০৪ ডিসেম্বর ২০২০

শরীয়তপুরে জমি বিরোধের জেরধরে দফায়-দফায় হামলা

শরীয়তপুরে জমি বিরোধের জেরধরে দফায়-দফায় হামলা - প্রতীকী

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগরে জমি দখল করে রাজনৈতিক ক্লাব ঘর করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবৈধ দখল ও হামলার ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের নেতৃত্বে দুই সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়ে ধাওয়া করে। এ সময় ওই সাংবাদিকরা একটি দোকানের ভেতরে ঢুকলে তাদের দু’ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব, শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, শরীয়তপুর অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনসহ জেলার সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তাৎক্ষণিক এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

জাজিরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরার বিকেনগর বঙ্গবন্ধু কলেজ সংলগ্ন মুন্সীকান্দি গ্রামের ছলেমান মাদবর ও তার চাচাতো ভাই সোবাহান মাদবরের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১৮ অক্টোবর ওই জমি দখল করে ক্লাব ঘর করবে বলে জোরপূর্বক গাছ কেটে মাটি ভরাট করে সোবাহান মাদবর ও তার লোকেরা। পরে ছলেমান মাদবর প্রতিবাদ করলে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় ছলেমান মাদবর জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে স্থানীয়ভাবে সালিশে মিমাংশার কথা বলা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এ বিরোধের যের ধরে রোববার রাতে সোবাহান মাদবরের ছেলে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ, তার ভাই নাছির মাদবরসহ দলবল ছলেমান মাদবর ও তার লোকজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।

তারা আরো বলেন, এ বিষয় নিয়ে সোমবার সকালে জমি দখল ও হামলা-ভাংচুরের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক বর্তমান পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক হুংকার পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক খোরশেদ আলম বাবুল ও দীপ্ত টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি রাজিব হোসেন রাজনকে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের নেতৃত্বে ধাওয়া দিয়ে স্থানীয় একটি দোকান ঘরে (সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত) অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় সোবাহান মাদবরের লোকেরা ছলেমান মাদবরের লোকদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক মফিজুর রহমান ও সামসুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।

সংঘর্ষ চলাকালে ছলেমান মাদবরের পক্ষের ইউসুফ আলী মাদবর (৬৫), আবু বকর মাদবর (৩৫), এইচএমএ কাইয়ূম মাদবর (৪৬), ছলেমান মাদবর (৭৫), আইয়ূব আলী মাদবর (৫৫), হাবিবুর রহমান আব্বাসী মাদবর (২০), আদিব মাদবর (১৪), লাকু মাদবর (৩৫) ও অপর পক্ষে নাজমা বেগম (৪২), লাভলি আক্তার (৩০), নাসির মাদবর (৪০) সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউসুফ আলী মাদবর (৬৫) ও আবু বকর মাদবরকে (৩৫) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোবাহান মাদবরের নাতি সালমুন হাওলদারকে (১৮) আটক করে জাজিরা থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে সালমুনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে সোবহান মাদবরের লোকজন।

সাংবাদিক খোরশেদ আলম বাবুল ও রাজিব হোসেন রাজন বলেন, জাজিরা উপজেলার বিকেনগর মুন্সীকান্দি এলাকায় প্রভাবশালীরা জমি দখল করে ক্লাব ঘর করবে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের নেতৃত্বে সোবাহান মাদবর, নাছির মাদবর, জলিল, উজ্জল, চান মিয়া, সালমুন হাওলাদার, লাভলি, নাজমা, রিমাসহ ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে আমাদের মোবাইল, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয় আমাদের ধাওয়া করে, পরে আমরা স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ছালাম বেপারীর টেইলার্স দোকান ঘরে আশ্রয় নেই। পরে তারা আমাদেরকে সেখানে দোকানের ঝাপ আটকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।

ছলেমান মাদবর বলেন, আমরা পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ বছর যাবৎ ওই জমির ভোগ দখলে আছি। এই সম্পত্তি বাজারের নামে পেরিফেরি হচ্ছিল। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে রায় পেয়েছি। সোবাহান মাদবর ও তার লোকজন রাজনৈতিক ক্লাবঘর নির্মাণ করার জন্য জোরপূর্বক গাছ কেটে এবং মাটি ফেলে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করে। গাছ কাটতে বাধা দিলে সোবাহান মাদবরের লোকজন আমাদের ওপর ও আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর চালায়। এ সময় আমাদের ৮-১০ জন লোক আহত হয়। সকল বিষয়ের সংবাদ সংগ্রহের জন্য সোমবার সকালে সাংবাদিকরা আসলে তাদের উপর চড়াও হয়ে অবরুদ্ধ করে সোবাহান মাদবরের লোকজন। আমার এর সঠিক বিচার দাবি করছি।

সোবাহান মাদবরের ছেলে নাসির মাদবর বলেন, আমাদের জমিতে ঘর তোলার জন্য মাটি ফেলেছি। কিন্তু ছলেমান সেই জমি নিজেদের দাবি করছে। তারা আমাদের ওপর হামলা করে, বেশ কয়েকজনকে আহত হয়েছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার পিপিএম বলেন, সংঘর্ষ ও সাংবাদিকদের অবরুদ্ধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। অভিযোগের ভিত্তিতে ও তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ

সৌদি আরবে ইমাম হোসাইন মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ (৯৯৮৫)অপশক্তি মোকাবেলা করে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : মামুনুল হক (৮৯০১)ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না : সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ (৫৮৫৮)স্টেডিয়ামগুলোকে জেলে রূপান্তরের অনুমতি না দেয়ায় কেজরিওয়ালের ওপর ক্ষুব্ধ মোদি (৫৩৭৯)দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের নির্দেশ সেনাপ্রধানের (৪৪৮২)বাবার ডাকে বাড়ি ফিরে বড় ভাইয়ের হাতে খুন (৪১১৬)পাঠ্যসূচিতে থাকলেও গুরুত্ব হারাচ্ছে ইসলাম শিক্ষা (৩৯৮৪)মীমাংসিত বিষয় নিয়ে আপোষ করার কোনো সুযোগ নেই : ভাস্কর্য ইস্যুতে কাদের (৩৫৪৬)পরমাণু সক্ষমতা বাড়াতে ও পরিদর্শন বন্ধ করতে নতুন আইন পাস ইরানে (৩৪৩৪)রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পায়নি সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো (৩৪১০)