২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা - ছবি : নয়া দিগন্ত

গাজীপুরে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার রাতে গাছা থানায় মামলা করা হয়েছে। নিহত শিক্ষক জিয়াউর রহমানের মেঝো ভাই আতিকুর রহমান অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। পুলিশ এখনো পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

নিহতরা হলেন গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কামারজুরি এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এ কে এম জিয়াউর রহমান মামুন (৫১) ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জলি (৩৫)। এদের মধ্যে জিয়াউর রহমান গাজীপুরের টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তার স্ত্রী জলি টঙ্গী বাজার এলাকার আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পদে কর্মরত ছিলেন।

জিএমপি’র গাছা জোনের সহকারী কমিশনার মাকসুদ উর রহমান জানান, প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গাছা থানায় মামলা করা হয়েছে। নিহত শিক্ষক জিয়াউর রহমানের মেঝো ভাই কামারজুরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআই নাদির-উজ-জামানকে দেয়া হয়েছে। মামলায় গত বুধবার বিকেলে প্রাইভেটকারযোগে বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষক দম্পতি নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে পরদিন ভোরে তাদের লাশ উদ্ধার এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের কথা পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানার ওসি নন্দলাল চৌধুরী বলেন, মামলার আগে বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তাদের লাশ রাতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের মৃত্যুর কোনো ক্লু এখনো পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরই তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে এ শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মো: শাফি মোহাইমেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে লাশ দুটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ সময় দু’জনের ফুসফুস ও কিডনিতে প্রায় একই রকম লক্ষণ পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেকের ফুসফুস ও কিডনিতে জমাট রক্ত পাওয়া গেছে। এটা সাধারণত খাবারে বিষক্রিয়া কিংবা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। এছাড়াও নিহত নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাই তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকাস্থ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

নিহত জিয়াউর রহমানের ভগ্নিপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ জানান, ময়নাতদন্তের পর রাত ৮টার দিকে জিয়াউর রহমান তার স্ত্রী আমজাদ মাহমুদা আক্তার জলির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানগরীর গাছা থানাধীন কামারজুরি এলাকার বাসার পাশে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাদের গ্রামের বাড়ি বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানাধীন দড়ি কাঁঠাল এলাকায় নেয়া হয়। রাত ২টার দিকে সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে জিয়াউর রহমানের বাবার কবরের পাশে এ দম্পতিকে দাফন করা হয়। লাশ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্নের কারণে থানায় মামলা দায়েরে দেরি হয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement