১০ আগস্ট ২০২০
অনন্য দৃষ্টান্ত

টঙ্গীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনাকালীন দুই মাসের টিউশন ফি মওকুফ

টঙ্গীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনাকালীন দুই মাসের টিউশন ফি মওকুফ - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পাশে দাঁড়ালো টঙ্গীর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক শিক্ষাক্রম বন্ধ থাকায় দুই মাসের টিউশন ফি মওকুফ করেছে একই পরিবারের পরিচালনাধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমী।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দু’টি স্কুল বন্ধ থাকাকালীন শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা গতিশীল রাখতে অভিভাবকদের সহযোগিতায় ঘরে বসে একটি (সততা) পরীক্ষা নেয়ারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে পরিদর্শক থাকবেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তারা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করবেন না সততার পরীক্ষায় নিজেরাও উত্তীর্ণ হবেন সে সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম প্রিন্সিপাল নূরুল হুদার প্রতিষ্ঠিত টঙ্গীর আউচপাড়াস্থ আল-হেলাল স্কুল এবং পশ্চিম থানা রোডস্থ আল-হেলাল একাডেমী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনযোগী রাখা এবং অভিভাবকদের বর্তমান আর্থিক সংকট বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিশেনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আল-হেলাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকাবস্থায় আমাদের শিক্ষকরা যথাসাধ্য অনলাইনে ক্লাস করানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সীমিত পরিসরে অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব হলেও সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে না পারায় অনলাইনের ক্লাস কিংবা বাড়িতে ব্যক্তিগত পড়াশুনায়ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরাও রয়েছেন আর্থিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক সঙ্কটে। কারণ স্কুল বন্ধ থাকায় এবং লকডাউনের কারণে আয় রোজগার না থাকায় অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে পারছেন না। সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছেন। এ অবস্থায় দু’মাসের টিউশন ফি মওকুফ করে এবং সরকারের নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে ঘরে বসেই একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা সংক্রান্ত বিদ্যমান সঙ্কট কিছুটা হলেও কমবে বলে আমরা মনে করি। সরকারি নির্দেশনা মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক ।

এদিকে দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাত শ' শিক্ষার্থীর দু-মাসের টিউশন ফি মওকুফ করায় বিপুল আর্থিক ক্ষতি এবং শিক্ষক বেতন, বাড়িভাড়া, ইউটিলিটি বিলসহ অন্যান্য অপরিহার্য খরচের ক্ষেত্রে সমস্যা হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির নির্বাহী পরিচালক ও সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ।


আরো সংবাদ