২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

টাঙ্গাইলে আ’লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র জেল হাজতে

সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত - ছবি : নয়া দিগন্ত

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযাদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি বুধবার আদালতে আত্মসর্মপণ করেছেন। পরে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি জামিন চাইলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সিকান্দার জুলকার নাঈন শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানা যায়, দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি বুধবার সাড়ে ১০টার দিকে তার বাবা এমপি আতাউর রহমান খানের সাথে আদালতে এসে আত্মসর্মপণ করেন। বেলা পৌনে ১১টা থেকে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে চলে তার জামিন শুনানি। মুক্তির জামিনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী মিয়াসহ বেশ ক’জন আইনজীবী শুনানি করেন। আদালতের অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান জামিনের বিরোধিতা করেন। এ সময় মামলার বাদি নাহার আহমেদ তার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল ৩টার দিকে বিচারক ওই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মুক্তিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে টাঙ্গাইল জেল হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে ঘাটাইলের তৎকালীন এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।



আরো সংবাদ