১৭ জানুয়ারি ২০২১
`

যেভাবে ধরা হয়েছে ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামিদের

যেভাবে ধরা হয়েছে ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামিদের - ছবি : নয়া দিগন্ত

গাজীপুরে ঋণের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গজারী বনে পুঁতে রেখেছিলেন হত্যাকারীরা। প্রায় দুই বছর পর ক্লুলেস এ হত্যা মামলার রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে চাচা-ভাতিজাকে।

মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানাধীন পোড়াবাড়ি পূর্বপাড়া কোনাপাড়া এলাকার মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে মো. মোকসেদ আলী (৪২) ও তার ভাতিজা জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮)।

গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর জিএমপি সদর থানাধীন পোড়াবাড়ীর একটি গজারী বনের পুকুর পাড় থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। কাদা মাটি দিয়ে চাপা দেয়া ওই লাশটি ছিল এক নারীর (৩২)। অর্ধগলিত বিবস্ত্র লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে শনাক্ত করা হয় নিহতের পরিচয়।

তিনি জানান, ওই নারীর নাম শিখা আক্তার। তিনি কাপাসিয়ার আড়াল গ্রামের আল আমিনের স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে কর্মরত থাকায় নিঃসন্তান শিখা আক্তার বসবাস করতেন পোড়াবাড়ী এলাকায় বাবার বাড়িতে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি ছিল ক্লুলেস। পরে এ মামলার তদন্তভার দেয়া হয় গাজীপুর জেলা পিবিআইকে। সোমবার স্থানীয় টেকনগপাড়া এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ঘটনায় জড়িত মোকসেদ আলীকে।

তিনি আরো জানান, পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাতিজা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা জব্দ করেন লাশ মাটি চাপা দেয়ার কাজে ব্যবহৃত কোদাল। তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে তারা চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের জবানবন্দি দেন। তার প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রায় দু’বছর পর উন্মোচন হয় শিখা আক্তার হত্যার রহস্য।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বলেন, মোকসেদ আলীর কাছ থেকে প্রতিদিন দুধ কিনতেন প্রবাসীর স্ত্রী শিখা আক্তার। স্বামীর অনুপস্থিতিতে শিখা আক্তারের বাসায় আসা যাওয়ার কারণে তার সাথে মোকসেদ আলীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সুযোগে গরু কেনার কথা বলে মোকসেদ আলী দেড় লাখ টাকা ধার নেন শিখা আক্তারের কাছ থেকে। পরে ঋণের টাকা ফেরত চাইলে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

তারা আরো বলেন, ওই ঘটনার জের ধরে শিখা আক্তারকে কৌশলে বাড়ির পাশে হাজীর গজারী বনের ভিতরে ডেকে নিয়ে যায় মোকসেদ। সেখানে মোকসেদ ও তার সহযোগীরা শিখা আক্তারের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ বিবস্ত্র করে ঘটনাস্থলের পুকুর পাড়ে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনার প্রায় ১২/১৩ দিন পর নিহতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।



আরো সংবাদ