১৫ এপ্রিল ২০২১
`

দরুদ : প্রিয় নবীর প্রতি নিবেদিত প্রেম

-

দরুদ অর্থ দোয়া ও শান্তি কামনা। মহান প্রভুর দরবারে প্রিয় নবীজী সা:-এর জন্য রহমতের দোয়া। দরুদ শরিফ বিশ^ মুমিনের পক্ষ থেকে রাহমাতুল্লিল আলামিনের প্রতি ‘হাদিয়া’। দরুদ প্রিয় হাবিবের প্রতি আমাদের নিখাদ ভালোবাসার প্রকাশ, হৃদয়-গহিনের একান্ত প্রেম নিবেদন। এ প্রেম নিবেদন আমাদের মহান আল্লাহ শিখিয়েছেন। নবীজী সা:-এর ভালোবাসায় মহামহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বয়ং তার প্রিয় হাবিবের প্রতি দরুদ পাঠ করেন। দরুদ পাঠ করেন নূরের ফেরেশতারাও। মুমিনদেরও আদেশ দেয়া হয়েছে সেই মহামানবের প্রতি দরুদ পাঠ করে ধন্য হতে। আল কুরআন ঘোষণা করছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন।’ (অর্থাৎ, আল্লাহ রহমত প্রেরণ করেন, ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন), হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ পাঠ করো (রহমতের দোয়া করো) এবং সালাম নিবেদন করো (শান্তির দোয়া করো)। (সূরা আহজাব-৫৬)
আল্লাহর হাবিব সা: তো সর্বক্ষণই মহান আল্লাহর অবারিত রহমত-বরকত এবং অনাবিল শান্তির বারিধারায় সিক্ত হন। আমরা দরুদ পড়ি নিজেরা ধন্য হতে। প্রিয় হাবিবের ভালোবাসার দৃষ্টি পেতে। মহান আল্লাহর রহমতের সুশীতল ছায়াতলে জায়গা করে নিতে। আল্লাহর রাসূল সা:-এর প্রতি কেউ একবার দরুদ পাঠ করলে দয়াময় আল্লাহ তাকে রহমতের চাদরে ঢেকে নেন। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন।’ (মুসলিম-৪০৮)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, আনাস রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ শরিফ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি ১০টি রহমত বর্ষণ করেন, ১০টি পাপ মোচন করেন এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।’ (নাসায়ি : ১/১৪৫, মুসনাদে আহমদ : ১/১০২) রাসূলুল্লাহ সা:-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদের হাদিয়া পাঠানোর মাধ্যমে প্রিয় নবীজীর সাথে ভালোবাসার অদৃশ্য সেতুবন্ধন দৃঢ় থেকে সুদৃঢ় হতে থাকে। এ সেতুবন্ধনই পরকালে দরুদ পাঠকারীকে পৌঁছে দেবে রাসূলুল্লাহ সা:-এর একান্ত সান্নিধ্যে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার কাছে অতি উত্তম হবে ওই ব্যক্তি, যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।’ (তিরমিজি-৪৮৪)
মোল্লা আলী কারী রহ. এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূল সা:-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামত দিবসে আল্লাহর রাসূলের সর্বাধিক নৈকট্য ও সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হবে এবং শাফায়াত লাভে ধন্য হবে।’ (মিরকাত-৭৪৩/২) মহান আল্লাহর কুদরতি ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর প্রান্ত প্রান্ত থেকে মুমিনের আবেগ-ভালোবাসামিশ্রিত দরুদের হাদিয়া পৌঁছে যায় প্রিয় নবীজী সা:-এর রওজায়ে আতহারে। ফেরেশতারা আমাদের প্রেমসিক্ত দরুদগুলো অতি যতেœ পৌঁছে দেন রাসূলুল্লাহ সা:-এর পবিত্র শিয়রে।
আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো, তোমরা যেখানেই থাকো তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ (আবু দাউদ-২০৪২) মহানবী সা: আরো বলেছেন, ‘জমিনে আল্লাহর একদল বিচরণশীল ফেরেশতা রয়েছে, যারা আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে দেয়।’ (নাসায়ি ও দারেমি) তিনি আরো বলেন, ‘আমার প্রতি কেউ দরুদ পাঠ করলে আমি তার উত্তর দেই।’ (আবু দাউদ, বায়হাকি) প্রিয় নবীজী সা:-এর পাক দরবারে দরুদের হাদিয়া পৌঁছাতে পারা এ উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর অভূতপূর্ব নিয়ামত। এ মহান নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের একান্ত কর্তব্য। তাই আসুন, সবুজ বাংলার প্রান্ত থেকে প্রিয় হাবিবের তরে লাখো-কোটি দরুদ ও সালামের হাদিয়া পেশ করি। আমাদের হৃদয় জগতের তপ্ত ভাবাবেগ, পরম অনুরাগ আর নিখাদ ভালোবাসার বার্তাটি পৌঁছে দেই প্রিয় নবীজীর পবিত্র রওজায়। দরুদে দরুদে হোক প্রিয় নবীর প্রতি প্রেম নিবেদন। হৃদয়ে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়–ক মুহাম্মদি প্রেম। বিশ^াস ভালোবাসায় জ্বলে উঠুক মুহাম্মদি চেতনা।
লেখক : শিক্ষার্থী, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া



আরো সংবাদ