২০ জুন ২০২১
`

একটি নতুন জামায় কোমলপ্রাণে আনন্দের বন্যা

একটি নতুন জামায় কোমলপ্রাণে আনন্দের বন্যা - ছবি- নয়া দিগন্ত

ওদের কারো বাবা নেই। কারো মা নেই। কারো আবার মা-বাবা কেউ নেই। নারায়ণগঞ্জের শহরের পাশে চাঁনমারি বস্তিতে এদের অনেকে বেড়ে উঠছে দাদা-দাদী কিংবা নানা নানীর কাছে। জীবন যাদের কষ্টে চলে, ঈদ আনন্দ তাদের কাছ অনেকটা কল্পনার। এদের একজন শ্রাবন্তি। বাবা নেই শ্রাবন্তির। মা থাকেন বিদেশে। তবে শ্রাবন্তির মা কোন দেশে কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারে না। ফলে শ্রাবন্তির খোঁজ খবর নেয়ার কেউ নেই। নানার কাছে বড় হচ্ছে বস্তির এক ঝুপড়ি ঘরে। শ্রাবন্তির কোমল মনে এবার ঈদের উচ্ছ্বাস এনে দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ও রং মেলা নারী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সাবিরা সুলতানা নীলা।

শুধু শ্রাবন্তি নয়, তার মতো আরো ৯০ জন শিশুকে ঈদের নতুন জামা উপহার দিয়েছেন নীলা। নতুন জামা পেয়ে শ্রাবন্তিসহ অন্য শিশুরাও বেশ আনন্দিত। ঈদের আগেই এবার তাদের কোমল হৃদয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

আর শিশুদের ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিতে পেরে আনন্দিত সাবিরা সুলতানা নীলাও। তবে এবারই শুধু নয়। বরং প্রতিবছর ঈদে অধিকার বঞ্চিত বিপুল সংখ্যক শিশুকে নতুন জামা কিনে দেন তিনি। এমনটাই জানা গেছে নীলার সাথে কথা বলে।

এবার নীলার উপহার পাওয়াদের মধ্যে আছে টাইগার। যার বাবার পরিচয় নেই। মা ভিক্ষাবৃত্তি করেন। টাইগার বড় হচ্ছে নানীর কাছে, বস্তিতে। গত বছরও টাইগার ও শ্রাবন্তিরা ঈদের জামা পেয়েছে নীলার কাছ থেকে।

সাবিরা সুলতানা নীলা জানান, শিশুরা গত ঈদের জামা কাপড়ের কথা মনে রেখেছে। এবারও অপেক্ষায় ছিল। কখন নীলা আন্টি আসবে নতুন জামা দিবে। তিনি বলেন, বুক আনন্দে ভরে গেছে বস্তিতে ঢোকার সাথে সাথে। শিশুরা নীলা আন্টি বলে চিৎকার করে কাছে আসায়।

তিনি বলেন, আশ্চর্য লাগে, এক বছর পর গিয়েছি। কিন্তু আমার নামটি ওরা ভুলেনি। চলে আসার সময় বার বার বলেছে, নীলা আন্টি আমাদের এবার খাবার দিবা না? তুমি আমাদের নিয়ে চলো কোনো জায়গা থেকে খাবার দিবে।

তিনি জানান, আল্লাহর কাছে সব সময় দেয়া করি, আমি যেন শুধু আমার জন্য না এসব শিশুর জন্য কিছু করতে পারি। আরজু রহমান ভুইয়ার জন্য দোয়া করি, আমার সংগঠনে তার দেয়া ১৪ শ’ মাস্ক আমি বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করেছি। সমাজে এ ধরনের দানশীল মানুষ কিছু থাকলে সমাজের চিত্র কিছুটা পরিবর্তন হবে আমি মনে করি।



আরো সংবাদ