০৮ মে ২০২১
`

মোবাইল চুরির অপবাদে ধর্ষণ, আটক ৩

মোবাইল চুরির অপবাদে ধর্ষণ - ফাইল ছবি

মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ফরিদপুরের মধুখালীতে এক সন্তানের মাকে (২০) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মধুখালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশ অসুস্থ ওই মাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই মা মধুখালী পৌর শহরের আশ্রয়ণকেন্দ্রে বসবাস করতেন। তিনি ওই এলাকার পারুল আক্তারের মেয়ে রোজিনার বান্ধবী। তার বাড়ি পাশের গ্রামে। বিয়ে হয়েছে উপজেলার মাকড়াইল গ্রামে। তার তিন বছরের একটি সন্তান আছে।

কয়েক দিন আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে গত রোববার রোজিনা ও তার মা পারুলসহ কয়েকজন ওই তরুণীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফিরে আসার পর রোজিনা আবার তাদের বাড়িতে গিয়ে তার মোবাইল ফেলে গেছে বলে জানায় এবং সেটি ফেরত দিতে বলে।

এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিকেলে রোজিনা ও তার মা পারুল কয়েকজন লোক সাথে নিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়। দু’দিন পর মঙ্গলবার সকালে তাকে অচেতন অবস্থায় তাদের বাড়িতে ফেলে রেখে আসে।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, রোববার বিকেলে তারা আমাকে তুলে নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর এলাকার একটি বাড়িতে রাখে। রাতে খাবারের সাথে আমাকে কিছু খাওয়ানো হয়। আমি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ি। এরমধ্যে আমাকে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে আমি রোজিনাকে বিষয়টি বললে ও আমার ওপর তেড়ে আসে। আমার কাছে মোবাইলও নেই যে আমি কাউকে কিছু জানাবো।

ওই তরুণী বলেন, পরদিন সোমবার সেখান থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয় মধুখালী চিনিকল মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে। রাতে সেখানেও আমাকে কিছু খাওয়ানো হয়। এরপর আমি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ি। সেখানেও দু’ব্যক্তি আমাকে ধর্ষণ করে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে ওরা স্যালাইন খাওয়ায়। এরপর আমার অবস্থা খারাপ হতে দেখে মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়।

ওই তরুণীর বাবা বলেন, কয়েক দিন আগে মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি থেকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। রোজিনা ও তার মা পারুল এর আগেও অনেক মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছে। এ রকম ঘটনা অনেক আছে। অনেকেই লজ্জায় মুখ খোলেনি। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: আব্দুর রহমান ফিরোজ জানান, মেয়েটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখান থেকে ওসিসিতে পাঠানো হতে পারে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই বিস্তারিত জানাতে পারবো।

মধুখালী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রথিন্দ্র নাথ তরফদার বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা একটি মামলা করেছেন। রোজিনা ও তার মা পারুলসহ জাকির হোসেন নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



আরো সংবাদ