১৯ এপ্রিল ২০২১
`

ফতুল্লায় ৪ বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা : ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনের যাবজ্জীবন

ফতুল্লায় ৪ বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা : ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনের যাবজ্জীবন - ছবি : নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে চার বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৭ আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান নয়া দিগন্তকে এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সাত আসামির উপস্থিতিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বাল্কহেডের দুই ফিডারম্যান (ইঞ্জিনমিস্ত্রী) তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, মজিবর, জলিল, আবদুল মান্নান, আরিফ, সাইফুল ইসলাম ও ইব্রাহিম। রায় ঘোষণার পর আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসামিদের স্বজনরা। রায়ের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

মামলায় ১২ আসামির মধ্যে জলিল, সাইফুল, দুলাল ও ইব্রাহিম নামের চারজন এখনো পলাতক রয়েছেন এবং শফিকুল ইসলাম নামে একজন আসামি ইতোপূর্বে মারা গেছেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ নামের বাল্কহেড সিলেট থেকে পাথর বোঝাই করে মুন্সীগঞ্জে একটি সিমেন্ট কারখানায় যায়। সেখানে পাথর খালাস করে ২১ সেপ্টেম্বর বাল্কহেডটি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে থেমে যায়। পরে বাল্কহেডটি মেরামত করার জন্য এর চালক দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনকে ফোন করে ডেকে আনেন। মেরামত শেষে বাল্কহেডটি সচল হলে দুই ফিডারম্যান সেটি পরীক্ষা করার কথা বলে রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডাকাতদের যোগসাজশে বক্তাবলীর চরে নিয়ে থামিয়ে দেয়।

ওই দিন রাতের কোনো এক সময় দুই ফিডারম্যান সহযোগীদের সাথে নিয়ে চালক মোল্লা নাসির মিয়া, কর্মচারি মংগল, ফয়সাল ও হান্নানকে হাত পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। পরে মেঘনা নদী থেকে হাত পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় নাসির ও মঙ্গলের লাশ উদ্ধার হলেও ফয়সাল ও হান্নান নামের অপর দুই শ্রমিক নিখোঁজ থাকেন। পরে বাল্কহেডটি বক্তাবলীর চর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ জব্দ করে।

এ ঘটনার পর দিন ২০০৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাল্কহেডটির মালিক এরশাদ মিয়া ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই ফিডারম্যান তাজুল ইসলাম ও মহিউদ্দিনসহ সাত আসামিকে গ্রেফতার করে।

পরে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে ও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক বদরুল আলম তথ্যপ্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ১২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত যুক্তিতর্ক ও ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় প্রদান করেন।

এ দিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিদের পক্ষের আইনজীবী জানান, ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।



আরো সংবাদ