০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

টাঙ্গাইলে সাফজয়ী ফুটবলার কৃষ্ণা ও কোচ ছোটনকে সংবর্ধনা

টাঙ্গাইলে সাফজয়ী ফুটবলার কৃষ্ণা ও কোচ ছোটনকে সংবর্ধনা - ছবি : নয়া দিগন্ত

সপ্তাহ দুয়েক আগে নেপালের কাঠমুণ্ডুতে কৃষ্ণা রাণী সরকারের ম্যাজিক নৈপূন্যে সাফ ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলার মেয়েদের এই শিরোপা জয়ের আনন্দ মুহূর্তেই নেপালের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বাংলাদেশে। এখনো থামেনি সেই শিরোপা জয়ের আনন্দ। প্রতিদিন কোথাও না কোথায় সংবর্ধনা পাচ্ছেন শিরোপা জয়ী জাতীয় নারী ফুটবল দলের মেয়েরা। সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনকেও।

শনিবার দুপুরে সাফ নারী ফুটবলের শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ দলের অন্যতম স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রাণী সরকার ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধণা দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

পরিবার ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনকে সাথে নিয়ে বেলা ১২টার দিকে একটি নোয়া গাড়ি চেপে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে পৌঁছান কৃষ্ণা রাণী। তখন বিপুল সংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমি মানুষ কৃষ্ণাকে একনজর দেখতে সেখানে ভীড় করেন।

কৃষ্ণা রাণী সরকার ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন দু’জনের-ই বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে।

টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক। সভাপতিত্ব করেন জেলা
প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ড. মো: আতাউল গণি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মইনুল হোসেন লিন্টু। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্য কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কৃষ্ণা রাণী সরকারকে এক লাখ টাকা ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনকে ৫০ হাজার টাকাসহ ক্রেস্ট দেয়া হয়। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক ব্যক্তিগতভাবে কৃষ্ণা রাণী সরকার ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনকে স্বর্ণের চেইন উপহার দেন। এ ছাড়াও উপহার হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষ্ণাকে এক লাখ, ছোটনকে ৫০ হাজার, পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে কৃষ্ণাকে এক লাখ ও ছোটনকে ৫০ হাজার এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপির পক্ষ থেকে দু’জনকে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধিতদের পরিবারের সদস্যসহ কৃষ্ণার স্কুলের কোচ ও গোপালপুর সূতী ভিএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপনকেও উপহার দেয়া হয়।

কৃষ্ণা রাণী সরকার বলেন, ‘পৃথিবীর আলো দেখার পর আমি কখনো সুখের মুখ দেখিনি। যেদিন থেকে বুঝতে শিখেছি সেদিন থেকেই বাবাকে কষ্ট করতে দেখেছি। আমার এই সাফল্য কোচ ও শিক্ষকদের সহযোগিতার জন্য হয়েছে। আমি তাদের ও টাঙ্গাইলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি যেন আরো ভালো খেলে দেশের জন্য আরো উপহার নিয়ে আসতে পারি এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।‘


আরো সংবাদ


premium cement