২৫ অক্টোবর ২০২০

নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও মামলার প্রতিবাদে পাংশা আ’লীগের সংবাদ সম্মেলন

পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন। - ছবি : নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগ। অভিযোগ করা হয়েছে, এসব নেতাকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. এএফএম শফীউদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টায় মাইক্রোবাসে করে ঢাকা হাইকোর্টে মামলার হাজিরার উদ্দেশে যাওয়ার পথে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের কালুখালী সংলগ্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া ডাকাতি মামলা ও পুলিশকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় পাংশার কসবামাজাইল ইউনিয়নের ৩৬ জন নেতাকর্মীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করে তাদেরকে ডাকাতির মামলার আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নেতাকর্মীরা আরো বলেন, পাংশার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হচ্ছেন জর্জ আলী বিশ্বাস। বর্তমানে জর্জ আলী ক্যান্সারে আক্রান্ত। ক্যান্সারের রোগী ডাকাতি করতে যাবে এটা কী গ্রহণযোগ্য? রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে জেলার সাধারণ জনগণ আজ আতঙ্কিত। রাজবাড়ী জেলায় পুলিশ সন্ত্রাসীদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাংশা উপজেলা শাখা এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

পুলিশের যেসব সদস্য এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীরা আরো বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার না হলে পাংশা, বালিয়াকান্দি, কালুখালীতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১২ মার্চ পাংশা উপজেলার সুবর্ণখোলা গ্রামের শিক্ষক আসাদুল বারীকে হত্যা করা হয়। সেই মামলায় আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করে নিহতের স্বজনেরা। সেই মামলায় ঢাকা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে ভোরে তিনটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন আওয়ামী লীগের ৩৬ জন নেতাকর্মী।

পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তাদেরকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের সোনাপুর মোড়ে ভোর ৫টায় আটক করে গ্রেফতার করে। কিন্তু তাদের পাংশা থানায় এনে মাইক্রোবাস তিনটি ছেড়ে দেয়। ডাকাতি করতে গেলে তো মাইক্রোবাসের চালকরাও জড়িত থাকার কথা। শুধু গ্রেফতারই নয় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা দায়ের করেছেন।

পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য পাঁয়তারা করছে পুলিশ। পুলিশের ভাবমূর্তী রক্ষার সার্থেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্ত করা উচিত। সেই সাথে আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এই অনৈতিক ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাংশা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার সাইফুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, পাংশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিদুল ইসলাম মারুফ, হাবাসপুর, বাহাদুরপুর ও কলিমহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


আরো সংবাদ