০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

প্রেমের বিয়ের ৮ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

প্রেমের বিয়ের ৮ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার - প্রতীকী ছবি

গাজীপুরে পাঁচ বছর প্রেম করে বিয়ের আট বছর পর বাবা-মায়ের প্ররোচনায় স্ত্রী বৃষ্টিকে গলাটিপে হত্যা করেন তার স্বামী। পরে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজান। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার প্রায় দুইবছর পর ওই গৃহবধূ হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই।

সোমবার গাজীপুর পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার মো: সোহেল রানা (২৭) দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের কোহিনুর প্রমাণিকের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় পাঁচ বছর প্রেম করার পর ২০১২ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার চর ভবনন্দদীয়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে বৃষ্টি খাতুনকে (২৪) বিয়ে করেন সোহেল রানা। তারা দু’জনই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। বিয়ের পর তাদের কোনো দাম্পত্য কলহ ছিল না। তাদের এক ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন সোহেল।

পিবিআই’র ওই কর্মকর্তা জানান, বাবা-মায়ের প্ররোচনায় সোহেল তার স্ত্রী বৃষ্টিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছিলেন এবং কারণে-অকারণে আত্মহত্যা করার জন্য প্ররোচিত করতেন। এর জেরে ২০২০ সালের ৭ আগস্ট সকালে স্ত্রীর কাপড় ধোয়া নিয়ে সোহেল ও বৃষ্টির মাঝে ঝগড়া হয়। এ সময় চিৎকার শুরু করলে বৃষ্টিকে গলা টিপে হত্যা করেন সোহেল।

পরে বিষয়টিকে আত্মহত্যায় রূপান্তরিত করতে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিহতের লাশ ঝুলিয়ে রাখেন তার স্বামী। পরে দরজা বন্ধ করে কৌশলে ঘরের বাইরে এসে সোহেল আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করেন। জানান, তার স্ত্রী দরজা বন্ধ করে রেখেছে, খুলছে না। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় সোহেল ঘরে ঢুকে স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বৃষ্টিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান, এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। চার মাস তদন্ত শেষে থানার পুলিশ এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটির তদন্ত শুরু করে।

তিনি আরো জানান, ১৪ মে পিবিআই নিহতের স্বামী সোহেল রানাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে গ্রেফতার সোহেল রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সোহেল জানান, ঘটনার ছয় দিন আগে ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সোহেল শ্বশুর বাড়িতে ঈদ করতে যান। ঈদ শেষে একমাত্র সন্তানকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গাজীপুরের বাসায় আসেন এবং তাকে খুন করেন।


আরো সংবাদ


premium cement