০৪ মার্চ ২০২১
`

রাজনীতির কবি

-

“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে/রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন/তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,/হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার/সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?/গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি/এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’’
সাতচল্লিশ বছর আগে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ উত্তাল জনস্রোতে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার এই আহ্বানকারীই হলেন রাজনীতির কবি (চড়বঃ ড়ভ ঢ়ড়ষরঃরপং), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। চেতনা, স্বপ্ন, ভালোবাসা, অসীম ত্যাগ, মহিমান্বিত দেশপ্রেম, ইতিহাস হয়ে ওঠা, সাড়ে সাত কোটি বাঙালির হৃদয়ের অভিধানে লেখা, দোলনচাঁপার গন্ধ বুকে নিয়ে পাঠ করা নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সুদর্শন দীর্ঘ পুরুষ দৃপ্ত অহঙ্কারে, অসীম সাহসে, তেজোদ্দীপ্ত সিংহের মতো কেশর দুলিয়ে বুক চিতিয়ে হাঁটতেন। তাঁর আত্মপ্রত্যয়ী পদচারণায় কেঁপে উঠত চার পাশ, কেঁপে উঠত শোষকের বুক। বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে জড়িয়ে আছে একটি দেশের রক্তাক্ত অভ্যুদয়, শতাব্দীর কান্নাকে পেছনে ফেলে একটি জাতির নবজন্মের ইতিহাস, একটি জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের হারিয়ে যাওয়া পরিচয় উদ্ধারের কাহিনী। তাঁর সংগ্রামী চেতনা রাজনৈতিক অঙ্গনে যেভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে; তেমনি তা সাহিত্য অঙ্গনেও আলোড়িত হয়েছে। সমসাময়িক সাহিত্যিকদের লেখায় শেখ মুজিব উঠে এসেছেন নানাভাবে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কবি-সাহিত্যিকরা তাদের লেখায় বঙ্গবন্ধুকে ফুটিয়ে তুলেছেন অসাধারণভাবে।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা কবিতাগুলোর অন্যতম হলোÑ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা
‘শোনো একটি মুজিবুরের থেকে’ কবিতাটি, যা গান হিসেবে এখনো সমান জনপ্রিয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে/লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি/আকাশে বাতাসে উঠে রণি।/বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।’
বাঙালিদের হৃদয়ে অফুরন্ত আশার সঞ্চার করেছিল। তেমনি অসম্ভব জনপ্রিয় আরেকটি কবিতা লিখেছেন অন্নদা শংকর রায়। তিনি লিখেছেনÑ
“যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা/গৌরী যমুনা বহমান/ততদিন রবে কীর্তি তোমার/শেখ মুজিবুর রহমান।/দিকে দিকে আজ অশ্র“গঙ্গা/রক্তগঙ্গা বহমান/নাই নাই ভয় হবে হবে জয়/জয় মুজিবুর রহমান।”
পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯৭১ সালের অগ্নিগর্ভ সময়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন এই প্রত্যয়দীপ্ত শব্দগুচ্ছেÑ
“মুজিবুর রহমান/ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি উগারী বান।/বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে/জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞ্ঝা অশনি যেয়ে। /... .../ বাঙলা দেশের মুকুটবিহীন তুমি প্রসূর্ত রাজ,/প্রতি বাঙালির হৃদয়ে হৃদয়ে তোমার তক্ত তাজ।”
কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তার ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে চিত্রিত করেছেন এভাবেÑ
“আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি।/সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা/সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সঙ্গীত কবিতা/জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা/রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।/আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো/আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো।”
কবি সৈয়দ শামসুল হক তার ‘আমার পরিচয়’ কবিতায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে লিখেছেনÑ
“এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান?/যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;/তাঁরই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-/চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি।”
কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘প্রচ্ছদের জন্য : শেখ মুজিবুর রহমানকে’, ‘সুবর্ণ গোলাপের জন্য’, ‘শেখ মুজিব ১৯৭১’, ‘সেই খুনের গল্প ১৯৭৫’, ‘ভয় নেই’, ‘রাজদণ্ড’, ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’, ‘মুজিব মানে মুক্তি’, ‘শেষ দেখা’, ‘সেই রাত্রির কল্পকাহিনী’, ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’, ‘শোকগাথা : ১৬ আগস্ট ১৯৭৫’, ‘পুনশ্চ মুজিবকথা’, ‘আগস্ট শোকের মাস, কাঁদো’, ‘প্রত্যাবর্তনের আনন্দ’ প্রভৃতি কবিতা লিখেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা প্রথম কবিতা ‘প্রচ্ছদের জন্য : শেখ মুজিবুর রহমানকে’, ১৯৬৭ সালের ১২ নভেম্বর এ কবিতাটি তিনি যখন লেখেন, তখন মুুজিব কারাগারে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথম কবিতাটি লিখেছিলেন এ কবি। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যতরুণ গোষ্ঠীর একুশে স্মরণিকা ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়’ এ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এটিই ছিল প্রথম প্রতিবাদী কবিতার সঙ্কলন।
আধুনিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বরেণ্য কবি শামসুর রাহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেকগুলো কবিতা লিখেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার ছিল অপরিসীম শ্রদ্ধাবোধ। কবি শামসুর রাহমান ‘যাঁর মাথায় ইতিহাসের জ্যোতির্বলয়’ কবিতায় লিখেছেন,
‘তখন ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়িতে/কয়েকটি কর্কশ অমাবস্যা ঢুকে পড়ল। অকস্মাৎ/স্বপ্নার্দ্র হরিণের আর্তনাদে জেগে ওঠেন তিনি, বঙ্গবন্ধুর/ দীর্ঘকায়, সুকান্ত পুরুষ, যাঁর মাথায় ইতিহাসের জ্যোতির্বলয়,/এসে দাঁড়ালেন, অসীম সাহসের প্রতিভূ।’ ‘ধন্য সেই পুরুষ’ কবিতায় শামসুর রাহমান লিখেছেন, ‘ধন্য সেই পুরুষ নদী সাঁতরে পানি থেকে যে উঠে আসে/ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে;’। তিনি আরো লিখেছেন ‘ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো/দুলতে থাকে স্বাধীনতা, /ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর ঝরে/মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।’
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এককভাবে অধিকসংখ্যক কবিতা রচনা করেন কবি মহাদেব সাহা ‘শেখ মুজিব আমার নতুন কবিতা ‘ নামক কবিতায় কবির ভাষায়,
“আমি আমার সমস্ত কবিত্ব শক্তি উজাড় করে/যে-কবিতা লিখেছি তার নাম শেখ মুজিব,/এই মুহূর্তে আর কোনো নতুন কবিতা লিখতে পারবো না আমি/কিন্তু এই যে প্রতিদিন বাংলার প্রকৃতিতে ফুটছে নতুন ফুল শাপলা-পদ্ম-গোলাপ/সেই গোলাপের বুকজুড়ে ফুটে আছে মুজিবের মুখ/এ দেশের প্রতিটি পাখির গানে মুজিবের প্রিয় নাম শুনি,/মনে হয় এরা সকলেই আমার চেয়ে আরো বড়ো কবি।/শেখ মুজিবের নামে প্রতিদিন লেখে তারা নতুন কবিতা/মুজিব গোলাপ হয়ে ফোটে, লালপদ্ম হয়ে ফোটে হৃদয়ে হৃদয়ে;/আমার না-লেখা প্রতিটি নতুন কবিতাজুড়ে গাঁথা আছে তার নাম, তার মুখচ্ছবি/লিখি বা না-লিখি শেখ মুজিব বাংলা ভাষায় প্রতিটি নতুন কবিতা।”
আমিরুল ইসলামের কবিতায়Ñ
‘নীল আকাশের তারায় তারায়/মুগ্ধ আমার দু’চোখ হারায়/ঘাসের বনে-কাশের বনে/একটি ছবি থমকে দাঁড়ায়/শীষে-শীষে হলদে ধানের/সুরে সুরে পাখির গানের/ছবিটা কার? ছবিটা কার?/শেখ মুজিবুর রহমানের।’
আনজীর লিটন বঙ্গবন্ধুকে তৎকালীন সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশীর ছায়া হিসেবে দেখেছেন। খাঁ খাঁ করা রোদে পথিক ক্লান্ত হয়ে ছায়াশীতল বটবৃক্ষের নিচে বসে জিরোয়। সে সময় ক্লান্তি-অবসাদ দূর করতে বটগাছে বসা দোয়েলের শিস ও মধুর লাগে। কবি আনজীর লিটন তার ‘তিনি আমাদের’ নামক কবিতায় উপর্যুক্ত সব বৈষয়িকে বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পান। কবির ভাষায়,

‘কখনো কখনো একটা মানুষ কোটি মানুষের ছায়া/বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর তেমনই একটা মায়া।/মায়ায় জড়ানো ছায়ায় মেশানো/যেমন বটের ডালে/ডানা মেলে বসে অচেনা পাখিরা/ছন্দসুরের তালে-/গেয়ে গেয়ে গান নিজেকে জুড়োয়/পথিক জুড়োয় ঘাম/বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর/তেমনই বটের নাম।’
সিঁড়ি কবিতায় রফিক আজাদ ১৫ আগস্টের ঘটনা বলতে গিয়ে লেখেনÑ
‘এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,/সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে.../বত্রিশ নম্বর থেকে/সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে/অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে’। এই কবিতায় তিনি আরো লিখেছেনÑ ‘তাঁর রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে,/সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ:/তাঁর ছায়া দীর্ঘ হতে-হতে/ মানচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে, আদরে!/তাঁর রক্তে সব কিছু সবুজ হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বেশ কিছু সঙ্কলিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। বাঙালির স্বপ্নের সারথি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতা ছড়া নিয়ে যে কয়েকটি সঙ্কলিত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, তন্মধ্যে বেবী মওদুদ সম্পাদনা করেন একটি সঙ্কলন। এ ছাড়া বিশাকা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘মুজিব মঙ্গল’ নামে ২২ কবির কবিতাসংবলিত একটি কাব্য সঙ্কলন। কবি ও প্রাবন্ধিক সুমন্ত রায় অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশ করেছেন ‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত শ্রেষ্ঠ কবিতা’ নামক একটি সঙ্কলিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন কবি, প্রাবন্ধিক, সংগঠক ও রাজনীতিবীদ নূহ-উল-আলম লেনিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের কবিদের কবিতা নিয়ে একটি গ্রন্থ ‘দুই বাংলার কবিতায় বঙ্গবন্ধু’, সম্পাদনা করেছেন প্রত্যয় জসীম, প্রকাশিত হয়েছে একুশের বইমেলা ২০১০-এ। মোট ৮৫ জন কবির কবিতা রয়েছে গ্রন্থটিতে। মোনায়েম সরকারের সম্পাদনায় বঙ্গবন্ধুর ওপর খ্যাতিমান ও তরুণ পাঁচ শ’ কবির লেখা কবিতা সঙ্কলন ‘মুজিব মানে মুক্তি’ একটি বই প্রকাশ করেছে পারিজাত প্রকাশনী। এ ছাড়া প্রবাস প্রকাশনী থেকে ২০০৭ সালের মার্চে প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা সঙ্কলন ‘বাংলাদেশের আকাশ’। যে বইটির সম্পাদনা করেছেন কাজল রশীদ।
এ ছাড়া কবি সুফিয়া কামাল, হাসান হাফিজুর রহমান, বনফুল, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত, কবীর চৌধুরী, আল মাহমুদ, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আবদুল গাফফার চৌধুরী, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আবুল হোসেন, রোকনুজ্জামান খান, শহীদ কাদরী, বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, মুহম্মদ নুরুল হুদা, আসাদ চৌধুরী, লুৎফর রহমান রিটন, আবু হাসান শাহরিয়ার, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, রুবী রহমান, নাসির আহমেদসহ অনেক বিখ্যাত কবির কবিতায় বঙ্গবন্ধু চিত্রিত হয়েছেন তার কর্মের মহিমায়।
নয়াদিল্লির সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত মনিপুরের অন্যতম শীর্ষ কবি এলাংবম নীলকান্ত তার ‘তীর্থযাত্রা’ গ্রন্থে ‘শেখ মুজিব মহাপ্রয়াণে’ কবিতায় লিখেছেনÑ
‘হে বঙ্গবন্ধু/নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে নিহত হয়েছো শুনে/পেরিয়েছি আমি এক অস্থির সময়/খোলা জানালা দিয়ে সুদূর আকাশের দিকে/পলকহীন তাকিয়ে থেকেছি/উত্তরহীন এক প্রশ্ন নিয়ে/বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে গড়ে তুলেছিলে স্বদেশ তোমার/কিন্তু এ কোন প্রতিদান পেলে তুমি।’।
ত্রিপুরার কবি রামপ্রসাদ দত্তের ‘ইয়াহিয়া খান তাণ্ডব নৃত্য’ শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১২৪ পঙক্তির একটি দীর্ঘ পালাগান লিখেছিলেন। তার ছত্রে ছত্রে এসেছে শেখ মুজিবÑ
‘আছেন শেখ মুজিবুর ভাই জয় বাংলাদেশে/শাসনতন্ত্র গঠন করে মনের উল্লাসে।’
এ ছাড়াও পশ্চিম বাংলার বনফুল, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, রাজলক্ষ্মী দেবী, মনীষ ঘটক, অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত, বিমলচন্দ্র ঘোষ, দীনেশ দাস, দক্ষিণা রঞ্জন বসু, করুণা রঞ্জন ভট্টাচার্য, অমিয় মুখোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র কুমার গুপ্ত, নলিনীকান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, নির্মল আচার্য, বিভূতি বেরা, অমিত বসু, শান্তিময় মুখোপাধ্যায়, শান্তিকুমার ঘোষ, গোলাম রসুল, অমিতাভ দাশগুপ্ত, তরুণ সান্যাল, দেবেশ রায়, গৌরী ঘটক, রাম বসু, তারাপদ রায়, মনীন্দ্র রায়, বিনোদ বেরা, অমিতাভ চৌধুরীসহ আরো অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। বিদেশীদের সেসব কাব্যমালায়ও বঙ্গবন্ধু মূর্ত হয়ে উঠেছেন। মার্কিন লেখক রবার্ট পেইনের ‘দ্য চর্টার্ড অ্যান্ড দ্য ডেমড’, সালমান রুশদীর ‘মিডনাইট বিলড্রেম’ এবং ‘শেইম’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব পশ্চিম’, জাপানি কবি মাৎসুও শুকাইয়া, গবেষক ড. কাজুও আজুমা, প্রফেসর নারা, মার্কিন কবি লোরি অ্যান ওয়ালশ, জার্মান কবি গিয়ার্ড লুইপকে, বসনিয়া কবি ইভিকা পিচেস্কি ও ব্রিটিশ কবি টেড হিউজসহ বিভিন্ন বিদেশী লেখকদের কবিতায় বঙ্গবন্ধু উপস্থাপিত হয়েছেন নানাভাবে। হ



আরো সংবাদ