২১ মে ২০২২
`

মুহাম্মদ সা: অনন্য হয়ে ওঠার রোলমডেল

-

গতকালের পর
বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ
আপনার কিশোর-কিশোরীর যৌন আকাক্সক্ষা অনুভব করাও স্বাভাবিক। এটি মানুষের সহজাত বিষয়, এই আকাক্সক্ষাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করা চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটিকে গাইড করতে হয়। এ বিষয়ে স্বয়ং রাসূল সা: বলেছেন, ‘আমি প্রাক ইসলাম সময়ের মানুষের মতো মহিলাদের প্রতি আগ্রহী ছিলাম না, ব্যতিক্রম ছিল দুই রাত যখন সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা আমাকে হেফাজত করেছেন। এক রাতে আমি মক্কার কয়েকজন ছেলের সাথে ছিলাম, যখন আমরা মেষপাল চরাচ্ছিলাম। আমি আমার বন্ধুকে বললাম, ‘আমার ভেড়ার দিকে খেয়াল রেখো, আমি যাতে অন্য ছেলেদের মতো করে মক্কায় রাত কাটাতে যেতে পারি।’ সে বলল ঠিক আছে, এরপর আমি ভিতরে গেলাম। যখন আমি মক্কার প্রথম বাড়িতে পৌঁছলাম, তখন আমি খঞ্জনি ও বাঁশির সাথে গান শুনলাম। আমি সেখানে গিয়ে দেখতে বসলাম, আর আল্লাহ আমার কানে আঘাত করলেন, আর আমি অচেতন হয়ে পড়ি, সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে আর জাগাননি। অন্য রাতে, আমি তাকে বললাম, ‘আমার ভেড়ার ওপর নজর রাখো, যাতে আমি মক্কায় রাত কাটাতে পারি।’ মক্কায় এসে আমি অন্য রাতের মতো আওয়াজ শুনি। আমি সেখানে গিয়ে বসি এবং আল্লাহ আমার কানে আঘাত করলেন এবং আমি অচেতন হয়ে যাই সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি আমাকে জাগাননি। ওই দুই (রাত্রি) পর, আমি শপথ করেছি, আমি আর কোনো দিন সেখানে ফিরে যাইনি।
মুহাম্মদ সা: দু’বার একটি পার্টিতে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দু’বারই তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। আল্লাহ তাকে অচেতন করে দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতের নবী হিসেবে এটি ছিল ঐশ্বরিক সুরক্ষা। তাহলে কিভাবে আপনার কিশোর এই গল্প থেকে শিখবে?
গল্পের মজার অংশটি এই নয় যে মুহাম্মদ সা: কিশোর বয়সে একটি পার্টিতে যেতে চেয়েছিলেন বা দু’বার যেতে চেয়েছিলেন, বরং সেটি হলো তিনি তৃতীয়বার আর চেষ্টা করেননি। এটি কিশোরদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক হতে পারে। কিভাবে?
সর্বশক্তিমান আল্লাহ মন্দ থামানোর পথ বেছে নেন না, কিন্তু তিনি কখনো কখনো এটিকে বেশি কঠিন করেন। একজন কিশোর প্রায়ই তার প্রথম অন্যায় প্রচেষ্টায় হোঁচট খাবে, কারণ আল্লাহ চান না যে সে মনে করুক এই কঠিন পথটি সহজ এবং তিনি এই পথে বাধা সৃষ্টি করেন যা তাকে একবার বা দুইবার নিরুৎসাহিত করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, যেদিন তিনি অনুপযুক্ত কোথাও ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন সেদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, অথবা হঠাৎ করে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বা প্রথম সিগারেট খাওয়ার চেষ্টা করার সময় কাশির কারণে তাকে বন্ধ করতে হতে পারে। একজন কিশোর-কিশোরী এই রাস্তার বাধাগুলোকে প্রাকৃতিক, এলোমেলো কাকতালীয় হিসেবে মনে করে ভুল করতে পারে যে, এটি যে কারো সাথে ঘটতে পারে, অথবা তার লালন-পালনের ওপর নির্ভর করে বুঝতে পারে যে এটি একটি ঐশ্বরিক সতর্কবার্তা ছিল এবং দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার তার আচরণ পরিবর্তন করবে?
তারপরে, পিতা-মাতার ভূমিকা হলো তাদের কিশোরকে এই মানসিকতা বিকাশের জন্য উৎসাহিত করা, যাতে সে যদি পিছলে যায় তবে তার বিবেক প্রাণবন্ত হয় আর তাকে এ অভ্যাস করা থেকে বিরত রাখে। এটিই একজন কিশোরকে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
আল্লাহ মুহাম্মাদকে তার কানে আঘাত করেছিলেন এবং পার্টিতে যোগ দেয়ার আগেই তাকে নিস্তেজ করে ফেলেছিলেন। এই সত্যটি সম্পর্কে সচেতন থাকুন যে আপনার পথভ্রষ্ট হওয়ার প্রচেষ্টায় বাধাগুলো হলো আল্লাহর কাছ থেকে একটি বার্তা যা আপনাকে বলছে যে তিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং চান না যে আপনি অন্ধকার পথে পা বাড়ান।
প্রতিবন্ধকতার পেছনের অর্থটি বুঝুন? এগুলো সাদামাটা কোনো অসুবিধা নয় যা যে কারো সাথে ঘটতে পারে।
কাজ
বাকি অধ্যায়ে, আমরা মুহাম্মদ সা:-এর কাজ এবং সফর সম্পর্কে কথা বলব এবং কীভাবে কিশোররা এখান থেকে উপকৃত হতে পারে তা দেখব।
নবী তাঁর চাচা আবু তালিবকে সাহায্য করার জন্য এবং তাঁর নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার জন্য একজন মেষপালক বা রাখাল হিসেবে কাজ করে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। মুহাম্মদ সা: একটি হাদিসে বলেছেন: ‘এমন কোনো নবী নেই যে রাখাল হিসেবে কাজ করেনি।’
পশুপালনের জন্য খাদ্য ও পানি খোঁজা সহজ কাজ নয়; এটি এমন কাজ যার জন্য অনেকগুলো ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং গুণাবলির প্রয়োজন :
নেতৃত্ব : পালকে কোন পথে নিয়ে যেতে হবে এবং কখন চরা থামাতে হবে তা নির্ধারণ করা।
সততা: ভেড়ার সৎ ব্যবস্থাপনা এবং মালিকের বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করা, যেমন অনুমতি ছাড়া তাদের দুধ পান না করা।
ফোকাস : আপনার মনোযোগ বিপথগামী হলে, একটি ভেড়া সহজেই হারিয়ে যেতে বা চুরি হতে পারে।
সমবেদনা : পালের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, সহানুভূতিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে আপনি আপনার ভেড়াকে একে একে চিনে রাখেন।
অধ্যবসায় : দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর আবহাওয়া এবং মেষপালনকে সহ্য করতে সক্ষম হওয়া।
পণ্ডিতরা বিশ্বের পাঁচটি অঞ্চলকে শতবর্ষীদের সর্বোচ্চ অনুপাতের সাথে ‘ব্লু জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। লক্ষণীয়ভাবে দীর্ঘ গড় আয়ুর এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপান ও গ্রিসের দ্বীপ এবং ইতালীয় দ্বীপ সার্ডিনিয়া। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক উল্লেখ করেছে যে, ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলের ভিন্ন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক জীবনধারা, ধূমপান না করা এবং শারীরিক কাজের ওপর জোর দেয়া। ম্যাগাজিনটি আরো উল্লেখ করেছে যে, বয়স্করা এই ব্লু জোনে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা বন্ধ করে না এবং মেষপালকের মতো কম চাপের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
এটি অবশ্যই, আপনার কিশোর-কিশোরীদের জন্য মেষপালনকে আদর্শ পেশা হিসাবে প্রচার করার জন্য নয়। বরং এই পরামর্শ দেয়া যে কিশোর-কিশোরীরা যদি সুস্থ জীবনযাপন করে তবে তারা মানসিকভাবে আরো শান্তিতে থাকবে।
আসুন এবার সফর প্রসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং কিভাবে এটি একজন কিশোর-কিশোরীর অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে দেখি।
(চলবে)
অনুবাদ : ফারাহ মাসুম

 


আরো সংবাদ


premium cement