২৭ অক্টোবর ২০২০
যে ক থা হ য় নি ব লা

আমার কোনো ব্যর্থতা নেই : কে জি মোস্তফা

-

কেন লিখতে এলেন?
আমি মূলত শিশুদের জন্য লিখতে এলাম। শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে। তাদের হৃদয়কে জাগিয়ে তুলতে। শিশুদের জন্য কিছু বইও লিখেছি আমি। তার পর কবিতা গান প্রচুর লিখেছি। লিখতে লিখতে লিখে ফেললাম বড়দের জন্যও।
লেখালেখি না করলে কী করতেন?
এ প্রশ্নের উত্তর কি দেবো! মনে হয় লেখক ছাড়া আর কিছুই হতাম না।
জীবনের ব্যর্থতার কথা বলুন!
কাজ করতে করতে ব্যর্থতা এবং সফলতার মধ্য দিয়েই জীবনকে পেতে হয়। আমার কোনো ব্যর্থতা নেই। না পাওয়ার হাহাকার নেই। যা পেয়েছি; আলহামদুলিল্লাহ।
লেখক হওয়ার পথে কী কী প্রতিবন্ধকতা জয় করেছেন?
প্রতিবন্ধকতা বলতে কি লেখালেখির শুরুতেই বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় লেখা পাঠাতাম। ছাপা হতো না। ছাপা না হলে আবার পাঠাতাম। এক সময় ছাপা হতো। তার পর সাংবাদিকতা করলাম, সম্পাদক হলাম, গান, কবিতা লিখতেই লিখতেই জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে পৌঁছলাম এই তো।
এখনো অপূর্ণ যে স্বপ্ন?
কোনো স্বপ্নই অপূর্ণ নেই আমার। সরকারি চাকরি করেছি। টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি করার কোনো স্বপ্ন ছিল না। অনেকে চেয়েছে আমার বাড়ি গাড়ি হোক কিন্তু আমি দুই হাতে ঠেলেছি ওসব। আমার স্বপ্ন ছিল সন্তানদের মানুষ করবো এবং করেছিও। আলহামদুলিল্লাহ।
পাঠকের ভালোবাসা কেমন পান?
অজস্র ভালোবাসা এখনো পাই পাঠকের। দিন-রাত ফোন করে। ভালো লাগে। পাঠকের ভালোবাসা বুকে ধরে বেঁচে থাকতে চাই।
যে গল্প এখনো হয়নি বলা?
স্ত্রী হারানোর যে বেদনা সেটা কাউকে বোঝাই কী করে। এ বেদনা বোঝানোর নয়। এ বেদনা অপ্রকাশিতই থেকে যাক। কাউকে বলতে চাই না কোনো দিন।
গান সম্পর্কে কিছু বলেন?
আমাদের ও আমাদের পূর্ব রবীন্দ্র নজরুল ও তার পূর্ব যুগের সেই গানের মধ্যে কাব্যময়তা ছিল। সুর ছিল। আকাশে, বাতাসে, গাছে, মর্মরে, ভ্রমরে, গুঞ্জরে সব জায়গায় সুর। এখনকার গান কোনো গান না। বাদ্যযন্ত্র না ওগুলো যন্ত্রণা। গানের মধ্যে মেলোডি নেই। গানের কথা অশ্লীল। এগুলো সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এর মধ্যে কিছু হচ্ছে না তা নয়। বাংলাদেশে ভালো শিল্পী আছে। তাদের কণ্ঠ অনুযায়ী গান, সুর এখন এগুলো আর তৈরি হয় না। ভালো গীতিকারও নেই। গীতিকার নিজে গান লেখে। নিজে সুর করে। নিজেই গায়। বড় আফসোসের বিষয়!
বারবার কোন বই পড়ার ইচ্ছে তাড়িত করে?
একশ দু’শ’ বছরের আগে লেখা ক্ল্যাসিকেল বই পড়ি। তরুণ বয়সে এগুলো বুঝতাম না। এখন দেখি আরে এগুলোই তো আসল। শিক্ষা-দীক্ষা, অভিজ্ঞতা না থাকলে এগুলো বোঝা যায় না। যেমন শেক্সপিয়র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীন কিযে লিখে গেছে! জীবন চলার প্রান্তে ছুঁয়ে যাওয়া। এখন তো দেখি সব তো ভাঁড়। এসব ক্ল্যাসিকেল লেখা তো আর পাওয়া যায় না। এগুলো খুঁজে খুঁজে পড়ি। প্রবন্ধ লিখি।
কোন বাণী আপনাকে এখনো উজ্জীবিত রাখে?
দু’টি নেয়ামত এমন রয়েছে, অধিকাংশ মানুষ যাতে প্রতারিত; সুস্থতা এবং অবসর Ñ মুহাম্মদ সা:, (বুখারি-৬৪১২)।

জীবন সর্বদাই আনন্দময় : জামসেদ ওয়াজেদ
কেন লিখতে এলেন?
পাঠ্যবইয়ে রবীন্দ্রনাথ নজরুল পড়ে নিজের অজান্তেই লেখালেখির হাতেখড়ি। তখন লিখলামÑ পাথর চাপানো হলুদ ঘাসের মতো
সরাতে চেয়েছি জীবনের যতো ক্ষত/একটি সবুজ আলোকিত পৃথিবীকে/পৌঁছাতে চাই কেবলি চতুর্দিকে।
এই কারণেই মূলত লেখালেখিতে আসা।
লেখালেখি না করলে কী করতেন?
একটা সময় নাটক ও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। দেখলাম তার পেছনে বেশ ছোটাছুটি করতে হয়। তখনকার দিনে আমাদের অনেক রিহার্সেল করতে হতো। কবিতা ও নাট্য অভিনয় একসাথে কঠিন কাজ তাই বলিÑ হয়তো নাট্যকর্মী হতাম।
জীবনের ব্যর্থতার কথা বলুন!
একটা সময় ভাবতাম ‘আমি ব্যর্থ সকল ক্ষেত্রে আর সকল শুধু ব্যর্থে’ কিন্তু আমার এই ধারণা ছিল ভুল। হতাশা ও নিরাশা দু’টি শব্দ একজীবনের চরম শত্রু। জীবন সর্বদাই আনন্দময়।
লেখক হওয়ার পথে যে প্রতিবন্ধকতা জয় করেছেন?
একজন কবিকে তাপবাহী চুল্লিতে পুড়ে পুড়ে কবি হতে হয়। তার চার পাশে শত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তাকে এগুতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
এখনো অপূর্ণ যে স্বপ্ন?
দু’টি চরণ লিখে যেতে চাই যা মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হবে। যেমন লিখেছেন মধ্য যুগের শ্রেষ্ঠ কবি ভারত চন্দ্র ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’।
পাঠকের ভালোবাসা কেমন পান?
আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি বিভাগীয় পত্রিকার সম্পাদক ‘আমার ছায়াবৃত্তে ইতিহাস’ কাব্যগ্রন্থটি হাতে পাওয়ার পর পুরো বইটি পড়েন। এরই মধ্যে বিদু্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে বইটি শেষ করেন এবং তার মাসিক ‘ধূপছায়া’ পত্রিকায় বইটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। ২০০৭ সালে খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক প্রদান করেন। যে পদকটি আমার আগে অর্থাৎ ২০০৬ সালে পেয়েছি কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন এবং ২০০৫ সালে পেয়েছি হুমায়ুন আহমেদ।
যে গল্প এখনো হয়নি বলা?
অনেক গল্প এখনো রয়েছে বাকি/একজীবনের সব কিছু নয় ফাঁকি/সময় করে বলব পরে কথা/একজীবনের সকল ব্যাকুলতা/গল্পগুলো বলব যে কেবল একাকী।
কবিতা সম্পর্কে আপনার নিজস্ব সংজ্ঞা কী?
প্রত্যেক কবির ছন্দবদ্ধ আক্ষরিক সৃষ্টিই হলো কবিতা। ভালো কবিতা মানুষের হৃদয়ে আশ্রিত হয়ে দ্যোতনার সৃষ্টি করে।
বারবার কোন বই পড়ার ইচ্ছে তাড়িত করে?
মহাকবি ফেরদৌসির ‘শাহনামা’ আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’ শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’।
কোন বাণী আপনাকে এখনো উজ্জীবিত রাখে?
নিরাশ হয়ো না যদি মুমিন হও Ñআল কুরআন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ফেরদৌস মুকুল


আরো সংবাদ