০৮ মার্চ ২০২১
`

প্রতিটি কাজে তাকওয়া অবলম্বন

-

এই পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন মানুষকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন তা বান্দা যথাযথভাবে পালন করে না। বরং প্রতিটি কাজে আমরা আল্লাহর অবাধ্য হই। তার বিধানের কথা ভুলে যাই। তার প্রতি আমাদের কোনো ভয় থাকে না। অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র আল-কুরআনে বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যাদর্শ লোকদের সঙ্গী হও’ (সূরা আত-তাওবা : ১১৯)।
আল্লাহকে ভয় করা প্রকৃত মুমিন বা ঈমানদারদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। আর এ জন্যই তাকওয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানার্জন করা জরুরি। তাকওয়া আরবি শব্দ। তাকওয়ার আভিধানিক অর্থ হচ্ছেÑ ভয় করা, বিরত থাকা, রক্ষা করা, সাবধান হওয়া, আত্মশুদ্ধি, পরহেজগারি ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায়, ব্যক্তি ও সমষ্টিগত জীবনে ইসলামী বিধানে নিষিদ্ধ সব প্রকার কথা, কাজ ও চিন্তা পরিহার করে। কুরআন ও সুন্নাহের নির্দেশমতো জীবনযাপনের মাধ্যমে আল্লাহকে প্রতিনিয়ত প্রেমমাখা ভয় করে চলাকে তাকওয়া বলা হয়। মানুষের ব্যক্তি ও সমষ্টিগত জীবনে ইসলামী জীবনাদর্শ বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ইহজগতে সৎ ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদন করে পরজগতে মুক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। কারণ মানুষের মন মানসিকতা প্রকৃতিগতভাবে শয়তান দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর শয়তান সব সময় মানুষকে অসৎ ও অন্যায় কাজ করার জন্য ওয়াসওয়াসা বা লোভ লালসা জাগায় এবং আল্লাহদ্রোহিতায় লিপ্ত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে। আমাদের দেশে মানুষ প্রতিনিয়ত অন্যায় কাজ করে থাকে। দুর্নীতি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের অপরাধমূলক কাজ করতে আমরা দ্বিধাবোধ করি না। হোক সেটা ছোট কিংবা বড় ধরনের অন্যায় কাজ। তবুও আমরা কোনো দ্বিধাবোধ করি না। যেমনÑ কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলা, মানুষের সাথে ওয়াদা করলে ওয়াদা ভঙ্গ করা। মানুষদের সাথে প্রতারণা করা। শুধু তাই নয়, যেনা ব্যভিচারের মতো ঘৃণিত কাজ করতেও কোনো তাকওয়া বা আল্লাহর প্রতি ভয় প্রদর্শন করে না। সাম্প্রতিক আমাদের দেশে করোনা মহামারীর মতো ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। আর এসব ধর্ষণ ঘটিত হচ্ছে মূলত তাকওয়া বা আল্লাহর প্রতি কোনো ভয়ভীতি না থাকায়। কাজেই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ছাড়া এসব কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেকের উচিত আগামীকালের জন্য (অর্থাৎ পরকালের জন্য) সে কি পাঠিয়েছে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করতে থাকো। তোমরা যা করো আল্লাহ তায়ালা সেই বিষয়ে খবর রাখেন (সূরা আল হাশর : ১৮)। আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র আয়াতে বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তার শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই সফলকাম।’ (সূরা আল নূর : ৫২)
পবিত্র কুরআন ছাড়াও হাদিস শরিফে তাকওয়া অবলম্বনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, ‘রাসূল সা: বলেছেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করবে না, তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগও করবে না এবং তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না। তিনি নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে। কোনো লোকের নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে। প্রতিটি মুসলমানের জীবন, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান সব মুসলমানের সম্মানের বস্তু (এর ওপর হস্তক্ষেপ করা তাদের জন্য হারাম)। (সহিহ মুসলিম)।
অন্যত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূল সা: বলেছেন, ‘হে আয়েশা! ক্ষুদ্র নগণ্য গুনাহ থেকেও দূরে থাকবে। কেননা আল্লাহর দরবারে (কিয়ামতের দিন) সেগুলো সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (ইবনে মাজাহ)
সুতরাং বলা যায়, আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষণে তাকওয়া বা আল্লাহর প্রতি ভয়ভীতি থাকতে হবে। তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকে মুত্তাকি বলা হয়। তাকওয়া অবলম্বনের ফলে আমাদের ইহজগতে শান্তি ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত হবে এবং আর কোনো ধরনের অন্যায় কাজ সংঘটিত হবে না। কারণ অন্যায় করতে গিয়ে আল্লাহর ভীতি প্রদর্শন থাকবে আমাদের মনে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন এবং প্রতিটি কাজে রহমত বর্ষণ করুন।
লেখক : আহ্বায়ক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা কলেজ



আরো সংবাদ