০৯ আগস্ট ২০২০

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে নিহত পরিবারের মাঝে জামায়াতের অনুদান

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে নিহত পরিবারের মাঝে জামায়াতের অনুদান - নয়া দিগন্ত
24tkt

ঢাকা বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতের পরিবারের মাঝে অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ ১২ পরিবারের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে ৬ লাখ টাকা তুলে দেন মুন্সিগঞ্জ জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

গত ২৯ জুন বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতের পরিবারের মাঝে সহযোগিতার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। পরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার, নৈদিঘির পাথর, গোপপাড়া, গোয়ালঘুর্নি, রামপাল ইউনিয়নের কাজীকসবা, শাখারীবাজার, পানহাটা, টংগীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর, সালিমাবাদ, আপরকাঠি, আড়িয়ল ইসলামপাড়া, কলমা গ্রামের ৩২টি পরিবারের মধ্যে বাছাই করে ১২টি পরিবারের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়।

১২টি পরিবারের মধ্যে মিরকাদিমের শাহাদাত হোসেন, পাপ্পু, সুমন তালুকদার, দিদার হোসেন, আবু সাঈদ, রামপালের গোলাপ হোসেন, আবু তাহের, রামপালের পানহাটার আক্তারুজ্জামান মিল্লাত, টংগীবাড়ির আব্দুল্লাহপুরের সালিমাবাদের নুরুজ্জামান, একই পরিবারের ৩ জন আব্দুর রহমান তার স্ত্রী হাসিনা রহমান ছেলে নাঈমুর রহমান, টংগীবাড়ির আপরকাঠির আবু তালহা তার মা মারফিন আক্তার মারুফা ও তালহার খালু আলম বেপারী, আড়িয়াল ইসলাম পাড়ার শামীম বেপারীর পরিবার রয়েছে।

অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আউয়াল জেহাদী। এ সময় জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী, সদর আমির আহসান উল্লাহ মন্ডল, মিরকাদিম পৌরসভার আমির ডা. মো. ইব্রাহীম দেওয়ান, সানাউল হক মৃধা, ইব্রাহীম খলিল, মাসুদ রানা গরীব হোসেন, বাবুল শেখ, শিবির নেতা মাসুম বিল্লাহ, শিবিরের সদর সভাপতি আল আমিন, পাঞ্চায়েত কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন, সালাউদ্দিন মন্ডল, শরীফ তালুকদার, ইমরান হোসেন, মো. রাকিব, শেখ মো. হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, সাত্তার মেম্বার ও শিক্ষক মাসুম প্রমূখ।

এসময় জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আউয়াল জেহাদী শোক সন্তপ্ত পরিবারগুলোকে শান্তনা দিয়ে বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা জামায়াত সব সময় তাদের পাশে থাকবে এবং নিহত পরিবারের সদস্যদেরকে ধর্য্য ধারণ করার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার পোস্তগোলা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে সোমবার (২৯ জুন) সকালে লঞ্চডুবিতে ৩২ জনের প্রাণহানী ঘটে। এদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ, আটজন নারী এবং তিনজন শিশু। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়া ময়ূর-২ লঞ্চটিকে জব্দ করা হয়েছে। লঞ্চটি সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে 'মর্নিং বার্ড' নামে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ছেড়ে আসে। এরপর সদরঘাটে এসে ঘাটে পৌছানোর কয়েক মূহুর্ত আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ নামে একটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় এই দুঘর্টনা ঘটে।

এছাড়া মৃত যাত্রীদের প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেকের দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হলেও ঘোষণাকৃত দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের কোন টাকা এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যগণ।


আরো সংবাদ