০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ১০ রজব ১৪৪৪
ads
`
মহাসড়কে পুলিশের তল্লাশি, মানুষের দুর্ভোগ

গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাস চলাচল বন্ধ

গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাস চলাচল বন্ধ - ছবি : নয়া দিগন্ত

রাজধানীতে বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সাথে ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাঅল করতে না দেয়ারও অভিযোগ করা হচ্ছে।

সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পথে পথে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। যানবাহন না থাকায় তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটের কোনো বাস ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়নি। মোড়ে মোড়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গাড়ির দেখা মিলছে না। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটে ও অন্যান্য বিকল্প যানে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপভ্যান ও অটোরিকশা সাইনবোর্ড মোড়ে থামিয়ে দিচ্ছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে।

শনিবার ভোর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও মৌচাক এলাকায় সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে চেকপোস্ট স্থাপন করেছে পুলিশ। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা, শিমরাইল, কাঁচপুর সেতুর পূর্বপাশ, মদনপুর ও রূপগঞ্জের ৩০০ ফুট সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চলছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ বলছে, মহাসড়ক ও সড়কের চেকপোস্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমেছে। তবে ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহন কিছুটা চলাচল করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা জানান, আটটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে চেক করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৯০০ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পোশাকে ৮৫০ এবং ডিবি ও গোয়েন্দা পুলিশের আরো ৫০ জনের মতো কাজ করছে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশ সুপার মাঠে রয়েছেন।

তিনি জানান, ‘নাশকতা ঠেকাতে মূলত চেকপোস্ট বসিয়ে চেক করা হচ্ছে, যাতে কেউ বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করে ও ব্যবহার করে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে। ফলে কাউকে সন্দেহ হলে তল্লাশি করা হচ্ছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বাসের সংখ্যা একটু কম।’

এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রী সঙ্কটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, পিকআপ ভ্যান ও রিকশাসহ অন্যান্য বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।

মতিঝিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আশরাফ জানান, ‘অফিস করতে রাজধানীর মতিঝিল যাবো, কিন্তু সকাল থেকে কোনো বাস পাচ্ছি না। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সাইনবোর্ড পর্যন্ত এসেছি। এখান থেকে গুলিস্তান যাওয়ার বাস পাচ্ছি না। সাধারণ জনগণের চলাচলে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে?’

নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস ও দূরপাল্লা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রী সঙ্কটের ফলে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল বিএকল থেকে যাত্রী সংখ্যা কমেছে, এতে তেল খরচও উঠছে না। যে কারণে আজ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বাস বন্ধ বা চালু করার জন্য আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। শুধু যাত্রী সঙ্কটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement