১২ মে ২০২১
`

ইতিকাফ : কল্যাণের এক মহাসুযোগ

-

ইতিকাফ শব্দের অর্থ আঁকড়ে ধরে রাখা। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার কল্যাণ সন্তুষ্টি ও রহমত অর্জনের জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়।
এটি নবী সা:-এর একটি প্রসিদ্ধ সুন্নাহ। মৃত্যু অবধি তিনি নিয়মিত ইতিকাফ করেছেন। নবী সহধর্মিণী আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত যে, ‘নবী সা: রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিণীরাও ইতিকাফ করতেন’ (বুখারি : ২০২৬, ২০৩৩, ২০৩৪, ২৯৪১ ২০৪৫ )।
ইতিকাফ কেন করবেন? ইতিকাফের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর অবারিত কল্যাণ ও রহমতকে আঁকড়ে ধরা। রমজানের শেষ দশকে মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে এমন একটি মহিমানি¦ত রাত দান করেছেন যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সেই বরকতময় রাতকে আঁকড়ে ধরার জন্য মুসলিম উম্মাহ রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে মসজিদে অবস্থান করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি এ (কুরআন) নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জানো, কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও বেশি ভালো। ফেরেশতারা ও রূহ এই রাতে তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেকটি হুকুম নিয়ে নাজিল হয়। এ রাতটি পুরোপুরি শান্তিময় ফজরের উদয় পর্যন্ত’ (সূরা কদর)।
এই একটি মাত্র রাত যার মধ্যে সৎকাজ হাজার মাসের সৎকাজের চেয়ে ভালো। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সা: এ রাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা রা: বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা: অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানের শেষ দশকে অধিক পরিমাণে সচেষ্ট থাকতেন যা অন্য সময়ে থাকতেন না’ (মুসলিম : ২৬৭৮, হাদিস একা:, ই.ফা: ২৬৫৫, ই,সে : ২৬৫৪, কিতাবুল ইতিকাফ, বাবুল ইজতেহাদি ফি আশরি আওয়াখির...)।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর অন্যান্য নবী-রাসূল ও তাঁদের উম্মতগণকে শত শত কিংবা হাজার বছর পর্যন্ত জীবন দান করেছেন। তারা বছরের পর বছর আল্লাহর ইবাদাত বন্দেগিতে জীবন কাটিয়েছেন। সে হিসাবে আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্বল্প আয় বা জীবনকাল দান করেছেন। কিন্তু দয়া করে আমাদেরকে এমন এমন কিছু সময় ও মুহূর্ত দান করেছেন সেই সাথে দান করেছেন অফুরন্ত বরকত। তিনি দয়া করে আমাদের দান করেছেন এক মহিমান্বিত রাত যার নাম লাইলাতুল কদর। এ রাতে যার ভাগ্যে জুটে তিনি হাজার বছরের রাত পেলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সা: এ রাতকে রমজানের শেষ দশকের কোন রাত তা নির্দিষ্ট করেননি। তবে বেজোড় রাত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাই মুসলিম উম্মাহ এই রাতটি পাওয়ার জন্য শেষ ১০ দিন ইতিকাফে বসে যান।
আবু সাঈদ খুদরী রা: থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সা: রমজানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশের রাত এলো, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ইতিকাফ থেকে বের হবেন, তখন তিনি বললেন : যারা আমার সাথে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে এই রাত দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্যি আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ওই রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মধ্যে সেজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ করো এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো। পরে এই রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। একুশের রাতের সকালে আল্লাহর রাসূল সা:-এর কপালে কাদা-পানির চিহ্ন আমার এ দু’চোখ দেখতে পায়’ (বুখারি : ২০২৭)।
ইতিকাফে বসার অর্থই রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে অবস্থান করা, নিজেকে আল্লাহর জন্য, আল্লাহর ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেয়া এবং নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে দেয়া। পরিণামে মহান আল্লাহ তাকে কল্যাণ ও বরকত দ্বারা সিক্ত করে দেবেন। এ যেন সেই আয়াতের প্রতিধ্বনি যেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘কাজেই অবসর পেলেই ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ দাও’ (আলাম নাশরাহ : ৭-৮)।
সুতরাং লাইলাতুল কদরের মহাকল্যাণ লাভ করার জন্য রমজানের শেষ ১০ দিন দুনিয়ার সব ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে একান্তভাবে আল্লাহর জন্য কঠোর ইবাদতে লেগে যাওয়া এবং মহাকল্যাণ তালাশ করা একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে এই কল্যাণ ও বরকত লাভ করার জন্য ইতিকাফে বসার তাওফিক দিন। আমীন।
লেখক : ম্যানেজার, আইবিবিএল, জিন্দাবাজার, সিলেট

 



আরো সংবাদ


হামাসের কমান্ডার নিহত (৯৭২৫)চীনের মন্তব্যের জবাবে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (৯৫৯১)ইসরাইলি পুলিশের হাতে বন্দী মরিয়মের হাসি ভাইরাল (৭২৬০)বিহারের পর এবার উত্তরপ্রদেশেও নদীতে ভাসছে লাশ (৬৫৮১)‘কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক খারাপ হবে’ (৫৮১৫)যৌন অপরাধীর সাথে সম্পর্ক বিল গেটসের! এ কারণেই ভাঙল বিয়ে? (৪৮৬১)উত্তরপ্রদেশে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের প্রধান হলেন আজিম উদ্দিন (৪৩১৪)নন-এমপিও শিক্ষকরা পাবেন ৫ হাজার টাকা, কর্মচারীরা আড়াই হাজার (৪০৯৪)গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ৯ শিশুসহ ২০ ফিলিস্তিনি নিহত (৩৮১১)কুম্ভমেলার তীর্থযাত্রীরা ভারতজুড়ে যেভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে (৩৫৬৯)