০৩ আগস্ট ২০২১
`
দু’জনের লাশ উদ্ধার

টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে স্বামী পরিত্যাক্তা নারী নিহত

নিহত ফাতেমা আক্তার - ছবি নয়া দিগন্ত

সৈজুদ্দিনের (৭০) সাথে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ত্রিশ বছর বয়সী স্বামী পরিত্যাক্তা ফাতেমা আক্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অফিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত ফাতেমা আক্তার একজন নওমুসলিম ও দুই মেয়ে সন্তানের জননী। ঘাতক বুড়া সৈজুদ্দিন হতভাগা এই নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর পালিয়ে গেছে।

রোববার গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া বনমালা রোডে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এদিকে আরো দু’টি পৃথক স্থান থেকে দুটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

জানা যায়, ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে ফাতেমার নাম ছিল স্বপ্না রায়। তিনি খুলনা জেলার বাটিয়াঘাটা থানার হোগল বুনিয়া গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ে। একটি মেয়ে রেখে সাবেক হিন্দু স্বামী স্বপ্না রায়কে ত্যাগ করলে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে একজন মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন। ওই সংসারেও তার একটি মেয়ে সন্তান হওয়ার পর মুসলিম স্বামীও তাকে ত্যাগ করে চলে যায়। এর পর দু’সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া বনমালা রোডে বাসা ভাড়া নেন ফাতেমা। বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের বাসায় রান্না করে বিভিন্ন মেস ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করতেন।

ঘাতক বৃদ্ধ সৈজুদ্দিন স্থানীয় বনমালা রোডে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে রিকশা মেরামত ও যন্ত্রাংশ বিক্রয় করতেন। বৃদ্ধ সৈজুদ্দিনকেও খাবার সরবরাহ করতেন ফাতেমা। এই সুবাধে তিনি ফাতেমাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এ নিয়ে আগেও বিচার সালিশও হয়েছে। সালিশের পর বৃদ্ধ সৈজুদ্দিন ফাতেমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ফাতেমা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না।

রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় ফাতেমা পাশের একটি বাড়িতে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। পথে বৃদ্ধ সৈজুদ্দিন ফাতেমাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ফাতেমার মৃত্যু হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ মাসুদ জানান, নিহত ফাতেমার গায়ে ছুরিকাঘাত ছাড়া আঘাতের চিহ্ন নেই। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে হয়তো বাঁচানো যেত। কিন্তু তাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাস্তাতেই তার মৃত্যু হয়।

ওসি আরো জানান, নিহত ফাতেমার কোনো নিকটাত্মীয় পাওয়া যায়নি। তার আগের পরিচিত ভাই সম্পর্কের এক ব্যক্তির কাছে দুই শিশুকে তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং বড় মেয়েকে বাদি করে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘাতক সৈজুদ্দিন দীর্ঘ দিন থেকে টঙ্গীর দত্তপাড়া বনামালা এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার খারাপ চরিত্রের কারণে স্ত্রী-সন্তানরা তাকে ত্যাগ করেছে। তার বাড়ি ঝালকাঠী জেলা সদরের নাগপাড়ায়।

সংসারের অভাব অনটনে দুই জনের আত্মহত্যা
এদিকে টঙ্গী পূর্ব থানার টিএনডি বাজার এলাকায় পরিত্যাক্ত একটি ঘর থেকে লাকি আক্তার (২৪) নামে এক গার্মেন্টকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, সংসারের অভাব অনটন নিয়ে লাকি স্বামীর সাথে ঝগড়া করে দু’দিন আগে বাসা থেকে বেড়িয়ে যান। তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে অবশেষে পাশের একটি ঘর থেকে দুর্গন্ধের সূত্র ধরে সেখান থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘরে ভেতর দিক থেকে দরজা আটকানো ছিল এবং ঘরের আঁড়ার সাথে লাশটি অর্ধ গলিত অবস্থায় ঝুলন্ত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা লাকি আত্মহত্যা করেছে। লাকি টঙ্গী বিসিকের নর্দান পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ইশ্বরগঞ্জ থানার মহেশপুর গ্রামে। তার স্বামী শাহ আলম টঙ্গীর সফিউদ্দিন কাঁচা বাজারে মাছের ব্যবসা করেন।

অপরদিকে রোববার সকালে স্থানীয় মরকুন এলাকার একটি বাড়ি থেকে আলামিন (২২) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আলামিন শনিবার রাত ১০টায় মা-বাবার সাথে রাতের খাবার শেষে নিজের রুমে ঘুমাতে যায়। সকালে তার মা ঘুম থেকে ওঠার জন্য ডাকাডাকি করে। কিন্তু কোনো সারাশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে আলামিনকে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁসিতে ঝুলতে দেখে থানায় খবর দেয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, লকডাউনে কর্মহীন আলামিন বেশ কিছু দিন থেকে মানসিক চাপে ছিলেন। সংসারের অভাব অনটনের কারণে ঈদের আগে স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠানো হয়।



আরো সংবাদ