০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে - ছবি : নয়া দিগন্ত

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় অবস্থিত জাহিন নিটওয়্যার্স নামের রফতানিমুখী পোশাক কারখানার আগুন রাত ১০টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার ব্রিগেডের ১৩টি ইউনিটের দেড় শ’ কর্মী প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার ব্রিগেডের ১৩টি ইউনিটের দেড় শ’ কর্মী প্রায় ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পরে বলা যাবে।

তিনি আরো জানান, ঘটনা তদন্তে ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বা কেউ নিখোঁজ আছে বলে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ডাম্পিং শেষ হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ফ্লোরে খুঁজে দেখা হবে কোথাও কেউ আগুনে হতাহত হয়েছেন কিনা। শুক্রবার বন্ধের দিন থানায় প্রতিষ্ঠানে খুব কম সংখ্যক শ্রমিক ছিল। আগুনে প্রতিষ্ঠানের স্টিল স্ট্র্রাকচারের শেড অনেক জায়গায় ধ্বসে গেছে।

প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় প্রতিষ্ঠানটিতে আগুন লাগে। বন্ধের দিন থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মূল অংশ ছুটি ছিল। তাই কারখানায় খুব অল্প সংখ্যক শ্রমিক ছিল।

প্রতিষ্ঠানের সুইং বিভাগের শ্রমিক হাবিব জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আগুন লাগে। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রথম বের হয়ে ২ নং ইউনিটের সামনে ‘আগুন-আগুন’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু শুক্রবার হওয়ায় বেশিরভাগ ইউনিট বন্ধ ছিল। তবে প্রতিটি ইউনিটে কিছু শ্রমিক তৈরী পোশাক প্যাকেট করে শিপমেন্টের জন্য ৬ নং ইউনিটে সরানোর কাজ করছিল।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার ব্রিগেড এসে আগুন নেভানো শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় আগুন লাগার খবর পাই। বেলা পৌনে ৫টায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর একে-একে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও, বন্দরসহ আশপাশের ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো এসে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, কারখানার পরিসর বড় হওয়ায় এবং আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে। তবে কারখানা বন্ধ থাকার কারণে ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকা পড়েনি বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। কোনো হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ


premium cement