১২ আগস্ট ২০২০

নতুন ধারার অমর শিল্পী

-
24tkt

‘কবিদের কাজ হলো মানুষের মধ্যে স্বপ্ন সৃষ্টি করা। সেই স্বপ্ন কল্পনাতে জাগিয়ে তুলবে, স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন প্রবিষ্ট করিয়ে এগোতে থাকবে। কখনো স্বপ্ন নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আসলে দুঃস্বপ্নও স্বপ্নেরই নামান্তর মাত্র। পৃথিবীতে দুঃস্বপ্নেরও একটা ভাষা আছে। নিয়ম ও রীতি-পদ্ধতি আছে। এ সব থেকেই ভাষার গঙ্গা বহমান।’ কথাগুলো বলেছেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক কবিকণ্ঠ আল মাহমুদ। আল মাহমুদকে আমরা কবি হিসেবে সবচেয়ে বেশি জানি। তিনিও নিজকে কবি হিসেবে পরিচয় দিতে অতি মর্যাদাবান ব্যক্তি মনে করতেন। তিনি কবি, তিনি শ্রেষ্ঠ কবি। এই সময়কার প্রধান কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
কবি আল মাহমুদ শুধু একজন শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন, তা নয়। তিনি কবিতা, কাব্য রচনার পাশাপাশি ছড়া, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সৃজনশীল লেখক। কথাশিল্পেও তিনি তাঁর স্বাতন্ত্র্য শিল্পমণ্ডিত। আল মাহমুদ একজন প্রধান কবি নন, সেরা গদ্যশিল্পী এবং সেরা কথাকোবিদও বটে। তাঁর গদ্যশৈলীর প্রকরণ ও স্বচ্ছ সলিলা প্রবাহের পরিচয় পাঠক ইতঃপূর্বে পেয়েছেন। যেমনÑ যেভাবে বেড়ে উঠি, আগুনের মেয়ে ময়ূরীর মুখ, প্রবন্ধগ্রন্থ দিনযাপন, পানকৌড়ির রক্ত, ডাহুকি, কবির আত্মবিশ্বাস, নিশিন্দা নারী, মরু মুশিকের উপত্যকা, গল্পগ্রন্থ গন্ধবণিক, প্রবন্ধ কলাম নারী নিগ্রহ, উপন্যাস কবিলের বোন, পুরুষ সুন্দর, উপমহাদেশ, সৌরভের কাছে পরাজিত, নদীর সতীনও যে পাবো ভুলিয়ে দাও প্রভৃতি প্রবন্ধ-গল্প-উপন্যাস। গল্প সঙ্কলন পানকৌড়ির রক্ত, উপন্যাস নিশিন্দা নারী, কাবিলের বোন এবং উপমহাদেশ আল মাহমুদকে দিয়েছে অতুলনীয়Ñ কথাশিল্পীর সুখ্যাতি। তাঁর কথা শিল্পের সেরা ও সর্বশেষ নিদর্শন হচ্ছে ‘পোড়া মাটির জোড়া হাঁস’ উপন্যাস।
‘পোড়া মাটির জোড়া হাঁস’ শব্দ বন্ধ শুনলেই মনের কোণে কেমন যেন একটা সঙ্গীতময় ধ্বনির অনুকরণ টের পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের ও মেজাজের গল্পের ও চরিত্রের আয়োজন। ‘পোড়া মাটির জোড়া হাঁস।’ বরং সচেতন পাঠকসমাজ অনুভব করে থাকবেনÑ ধর্মতত্ত্বের সৃজনরহস্য। পবিত্র কুরআন পাকে সূরা আর রাহমানে লেখাÑ ‘খালাকাল ইনসানা মিন সালসালিন কাল ফাখখার’ স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুকনা মাটি থেকে। এ বাক্যটি আমাদের হৃদয়ে সবসময় দোলা দেয়। জোড়া হাঁস ভালোবাসার প্রতীক। পোড়া মাটির জোড়া হাঁস সত্যিকার অর্থে হজরত আদম ও বিবি হাওয়া নির্বিশেষে নর-নারীর রূপক। এক অসাধারণ কাব্যিক দ্যোতনা ও চিত্রকল্পের নাম ‘পোড়া মাটির জোড়া হাঁস’।
এক অসাধারণ প্রতিভার জন্মগত সৃষ্টি কবি আল মাহমুদের জন্ম ১৯৩৬ সালে ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মোড়াইল গ্রামের মুলক বাড়িতে। দাউদকান্দি থানার জগৎপুর গায়ের সাধনা হাইস্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি। তাই জন্মগত কবিপ্রতিভা ও সাহিত্য সৃষ্টি এক অনবদ্য দক্ষতা আল মাহমুদকে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী কবি আল মাহমুদ মাত্র দু’টি কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’-এর জন্য ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কবি আল মাহমুদ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ‘গণকণ্ঠ’ নামক একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সম্পাদক থাকাকালীন তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৭৫ সালে জেল থেকে মুক্তি পান। ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। কবি আল মাহমুদ বেশ কয়েকটি পত্রিকা ও সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
ছড়া, কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনায় পারদর্শী ছিলেন। আল মাহমুদের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি। তিনি তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৮১ সালে শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে অলক সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯০ সালে নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, ১৯৮৪ সালে হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৯ সালে ‘আবুল কাসেম হায়দার লেখালেখি সাহিত্য পুরস্কার’ অর্জনে সম্মানিত হন।
কবি ছিলেন খুবই সৌখিনচেতা মানুষ। বইপড়া ছিল কবির অতি প্রিয় অভ্যাস। ভ্রমণকে তিনি খুবই পছন্দ করতেন। পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের যোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন কবি আল মাহমুদ। সৈয়দ নাদিরা বেগম কবির প্রিয় সহধর্মিণীকে তাঁর মৃত্যুর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে হারান। কবির নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ থাকলেও তিনি কবি আল মাহমুদ নামে সবার কাছে সুপরিচিত।
আল মাহমুদের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ বাংলা ভাষাবাসীদের নতুন মাত্রায় নিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাপ্রেমীদের কাছে আল মাহমুদ অত্যন্ত শ্রদ্ধার, সম্মানের বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি নিজকে কবি হিসেবে পরিচয় দিতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন, অহঙ্কার করতেন, আনন্দ পেতেন। তাই তিনি লিখেছেনÑ ‘মানব ভাষার জন্য কাব্যের উপাদান আহরিত হয় প্রকৃতি, গাছপালা, ফুল, পাখিÑ এই সব পরিবেষ্টিত সৌন্দর্যের মধ্য থেকে, কেউ কথা বলে না। কেবল কবি আপন মনে বাক্য উচ্চারণ করেন। শব্দের ঘনঘটায় তার হৃদয় নাচতে থাকে যেন ময়ূরী পেখম ধরেছে এভাবেই সৃষ্টিকর্ম সম্পাদিত হয়। কবিরা যতটা নিবিষ্টচিত্তে পরিশ্রম করেন। সেটাই পরবর্তীকালে তাকে অমরত্ব দান করে। ভাষা এমনিতে কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কিন্তু কবি যখন কাজ করেন তখন ভাষা হয়ে উঠে তার অত্যন্ত নিজস্ব এক ভাব ব্যক্ত করার বাহন। মনে হবে ভাষাটা আর দশজনের মতো সবার সম্পত্তি নয়। এতে শুধু কবিরই অধিকার আছে। কবিতা নির্মাণে কত রহস্যই আমাদের এখনো আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারছে না। কবিতা লেখা হচ্ছে, মুখে মুখে সঞ্চারিত হচ্ছে আর ক্রমাগত রস নিংড়ে জমা হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কে। চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে কবির গৌরবগাথা। কিন্তু কবি তো একজন মানুষ মাত্র, তার আয়ুষ্কাল আছে মৃত্যু আছে এবং অবসান আছে। কিন্তু কবিতার কোনো অবসর বা ক্লান্তি থাকলে চলে না। কবিতার রস সবসময় প্রকৃতিকে প্ররোচিত করে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরতে থাকে। যে কবি যত বেশি তন্ময় হয়ে শব্দের সঞ্চয়কে উজাড় করে দিতে পারে তিনি তত সার্থক।’
তাই কবি আল মাহমুদের কবিতা আমাদের সবসময় নতুন আশা জাগায়। পাঠককে করে মোহিত। নতুন চেতনায় পাঠক তার জ্ঞানের পরিধিকে বাড়াতে পারে। তার, ভাষা শব্দ ও চিন্তার জগতে কবি আল মাহমুদের কবিতা সবসময় পাঠকসমাজকে আলোড়িত করে। কবি বলেনÑ
‘আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশ।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?
Ñহাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।

এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না।’

কবি আল মাহমুদ যৌবনের একটি বিরাট সময় বাম আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তার লেখনির প্রথম দিকের মধ্যে অনুরূপ চর্চার যথেষ্ট ধারণা আমরা পাই। কিন্তু জীবনের একপর্যায়ে কবি আল্লøাহ পাকের মহান সৃষ্টির প্রতি, অতি বেশি ও প্রয়োজনীয় বিশ্বাস, আস্থা ও চর্চার ধাপে পদার্পণ করেন। তিনি হজব্রত পালন করেন। নিজকে সম্পূর্ণরূপে আল্লøাহপাকের কাছে সমর্পণ করে হজ পালনকালে কাবা ঘরে মুনাজাতকালে অবলীলায় বলেন, ‘হে চির সম্মানিত, চির পবিত্র মসজিদের মালিক, আমি এক গরিব কবি! এশিয়ার এক দরিদ্র দেশ থেকে তোমার ডাকে হাজির হয়েছি। হাজার হাজার নর-নারীর সাথে আমার হাজিরা ঘোষণা করেছি। মিনায় তোমার পুণ্যভূমিতে অবস্থান করেছি। আরাফাতের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আমার পর্বতপ্রমাণ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থন করছি। হে আমার একমাত্র প্রভু, বিতাড়িত শয়তান যেখানে হজরত ইসমাইল আ: প্ররোচনা দিয়েছিল সেই চিহ্নিত স্থানে পাথর নিক্ষেপ করেছি এবং শয়তানের প্রতি আদম সন্তানদের গভীর ঘৃণা প্রত্যক্ষ করেছি। কাফনের মতো সেলাইবিহীন দু’টুকরো সাদা কাপড় পরিধান ও মস্তক মুণ্ডন করেছি। তোমার ঘর প্রদক্ষিণ করেছি। আমাকে ক্ষমা করো। আমার বাবা-মাকে ক্ষমা করো। আমার প্রিয়তমা স্ত্রী ও সন্তানদের গুনাহ মাফ করে দাও।’
কবির লেখা ‘একটি চুম্বনের জন্য প্রার্থনা প্রবন্ধ থেকে উল্লিখিত অংশটুকু কবির মনের, চিন্তার, চেতনায় ও বিশ্বাসের গভীর প্রকাশ। কত বেশি তিনি আল্লøাহ পাককে ভালোবাসতেন তাই পবিত্র মুনাজাতে আমাদের চিন্তা-চেতনাকে মোহিত করে।
কবি আল মাহমুদ স্বশিক্ষিত স্রষ্টা প্রদত্ত মেধা ও প্রতিভা বলে বলীয়ান ছিলেন। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করার সুযোগ পাননি। অনুরূপ আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামও স্বশিক্ষিত, আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিভার সৃষ্টির বড় নমুনা। তেমনি কবি ফররুখ আহম্মদ আমাদের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রেনেসাঁর কবি, উচ্চশিক্ষা লাভ করার সুযোগ পাননি। কিন্তু প্রতিভার, জ্ঞানের সাহিত্যের গভীরতার ছিলেন এ সব কবির অনবদ্য সৃষ্টি।
বাংলা সাহিত্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের পর আমরা সবসময় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে বিবেচনা করি। নজরুলের পর পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রতিভার স্বীকৃতির পর আমাদের প্রধান কবি আল মাহমুদ তার স্বীয় যোগ্যতাবলে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে রয়েছেন। কবি আল মাহমুদের কবিতা, গল্প, উপন্যাস নানা বিষয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন। অনেক অনেক বেশি গবেষণার মাধ্যমে আমাদের তরুণ সমাজ আরো বেশি সাহিত্যচর্চায় উদ্দীপ্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠ্যসূচিতে কবি আল মাহমুদের উপস্থিতি আরো বেশি সাহিত্যমোদীরা ও সুশীলসমাজ আশা করছে। কবির জন্ম দিনে আমাদের প্রত্যাশা কবির সাহিত্যচর্চা হোক গভীরভাবে।
কবি আল মাহমুদ লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস ও নানা বিষয়ে প্রবন্ধ। কিন্তু কবি আল মাহমুদ গান লেখেন নাই। কেন তিনি গান লেখেননি, তা আমার জানা নেই। বাংলা সাহিত্যের বড় বড় সকল কবি গান লিখেছেন। আমাদের প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসংখ্য গান লিখেছেন। গজল লিখেছেন। এমনকি তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি কীর্তন। অসাধারণ সৃষ্টিশীল কবি কাজী নজরুল ইসলাম গানে আজো আমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান ও কবিতায় বাংলা সাহিত্যে সমান স্থান দখল করে আছেন।
কেন কবি আল মাহমুদ গান লিখেননি তার তথ্য আজো প্রকাশ হয়নি, হয়তো কেউ এই অজানা তথ্য আমাদের জানাবেন। তবে মতিউর রহমান মল্লিকের সাথে এক সাক্ষাতকালে কবি আল মাহমুদ কেন গান লিখেননি, তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এক প্রশ্নের জবাবে কবি আল মাহমুদ বলেন, ‘এটা আমি অস্বাভাবিকভাবে দেখি না, স্বাভাবিকভাবেই দেখি। কারণ যারা প্রকৃত কবি তারা যদি গীতিকার হয় গান লেখে তাদের অনেক মোহনীয় বিষয় উপস্থাপন করতে পারে এবং মল্লিøক এতে পারঙ্গম ছিল, এটি করার ক্ষমতা ছিল তাঁর।’
কবি আল মাহমুদ আপাদমস্তক একজন কবি ছিলেন। তাই তিনি কবিতাকে অধিক ভালোবাসতেন। কবিতা লিখতে, আবৃত্তি করতে বেশ মজা পেতেন। কবিতা আবৃত্তি শোনে নিজে আনন্দ পেতেন। কবিদের উৎসাহিত করতেন। নিজকে কবি বলে পরিচয় দিয়ে অতিশয় আনন্দ অনুভব করতেন। তাই কবিতা তার অতি প্রিয় ছিল। সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থে কবি লিখেন, কবিতা এমন শিরোনামেÑ
‘কবিতা তো কৈশোরের স্মৃতি। সে তো ভেসে ওঠা স্নান
আমার মায়ের মুখ; নিম ডালে বসে থাকা হলুদ পাখিটি
পাতার আগুন ঘিরে রাত জাগা ছোট ভাই বোন
আব্বার ফিরে আসা, সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনিÑ রাবেয়া রাবেয়াÑ
আমার মায়ের নামে খুলে যাওয়া দক্ষিণের ভেজানো কপাট!
তাই আল মাহমুদ তার কবিতার জন্য অমর হয়ে থাকবেন আমাদের মাঝে যুগ যুগ ধরে, অনন্তকাল। নতুন ধারার সাহিত্য সৃষ্টি আল মাহমুদকে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব।

 


আরো সংবাদ