১৮ এপ্রিল ২০২১
`

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ৪ বড় ফেরি বিকল, তীব্র যানজট

-

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের চারটি বড় ফেরি বিকল হওয়ায় ফেরি স্বল্পতার কারণে ঘাটের দু’পাড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায় চার দিন ধরে দৌলতদিয়ায় ঢাকামুখী যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। যাত্রীবাহী ও ছোট গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হলেও পণ্যবাহী অসংখ্য পরিবহন নদী পাড়ি দিতে দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঢাকাগামী তিন কিলোমিটার লম্বা যানবাহনের লাইন। এর মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যবাহী গাড়ি। অনেক গাড়িচালক ও সহকারি গাড়ির ভেতর বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। খুলনার সরকারি পণ্যবাহী একটি ট্রাক নিয়ে গত সোমবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন চালক মোতালেব হোসেন। তিনি বলেন, তিনটি ট্রাকে পণ্য নিয়ে তারা একসাথে রওনা করেন। সোমবার রাতে ঘাট থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ আটকে দেয়। দু’দিন থাকার পর আজ ভোরে তাদের ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘাটের কাছে এসেও আরেকবার লম্বা লাইনে আটকা পড়েন। তিনদিন মহাসড়কে অপেক্ষা করতে করতে তার কাছে থাকা টাকা প্রায় শেষ।

এক সপ্তাহ ধরে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন গাড়ি আটকা পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চালক ও যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরির তীব্র সংকট, ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় উভয় ঘাটে যানজট কাটছে না। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে ঢাকামুখী বিভিন্ন পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। আর যানজট কমাতে রাজবাড়ীর পুলিশ প্রশাসন ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়-কুষ্টিয়া রোডে আরো দুই তিন শ’ পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ছয় হাজারের বেশি গাড়ি ফেরি পারাপার হয়। কিন্তু এই রুটে নৌপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রো রো (বড়) ফেরি নেই। চলাচলকারী ফেরিগুলো অনেক পুরনো। সার্বক্ষণিক সচল রাখতে গিয়ে অনেক ফেরি ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। বর্তমান বহরে থাকা ১০টি রো রো (বড়) ফেরির মধ্যে ভাষা শহীদ বরকত ও কেরামত আলী নামের দু’টি ফেরি বিকল হয়ে আছে।

বিআইডব্লিউটিসি কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে ১০টি রো রো (বড়), সাতটি ইউটিলিটি (ছোট), একটি মাঝারিসহ ১৮টি ফেরি চালু রাখা হয়। অনেক দিনের পুরোনো ফেরি হওয়ায় অধিকাংশ ফেরির যন্ত্রাংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ কারণে মাঝে মধ্যে বিকল হয়ে পড়ছে ফেরি।

সূত্রটি আরো জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে ‘কেরামত আলী’ ও ‘ভাষাশহীদ বরকত’ নামের দু’টি রো রো ফেরি বিকল হয়ে পড়ে। ‘কেরামত আলী’ ফেরিটি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতীতে রেখে মেরামতের কাজ চলছে। ‘ভাষাশহীদ বরকত’ ফেরিটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রপেলশানের পাখা ভেঙে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার সকালে রো রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ মধুমতী কারখানায় রাখা হয়েছে। পরদিন বুধবার সকাল থেকে মাঝারি ফেরি ‘ঢাকা’ যান্ত্রিক ত্রুটিতে বসে আছে। চারটি ফেরি বিকল থাকায় এই নৌপথে ফেরি সঙ্কট বেড়ে যায়।

তাছাড়াও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ফেরি চালু করায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এই রুট থেকে ‘কপোতী’ ও ‘কেতকী’ নামের দু’টি ইউটিলিটি ফেরি সরিয়ে নেয়া হয়। এ কারণে ফেরি সঙ্কট আরো বেড়ে যায়। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে সাতটি বড় ও পাঁচটি ছোট ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।


বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, ছোট-বড় মিলে ১৮টি ফেরি চলত। এর মধ্যে দু’টি ছোট ফেরি আরিচা-কাজিরহাট রুটে নিয়ে গেছে। বাকি ১৬টির মধ্যে চারটি বড় ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হওয়ায় একটি ডকইয়ার্ডে ও বাকি তিনটি ফেরি ভাসমান কারখানা মধুমতীতে রাখা হয়েছে। ফেরিস্বল্পতার কারণে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার বলেন, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে কেরামত আলী, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও ভাষাশহীদ বরকত ঠিক হয়ে নৌপথে যুক্ত হবে। ফেরি স্বল্পতা কেটে গেলে যানবাহন পারাপার অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।



আরো সংবাদ