১২ আগস্ট ২০২০

পরকীয়ার জেরে শিশু হত্যা : ২ বছর পর আসামি গ্রেফতার

-
24tkt

গাজীপুরে পরকীয়ায় জড়িয়ে নিজের শিশুসন্তানকে গলাটিপে হত্যা করে ডুবায় কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেন মা। পরে পুলিশ তাকে আটক করলেও দুই বছর পর এ মামলার অন্যতম আসামি ওই শিশুটির মায়ের প্রেমিককে বৃহস্পতিবার ঢাকার তেজগাঁও নাখালপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতারকৃতের নাম মো: ইব্রাহিম (৪০)। তিনি নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার দুর্গানগর এলাকার আ: রশিদের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তৎকালীন গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার কুনিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় জনৈক মোজ্জাম্মেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোসা: আমেনা বেগমের (২২) শিশুকন্যা মার্জিয়ার (৯ মাস) লাশ পার্শ্ববর্তী ডোবার পানিতে পাওয়া যায়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পানিতে ফেলা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়। জয়দেবপুর থানা তদন্তকালে পরকীয়া প্রেমের কারণে উক্ত হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে বলে বলা হয়। জয়দেবপুর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে এজাহারানামীয় পলাতক ২নং আসামি ইব্রাহিমকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে না পেরে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে এবং প্রধান আসামি শিশুটির মা আমেনা বেগমকে গ্রেফতারপূর্বক অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি মামলাটি তদন্ত করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

আসামি ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা করে জানায়, ২০১৮ সালে আগস্ট মাসে শিশুটির মা আমেনার সাথে তার পরিচয় হয় এবং পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমেনার একটি ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ছিল। তার নাম মার্জিয়া। পরকীয়ার জেরে আসামি ইব্রাহিম আমেনাকে তার শিশুকন্যাসহ ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার পোঙ্গাইল এলাকায় তার স্বামী মো: আল আমিনের বাড়ি থেকে ভাগিয়ে এনে ঘটনাস্থল কুনিয়াতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ঘর ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে।

ঘটনার দিন সকালে আসামি ইব্রাহিম আমেনাকে বলে, ‘তোমার মেয়ের একটা ব্যবস্থা কর, তা না হলে তাদের বিয়ে করতে অসুবিধা হবে’। আমেনা তাকে বলে, সে ব্যবস্থা করতেছে। তারপর তারা দুইজনে শলাপরামর্শ করে। আমেনা তার মেয়ে মার্জিয়াকে গলাটিপে মেরে বাসার পাশেই কচুরিপানার ডোবায় ফেলার সময় আশপাশের লোকজন তা দেখে ফেলায় আমেনাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং আসামি ইব্রাহিম পালিয়ে যায়। এরপর থেকে ইব্রাহিম পলাতক থাকে। পরে তাকে বৃহস্পতিবার ঢাকা তেজগাঁও এলাকা থেকে ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গ্রেফতার করা হয়।


আরো সংবাদ