসা দেই, জীবন কষ্ট পায়। জীবনকে একেবারে উপেক্ষা করা যায় না বলে কবিতা মুখ গোমড়া করে থাকে। এর ভেতর দিয়ে যার যে রকম প্রতিভা, গুণ প্রচেষ্টার নৌকাকে টেনে যতদূর যাওয়া যায় আর কি!
লেখক না হলে কী হতেন?
কিশোর বয়স থেকেই লিখতে শুরু করি। লেখক হবো এমন চিন্তা মাথায় এমন দৃঢ়ভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, বিকল্প চিন্তা করিনি। এ ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনাগুলোকে এড়িয়ে গেছি। যেমন বেশ কয়েকবার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এসেছিল; যাইনি। ‘অর্থজীব’ হলে লেখক হতে পারব না এই ভয়ে।
জীবনের ব্যর্থতার কথা বলুন!
আমাদের সমাজের সফলতার মাপকাঠি হচ্ছে অর্থনৈতিক সফলতা। অথবা পদাধিকারী হওয়া। সে ক্ষেত্রে অতি বুদ্ধিমান ও চালাক লোকেরা এগিয়ে থাকে বারবার। একজন লেখক সাধারণত এমন বুুদ্ধিমান ও চালাক হন না। আমি সেই শ্রেণীভুক্ত লেখক। আমার ব্যর্থতা এখানেই বেশি।
কেন লিখতে এলেন?
প্রথমত এটা আল্লাহর নিয়ন্ত্রিত ব্যাপার। সবাই তো লিখতে পারে না। যদি তাই হতো বাংলা ভাষার অধ্যাপকরা সবাই লেখক হতেন। প্রথম দিকে সহজাত তাড়নায় লিখতে শুরু করি। অন্যদের উপেক্ষা আর বিদ্রƒপের বেড়া ডিঙিয়ে এক সময় মনে হতে থাকে লেখার মাধ্যমে মানুষের সেবা করা যেতে পারে। মানুষই তো সব। মনকে সুস্থ রাখতে ইতিবাচক ও মহাচিন্তার প্রকাশ ঘটাতে হবে লেখায়। এটা করতেই লিখছি।
নিজের সম্পর্কে যে অভিযোগ মিষ্টি মনে হয়?
লোকটা যুগোপযোগী নয়। বোকাসোকা টাইপের। তখন মনে মনে হাসি। বোকারা কি লিখতে পারে!
কবি জীবনের শেষ ইচ্ছে কী?
অসম অসঙ্গত এ সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন ও কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান ঘটুকÑ এটাই জীবদ্দশায় দেখার ইচ্ছা।
নিজের লেখা কোন বইটি অধিক প্রিয়?
আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থÑ দাঁড়াও স্বকাল বিরূপতা।
পাঠকের ভালোবাসা কেমন পান?
আমি চাকরির সুবাদে পটুয়াখালী ছিলাম কিছুকাল। একদিন সকালে আমার বাসার দরোজায় নক করার পর খুলে দেখি এক ভদ্রলোক একগুচ্ছ রজনীগন্ধা ও এক বক্স মিষ্টি নিয়ে হাজির। পরিচয় দিলেন তিনি আমার লেখার গুণগ্রাহী পাঠক। খুব অবাক হলেও বুঝতে পারলাম আমার পাঠক এতদূর পর্যন্ত আছেন। এরকম অভিজ্ঞতা অনেক আছে। আমার প্রচুর কিশোর ও যুবা বয়সী ছেলেমেয়ে পাঠক আছে। এদের ভালোবাসা পাই বলে শত প্রতিকূলতায় লিখে যাচ্ছি।
কবিতা সম্পর্কে আপনার নিজস্ব সংজ্ঞা কী?
কবিতা বোধের ভাষায় জীবনের গভীরতম প্রকাশ। মানবিক বোধ ইতিবাচকা তাড়নাকে উজ্জীবিত করা বৃহৎ মুক্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ নিনাদ সৃষ্টি করাÑ কবিতার উদ্দেশ্য।
এখনো উজ্জীবিত রাখে যে বাণী?
তোমার আত্মবিশ্বাসকে এমন বলীয়ান করে তোলো যেন আল্লাহ তোমার ভাগ্যলিপি লেখার আগে তোমাকে জিজ্ঞাসা করেন তোমার মনোবাসনা কী বলো! Ñআল্লামা ইকবাল
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মেজবাহ মুকুল


আরো সংবাদ