২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

`আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’ - নির্বাচনে হেরে নৌকার প্রার্থী

`আগামীতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’ - নির্বাচনে হেরে নৌকার প্রার্থী - নয়া দিগন্ত

‘ভবিষৎয়ে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না।’- এ কথা বলেছেন সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে হেরে যাওয়া এক নৌকার প্রার্থী।

জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন দিন ইসলাম শেখ। তিনি গত রোববার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কাদির হালদারের কাছে হেরেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- দিন ইসলাম শেখ কয়েকজন কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘আগামীতে মনোনয়ন লাগবে না, ভোটও চাওয়া লাগবে না। এমনিতে পাশ করবো ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে পিছা মার্কা আনুম, নৌকা মার্কার মধ্যে আর নাই। নৌকা মার্কা না আনলে পাশ করবো নিশ্চিত।’

দ্বীন ইসলাম শেখ তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘ভোট যা হইছে বাদ, আজকা থেকে পিছনে কী হইছে সেটা দেখব না। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি খালি সামনে দেখি। সামনে দেখব, এগিয়ে যাব। আজকে আমরা, চেয়ারম্যান হাইরা গিয়া মন খারাপ করছে অনেকে। ভাগ্য থাকলে তো আগামীবার উপজেলাও করতে পারি, কী বলেন? চেয়ারম্যানি নিয়া চিন্তা করার কিছু নাই। চাইলে আল্লাহরে পাওয়া যায়। এটা তো চেয়ারম্যানিওই। কী বলেন? এবারও পারতাম, দুই-চারটা মরতো হয়তো। এই জন্য করি নাই। আগামীতে মনোনয়নও লাগবে না, ভোটও আপনাগো চাওয়া লাগবে না, এমনি আমরা পাস করুম ইনশা আল্লাহ।’

দ্বীন ইসলাম শেখের এ বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এরই মধ্যে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নৌকা চাইছিলাম, আমি নৌকা পাওয়ার পর বাকি নয়জনই আমার বিপক্ষে কাজ করেছেন। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। সবাই মিলে আমাকে অনেকটা ঘরবন্দি করে রাখছিল, আমার ভাগনেকে মারধর করা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মী, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী; কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা করা হয়েছে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিষয়ে জেলার নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। মনের কষ্টে তাই বলেছি কথাগুলো।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার বলেন, নির্বাচনে পাস ফেল থাকবে, তবে তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। দলকে অবমাননা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, অনেক নেতাকর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি, ওনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। এ বিষয়ে নেতাদের থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ


premium cement