২৭ নভেম্বর ২০২০

বিশ্বসাহিত্যের টুকিটাকি

-

অরুন্ধতী রায়ের নতুন প্রবন্ধের বই আজাদি
অরুন্ধতী রায়ের পরিচয় লেখিকা হিসেবে যতটা ততটাই তিনি মানবাধিকারকর্মী। তিনি ভারতের বিভিন্ন সরকারের আমলে অনেক কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার উপন্যাসগুলোতেও আছে সেই চিত্রের প্রকাশ। সম্প্রতি ‘আজাদি’ নামে তার একটি প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি কাশ্মিরি সমস্যা, হিন্দু জাতীয়তাবাদ এবং এ পরিস্থিতিতে স্পষ্টবাদী হওয়ার বিপদ নিয়ে নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরেছেন। অরুন্ধতী বরাবরই অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে দেখে এসেছেন। তার প্রথম উপন্যাস ‘গড অব স্মল থিং’ প্রকাশের পরই তিনি লাইমলাইটে চলে আসেন। জিতে নেন বুকার পুরস্কার। ভারতীয় সমাজের নানা অসঙ্গতি তাকে ভাবিয়ে তোলে। নর্মদা ড্যাম নির্মাণের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ, উপজাতি এলাকায় মাওবাদী বিদ্রোহ, কাশ্মিরের সমস্যা দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা ও সেখানে ভারতীয় বাহিনী বর্বর দখলদারি তাকে বিচলিত করে। তিনি প্রতিবাদ করেন। ২০ বছর বিরতির পর ২০১৭ সালে বের হয় তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দি মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস।’ এতে প্রকাশ হয় ভারতের নানা অসঙ্গতির চিত্র। এর ফলে তিনি সরকারের রোষানলে পড়েন। কাশ্মিরের ব্যাপারে এর পরও তার বক্তব্য অটুট। তিনি কাশ্মিরের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ তথা স্বাধীনতার সমর্থক হয়ে পড়েন। তারই প্রকাশ ঘটেছে ‘আজাদি’ নামক বইয়ে। স্বাধীনতার উর্দু প্রতিশব্দ আজাদি কে তিনি বেছে নিয়েছেন বইয়ের নাম হিসেবে, কাশ্মিরিরা যাকে করেছে নিজেদের স্লোগান । কাশ্মিরিদের সমর্থনের কারণে ২০১০ সালে অরুন্ধতীর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ ওঠে, তবে তিনি দমেননি। এই বই তার নতুন প্রমাণ। তিনি বইয়ে বলেছেন, গত ৩০ বছরে ভারত কাশ্মিরিদের সাথে ভারত যা করেছে, তা ক্ষমাহীন, ‘আনফরগিভেবল’। বইটি প্রকাশ করেছে পেঙ্গুইন প্রকাশনা সংস্থা। বইটিতে আরো অনেক কিছু আছে, যা মানুষকে ভাবাবে।

ইয়ান উইলিয়ামসের উপন্যাসে ভিন্নতর স্বাদ
একটি মাত্র উপন্যাস লিখেই নাম করেছেন ইয়ান উইলিয়ামস। কম লেখকের ভাগ্যেই ঘটে এটা। তার এই উপন্যাসের নাম ‘রিপ্রোডাকশন’। ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী কানাডীয় লেখক ইয়ানের এই উপন্যাসে কানাডায় জাাতি ও শ্রেণীগত বিভেদ ও তাদের মধ্যকার যোগাযোগের চিত্র তুলে এনেছেন ভিন্নতর এক স্টাইলে। এর কাহিনী বস্তুকে বলা হচ্ছে একটি ‘আনলাইকলি অ্যাফেয়ার’। এ উপন্যাসের গঠনশৈলী, ফর্ম ও স্টাইল এ পাঠক ভিন্নতর স্বাদ পাবেন। তাই এটি ইতোমধ্যে একটি পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। কানাডার গিলার প্রাইজ। লেখক ব্ল্যাক ও হোয়াইট বলে কথিত জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ লক্ষ করেছেন। এক দিকে আছে দাসত্ব ও অন্য দিকে আছে কালো নারী আর সাদা পুরুষের মধ্যকার মনের আদানপ্রদানের কথা। ফেলিসিয়া ক্যারিবিয়ান মাইগ্রেন্ট ও এডগার জার্মান বংশোদ্ভূত । টরেন্টোতে হাসপাতালে উভয়ের মায়ের চিকিৎসা চলাকালে অ্যাটেনডেন্ট থাকাবস্থায় দু’জনের আলাপ। পরে বিচ্ছেদ, কিন্তু কম বয়সেই এডগারের সন্তানের মা হয় ফেলিসিয়া, হয় সিঙ্গেল মাদার। ৩০ বছর পর আবার হাসপাতালেই তাদের সাক্ষাৎ, তত দিনে সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়েছে এডগার ভেসেকটমির কারণে। এ কারণেই বইয়ের নাম ‘রিপ্রোডাকশন’। পরে এডগার ফেলিসিয়ার সাথে ক্যারিবিয়ায় ফিরে যায়। তাদের সন্তান বৃদ্ধ বয়সে দু’জনেরই দেখাশোনা করে। এই হচ্ছে বইয়ের কাহিনী। লেখকের বর্ণনার গুণে যা অসাধারণ হয়ে উঠেছে।


আরো সংবাদ