১৩ জুলাই ২০২০

নাদিয়ার জন্য করোনামুক্তির প্রার্থনা

-

মানবতার শত্রু মরণঘাতী করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রঙ্কস জু’তে কিশোরী বাঘ নাদিয়া (৪) আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুন্দরবনের প্রাণীকুলের সংগঠন ‘বাঘ বানর হরিণ কুমির’ (বাবাহকু) সংঘ। নাদিয়ার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর বিশ্ব মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার পর প্রথম বিষয়টি বাবাহকুর তথ্য ও প্রচার সেলের দৃষ্টিতে আসে। সংঘের প্রচার প্রধান হরিণা হাপান তৎক্ষণাৎ প্রেসিডিয়াম প্রধান, রয়াল বেঙ্গল টাইগার গ্রুপের বর্ষীয়ান নেতা, সুন্দর মিয়ার সদয় দৃষ্টিতে আনেন। সুন্দর মিয়া এখন কচিখালিতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনে আছেন। বঙ্গোপসাগর উতাল হওয়ার সময় এগিয়ে আসছে। সামনে মে মাস, ‘নিকটকালে আইলা মহাসেনরা এই মে মাসেই সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি করবার আইছিল, আমাগো তাই আগে ভাগে সতর্ক হওয়া লাগবানে’ ক্ষুদে বার্তায় সুন্দর মিয়া তার বাবাহকু পর্ষদের, ‘বনেজঙ্গলে’র (আইন সভা) নি¤œ ও উচ্চকক্ষের সব সদস্যকে সেদিন জানিয়েছেন। কচিখালিতে তার গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্রেও তিনি প্রতিদিন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো পদ্ধতি প্রক্রিয়ায় সভা করে চলেছেন দূরের ও কাছের সবার সাথে। এর মধ্যে নাদিয়ার এই খবর। নাদিয়া মালয় প্রজাতির বাঘ, কিন্তু সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের সাথে তাদের সখ্য বহুদিনের। ‘আমার ঠাকুরদা একবার মেকং থেকে ফেরার পথে মালয় ঘুরে এসেছিলেন। বড্ড বড় খাতির করেছিলেন তারা। আহারে নাদিয়া বেচারা! এখন কেমন আছে সে?’ সুন্দর মিয়ার মতো কঠিন মনের নেতার চোখেও জল।
সুন্দর মিয়া সাথে সাথে সংসদ ‘বনেজঙ্গলে’র অধ্যক্ষ শিয়ালেন্দু মামাইয়াকে অনতিবিলম্বে জরুরি অধিবেশন আহবানের নির্দেশ দিলেন। করোনাভাইরাস নামের ধূর্ত প্রকৃতির ভাইরাস ছোটপীরদের (মানুষকে বাঘেরা ছোটপীর বলে জানে) জন্য বেশ বেকায়দা অবস্থার সৃষ্টি করে চলেছে এটা বাবাহকুর গোয়েন্দা বিভাগ ইতোমধ্যে সুন্দর মিয়াকে ব্রিফ করেছে। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক হওয়ার বাহানায় করোনা তার সম্প্রদায়কেও আঘাত করবে এটা তিনি ভাবতে পারেননি। দূরদর্শী নেতা সুন্দর মিয়া প্রমাদ গুনলেন। বনেজঙ্গলের জরুরি অধিবেশনে বাবাহকুর সব কমিটি, গবেষণা পর্ষদ ও পণ্ডিত প্রবরদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বললেন। সুন্দর মিয়ার সদর দফতর থেকে তৎক্ষণাত একটি ফরমান জারি হয়ে গেল আসন্ন অধিবেশনের কার্যপরিধির একটা নিশানা দিয়ে। সময়াভাবে এবং করোনায় সংক্রমণের ভয়ে ফরমানটি প্রচলিত ভাষা-ভঙ্গিমায় মুসাবিদা মুদ্রণ করা হলো না। সুন্দর মিয়ার ‘জবানী বার্তা’ হিসেবেই গেল সেটাÑ
‘বাবাহকুর সকল সদস্য আমাত্য ও বিজ্ঞজনদের অত্যন্ত ব্যথা ভারাক্রান্ত হয়ে উদ্বেগের সাথে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাতে চাই। বিশ্বের সবখানে ছড়িয়ে থাকা আমাদের কারো কারো ওপর করোনা বোন বোন না ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাচ্ছি। সকলে জানেন সেই প্রাগতৈহাসিক কাল থেকে গায়ে গতরে ছোট হলেও বুদ্ধিতে পাকা ছোটপীরদের বাড়াবাড়ি সীমালঙ্ঘনের কারণে তাদের ওপর বেশ কিছু দিন পরপর নেমে আসত দুর্যোগ, কেউ যাকে বলে গজব, কেউ বলে মহামারী। নিজেরা এ সবের কারণ সৃষ্টি করে প্রায়ই তারা দোষটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিত। কখনো আমাদের ইঁদুর ভাইদের, কখনো বাদুড়, বনরুই, কখনো সাপ, শুয়োর গংদের ওপর এসব ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ আনা হতো। এবার চালাকি করে সরাসরি বলতে পারছে না, কিন্তু ইতোমধ্যে কোনো কোনো দেশে আমাদের কাউকে না কাউকে অপদস্ত বা নিষেধের পাঁয়তারা চলছে। গত পরশু বাদুর সম্প্রদায়ের নেতা বাদুরিয়া বাদান আমার কাছে এসেছিলেন, জানালেন আমাদেরই কাছের লোকালয়ে বাদুরের মধ্যে নাকি এই নব ভাইরাসের উৎস পাওয়া গেছে। বাদুরিয়া জানালেন এমনিতে কি এক নিপাহ ভাইরাসের জন্য আমরা দায়ী কিনা সে সম্পর্কে মামলা মোকদ্দমা চলছে, তার ওপর এখন করোনার দায় যদি আমাদের ওপর চাপানো হয় তাহলে আমরা আর বাঁচব তো? বাদুরিয়া আমার বহু দিনের সহযোগী, আমাদের মূল্যবান শরিক দলনেতা, অনেক সংগ্রামের সময় আমরা এক সাথে কাজ করেছি। আমি তাকে শান্ত হতি বলিছি। আমার মনে পড়ছে বাদুড় বনাম নিপাহ ভাইরাস মোকদ্দমায় আমাদের পাশের লোকালয়ের মাথামোটা একজনকে বলেছিলাম নিপাহ ভাইরাসের দোষটা খালি খালি আমাদের বাদুড় ভাইদের ওপর চাপাবেন না, কিন্তু তিনি আমার কথা শুনলেন না, তিনি শুনলেন ... যাক সালিশাধীন বিষয়ে বেশি বলার সময় এটা না।
কিন্তু এখন আমি যে খবর পেয়েছি তাতে আমাদের সকলের ওপর ভাইরাসের সুক্ষ অথচ সরাসরি আক্রমণ মনে করতিছি গো। এতদিন আমরা এসব ভাইরাসের উৎস কিনা এসব মামুলি অভিযোগে অভিযুক্ত হতাম এখন দেখছি করোনাভাইরাস আমাদেরকেও আক্রমণ করতি সাহস পাতিছে গো। আপনারা ভেবে দেখেন এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেনে। এর ওপর আমাদের সকলের বুদ্ধি পরামর্শ দরকার। আমরা যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে সব সময় সকলে মিলেমিশে চলি, এরকম সময় আমরা কোনো দলাদলিতে যাই না- এবারও তাই করতি চাচ্ছি গো। আমাগো মধ্যি ভাইরাস বিশেষজ্ঞ আছেন, আছেন রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ গবেষক কর্মী সংঘ। আমাগো স্ব স্ব সেবা বাহিনীকে বলিছি বিশ্বব্যাপী আমাদের গোত্রভুক্ত সকলে কে কেমন আছে তার খোঁজখবর করতে। ছোটপীরদের পোষ্য হিসেবে, তাদের প্রযতেœ আমাদের অনেকে আছেন, এখন ছোটপীররা যদি গৃহবন্দী হয়ে খাবার দাবারে কষ্টে পড়েন, টানাটানিতে পড়েন তাহলে তাদের পোশা হিসেবে আমাদের যারা আছেন তারাও নিশ্চয়ই খাবার টানাটানিতে পড়বেন। গত রাতে আমার জানাশোনা একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি আমাকে জানাচ্ছিলেন তিনি শান্ত, দুরন্ত, বিউটি ও মিনি নামের চার বিড়ালকে দৈনিক খাবার দিতেন। কয়েক দিন আগে শান্ত কোথায় হারিয়ে গেছে না তাকে কেউ গুম করেছে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়েই শান্ত হারিয়ে গেল। এখন শান্তর ভাই দুরন্ত এবং তাদের মা বিউটি প্রায়ই মন খারাপ করে থাকে, সুদূর নিউইয়র্ক (ব্রঙ্কস জু যেখানে নাদিয়া মা মনি করোনা আক্রান্ত) থেকে ওনাদের নাতি নাতনীরাও শান্ত দুরন্তদের খোঁজখবর নেয়। করোনার কারণে বাসায় রান্নাবাড়ায় ভাটা পড়ায় মা ছেলে ও তাদের স্বজন মিনিকে আগের মতো খাবার দিতে পারছেন না তারা। দুরন্তরা অন্য জায়গা থেকে আগে চেয়ে চিন্তে যা খেত বা কিছু পেত এখন তেমন কিছুই বলতে গেলে মিলছে না। দুরন্ত, বিউটিদের কষ্টের কথা আমরা বুঝতি পারতিছি, কিন্তু কি করব। আসুন আমরা সবাই বসি, একদিকে ভাইরাসের ভয় আরেক দিকে আমাদের স্বজাতিদের খাদ্য সংকট, যতœ আর্থির সংকট, সামনের দিনগুলো আমাদের কিভাবে কাটাবানে সেসব নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের তথ্য ও বার্তা বিভাগ প্রধানকে বলিছি মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ রাখতি, তবে তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা লাগবেনে, উল্টা পাল্টা খবর যাতে না দেয়। শোনা যাচ্ছে লোকালয়ে নানান কেসমের গুজব ও কর্মসূচি চলমান আছে। সেখানে সমাবেশ বন্ধ, একসাথে হতি পারবে না, আপনজনের অসুখ হলি তাগো একঘরে করা হচ্ছে গো। অবস্থা খুব বেগতিক দেখতিছি। কেম্মায় কি যে হবানে। তবে আমাগো এখন মনোবল ভাঙলি চলবে নানে। মন শক্ত রাখতি হবে। করোনা আমাগো ওপর কোনো কারণে নাখোশ হুয়েছে কিনা তা দেখতি বলিছি। তার সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব কিনা আমাগো আপন পর সম্পর্কবিষয়ক ফিটফাট কুটুকান্ত বাবুকে দেকতি বলিছি ।’
বাবাহকুর প্রেসিডিয়াম প্রধান সুন্দর মিয়ার নাতিদীর্ঘ নোট অনুযায়ী বনেজঙ্গলের অধ্যক্ষ শিয়ালেন্দু মামাইয়া বিশেষ অধিবেশন ডাকেন গত পরশু। স্বাগত ভাষণ হিসেবে সুন্দর মিয়ার জবানবার্তাটি সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর বিশ্ব সংবাদ সংস্থা ‘উবিসস’ ( উড়ো বিভ্রান্তকর সংশয় সন্দেহ) এর তৈরি করোনাভাইরাসের ওপর একটি তথ্য চিত্র দেখানো হয়।
পণ্ডিত শিয়ালেন্দু মামাইয়া স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় অধিবেশন শুরু করে প্রথমেই নিখিল বাদাড় ইনস্টিটিউট অব রোগ বালাইয়ের প্রধান পরিচালক অসুখা নিরামতিকে তার প্রতিবেদন পেশের আহবান জানালেন। অসুখা নিরামতি অত্যন্ত শৌখিন ও সুবাচ্য বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমধিক পরিচিত। সংক্রামক অসংক্রামক ব্যাধিনিচয়ের ওপর তার বিশ্ব ডিগ্রি আছে, ভাইরাস গবেষণায় তাকে অথরিটি মনে করা হয়। তার তথ্য উপাত্ত ও ( মনগড়া নয় এমন) পরিসংখ্যানসহকারে দেয়া বক্তব্যকে সবাই অকাট্য ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে জ্ঞান করে। অসুখা নিরামতি শুরু করলেন নাদিয়ার প্রসঙ্গ দিয়েÑ
‘ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির ব্রঙ্কস জু এক বিবৃতিতে প্রথম জানিয়েছে তাদের চিড়িয়াখানায় নাদিয়া নামের যে কিশোরী বাঘের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে তার শুকনো কাশি হয়েছে। এর আগে বিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। এবার প্রথম বাঘের শরীরে ধরা পড়ল সেই ভাইরাস। চিড়িয়াখানায় নাদিয়া ছাড়াও আরো পাঁচটি বাঘ ও সিংহের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)। তবে চিড়িয়াখানার অন্য প্রাণীদের মধ্যে এ ধরনের লক্ষণ দেখা যায়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও তাদের রুচি কমে গেছে, চিড়িয়াখানার বিড়াল গোত্রীয় এই প্রাণীরা ভালোই আছে। তারা আগের মতোই উজ্জ্বল, সতর্ক এবং যারা তাদের দেখাশোনা করছেন, তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কিভাবে এই বড় বিড়াল গোত্রীয় প্রাণীগুলো আক্রান্ত হলো, বলা যাচ্ছে না। কারণ, বিভিন্ন জাতের প্রাণী নতুন এই সংক্রমণে বিভিন্নভাবে সাড়া দিচ্ছে। আক্রান্ত বাঘকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই সেরে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমরা অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, অসুখা সকলকে শান্তভাবে জানালেন, চিড়িয়াখানারই একজন কর্মী ভাইরাসের বাহক ছিলেন। যদিও তার মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ওই কর্মীই আক্রান্ত বাঘের দেখাশোনা করতেন। এ প্রেক্ষিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যে কাউকে পোষা প্রাণীসহ যেকোনো প্রাণীর সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইউএসডিএ।
সুন্দর মিয়ার দিকে তাকিয়ে মলিন বদনে নিরামতি বললেন, ‘সমস্যার শুরু এখান থেকেই। বাঘের সংক্রমণ নিশ্চিত হবার পর দেশে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের, অন্য মানুষদের মতোই পশুর সংস্পর্শে আসতেও নিষেধ করা হচ্ছে তবে পোষ্যদের রুটিন পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়নি।
Ñ চিড়িয়াখানার ঘটনার কারণে আমাদের নগদ প্রতিবেশী দেশের কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সমস্ত চিড়িয়াখানাকে সর্বক্ষণ আমাদের ওপর নজর রাখবার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে প্রাইমেট বা মনুষ্যবর্গীয় জন্তুদের ওপর। সম্প্রতি নেচার পত্রিকায় ২৫ জন বিজ্ঞানী যত দিন না রোগের সংক্রমণ আশঙ্কা নির্মূল হয় তত দিন এই ধরনের পশুদের সঙ্গে মানুষের সংস্রব যথাসম্ভব কম রাখার কথা বলেছেন। যদিও হাতে গোনা কয়েকটি ক্ষেত্রে পোষ্যপ্রাণী সংক্রমিত হয়েছে এবং তারাও মানুষ থেকেই সংক্রমিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত রয়েছে। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তবে কুকুরদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়নি। এটা শুনে সারমেয় সম্প্রদায়ের বর্ষীয়ান নেতা এবং নিখিল বাদাড় সারমেয় সংঘের সভাপতি কুকুরা কাহান উঠে দাঁড়িয়ে আনন্দসূচক হাততালি দিলেন।
বাবাহকুর আন্তর্জাতিক শাখার সূত্র উল্লেখ করে নিরামতি কিছু ভালো খবর দিলেন সবাইকে। তিনি জানালেন অনেক দেশে অনেক সেলেবারিটিরাও রাস্তায় নেমে এসে তাদেও পোষা অপোষা প্রাণীদের নিজেদের হাতে রান্না খাবার পরিবেশন করছেন। লোকালয়ের একটি বিশ্ববিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীরা প্রাণী সম্পদের খাদ্য সঙ্কট বিমোচনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কৃতজ্ঞতায় নিরামতির চোখে পানি এলো।
এরপর অসুখা চমকপ্রদ তথ্য হাজির করলেন সবার সামনে। জানালেন করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একমাত্র হাতিয়ার সাবধানতা অবলম্বন। লোকালয়ে লকডাউনে গৃহবন্দী থাকা ছাড়া কোনো গতি নেই। একান্ত বেরোতে হলেও মাস্ক বা মুখোশ পরতেই হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ছোটপীর সম্প্রদায় না নিজের প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করছেন। কিন্তু আমাদের স্বজাতিয়দের কী অবস্থা? তারা না পরতে পারছে মাস্ক আর না কোনো সাবধানতা অবলম্বন। তাই তো চিড়িয়াখানায় করোনা বাসা বেঁধেছে নাদিয়ার শরীরে। আমরা সকৃতজ্ঞতায় উল্লেখ করতে চাই অকারণ অবলা প্রাণীর রোগভোগ মানতে পারছেন না পশুপ্রেমীরা। আর ওই বাঘের অসুস্থতা থেকেই শিক্ষা নিলেন আমাদের কাছের লোকালয়ের একজন ছাগল পালক। মারণ ভাইরাসের থাবা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ছাগলের মুখে মাস্ক পরালেন তিনি।
সংবাদ সংস্থাকে কোট করলেন নিরামতি, তেলেঙ্গানার কালুর মণ্ডলের বাসিন্দা ভেঙ্কটেশ্বর রাওয়ের চাষবাসের জমি নেই। সংসারের আর্থিক সংস্থানে তাঁর ভরসা ২০টি ছাগল। লকডাউনে বাড়িতে সাধারণ মানুষ থাকলেও, পশুদের রাখা দায়। ঘাস খেয়ে পেট ভরাতে বাইরে পাঠাতেই হচ্ছে তাদের। কিন্তু ভাইরাস যে তা বোঝে না। তাই যেকোন মুহূর্তে তাদের শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে মারণ ভাইরাস। তাই তাদের সাবধানে রাখতে ভরসা মাস্ক। সে কারণেই ভেঙ্কটেশ্বর রাও তার গৃহপালিত ছাগলদের মুখ ঢেকেছেন মাস্কে। বাইরে বেরনোর সময় তাদের মুখে পরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। ঘাস খেয়ে বাড়ি ফেরার পর নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক ধুয়ে নিচ্ছেন তিনি। তারপর তা ভালো করে রোদে শুকিয়েও নিচ্ছেন।
ভেঙ্কটেশ্বর রাও বলেন, ‘আমি শুনলাম নিউইয়র্কের চিড়িয়াখানায় থাকা এক বাঘ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত। তার পরই আমার পোষা ছাগলদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। তার পরই আমি ঠিক করি ওদেরও মাস্ক পরানো শুরু করব। সেই অনুযায়ী বাজার থেকে মাস্ক কিনি। তারপর তাদের পরাতে শুরু করি। প্রথম দিকে ছাগলগুলোর সমস্যা হচ্ছিল। তবে এখন বোধহয় ওরাও বুঝতে পেরেছে যে মাস্ক পরতেই হবে। তাই মাস্ক পরালে বিশেষ বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে না।’ সুন্দর মিয়া, তার দেখাদেখি শিয়ালেনদুসহ সবাই দাঁড়িয়ে ভেঙ্কটরাওকে সশ্রদ্ধ সালাম জানালেন। মাইক্রোফোন নিয়ে সুন্দর মিয়া ঘোষণা করলেন তার কোনো ছাগলকে আমাদের কেউ কোনো দিন আক্রমণ করতে পারবে না।’
নিরামিতা বক্তৃতা শেষ করতে যাবেন এমন সময় কবুতরের হাতে আবহাওয়া দফতর থেকে একটা মেসেজ পেলেন সুন্দর মিয়া।...


আরো সংবাদ

ইউরোপে করোনা ভ্যাকসিনে আগ্রহীর সংখ্যা কমছে ঢাকা মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরো ২৫ জনের মৃত্যু ঢাকাগামী বাসে ১০৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক ২ কোরবানীর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হবে করোনায় কর্মহীন নারীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বিএনপিএসের চবি ক্যাম্পাসে ঝর্ণার পানিতে ডুবে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু দেওয়ানগঞ্জে পুলিশ স্বামীর নির্যাতনে আহত স্ত্রীর মৃত্যু বগুড়ার শিবগঞ্জে ওয়ান শুটার গান ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার এমপি মোস্তাক আহমেদ রবি করোনায় আক্রান্ত নির্দেশনা নেই বিদেশগামীদের পরীক্ষা কোথায় কীভাবে হবে কুয়েতে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত আশিকুজ্জামান

সকল