১৯ এপ্রিল ২০২১
`

রাজবাড়ীতে চোরকে ছাড়িয়ে নিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির হুমকি

রাজবাড়ীতে চোরকে ছাড়িয়ে নিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির হুমকি - ফাইল ছবি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ভড় রামদিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে দু’বার চুরি করেছে ভাগিনা আমিত (২৪)। মামার বাড়ি থেকে টাকা-গহনা চুরি করে পালানোর ১০ দিন পর মামা তুষার ভাগিনা আমিতকে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশে দেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ গোপালগঞ্জ থেকে আশিষ কুমারকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। অপর আসামি আশিষ কুমার বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে নিতে এবং মামলা তুলে নিতে বহরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম টেলিফোনে তুষারকে হুমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৈদ্ব-খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তুষার কুমার বিশ্বাস বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা ও হুমকির বিষয়ে ৬ মার্চ একটি জিডি করেছেন।

চুরির আসামি ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বাদিকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানান, ‘আমি চুরির ঘটনা মিটিয়ে নেয়ার কথা বলেছি। কোনো হুমকি দেইনি।’

মামলার আরজিতে তুষার জানান, ‘রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ভড় রামদিয়া গ্রামের তুষার কুমার বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে অমিত কুমার নন্দী ও তার সহযোগী আশিষ কুমার বিশ্বাস নগদ চল্লিশ হাজার টাকা ও আটভরি গহনা চুরি করে পালিয়ে যান। তাদের দু’জনের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে। চুরির ঘটনার আগ থেকেই আশিষ তার শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

চুরির পরদিন সকালে ভাগিনা অমিতকে কোথাও না পেয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করলে অমিত টাকা-গহনা চুরির কথা স্বীকার করেন। আপন ভাগিনা হওয়ায় মামলা না করে তুষার তার বোনের বাড়িতে গিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি আবার তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি রাতেই ভাগিনা অমিত তার ছোট মামা বিপুল কুমার বিশ্বাসের ঘর থেকে নগদ টাকা চুরি করে পালাতে চেষ্টা করেন। এ সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েন এবং গণধোলাইয়ের শিকার হন। পরে পুলিশ ডেকে ভাগিনাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

অমিত গোপালগঞ্জ সদরের তেতুলিয়া গ্রামের অসিম কুমার নন্দীর ছেলে। পরে অমিতের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ পাঁচ দিন পর গোপালগঞ্জ সদরের তেতুলিয়া গ্রামের অমেল বিশ্বাসের ছেলে আশিষ কুমারকে (৩০) গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।’



আরো সংবাদ