০৬ আগস্ট ২০২০

বালিয়াকান্দিতে আরো দু’টি চোরাই গরু উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

বালিয়াকান্দিতে আরো দু’টি চোরাই গরু উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে চুরি হওয়া ২টি গরু আরিচা ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার চোরের গোয়াল থেকে আরো দু’টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই গরু দু’টির মালিক উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ভররামদিয়া গ্রামের ফরমান শেখের ছেলে ছিরু শেখের নিকট ফেরত দেয়া হয়েছে। গরু দু’টি ফেরত দেয়ার সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ, বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, নবাবপুর ইউনিয়নের সদস্য কাবিল উদ্দিন, সাদ্দাম ফকির, থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও তার কাছ থেকে ক্রয়কৃত গরু অনেকেই বাড়িতে রেখে আসছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ছিরু শেখ বলেন, ১২ জুন রাতে তার বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে একটি গাভী ও একটি ষাড় চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। ভোরে গোয়ালে গিয়ে গরু না পেয়ে আশপাশে অনেক খোঁজাখুজির পর বৃহস্পতিবার গরু ২টি উদ্ধার হয়েছে।

বুধবার বিকেলে অভিযুক্ত নবাবপুর ইউনিয়নের মেচুয়াঘাটা গ্রামের হাসেম মণ্ডলের ছেলে রোকন ওরফে আবুল মণ্ডলের বাড়িতে গেলেও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার বাড়ির খামারে ১১টি গরু রয়েছে। বিকেলে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নিয়ে এসে মেচুয়াঘাটা গ্রামের তোফাজ্জেল মিয়ার ছেলে আবুল মিয়া একটি গরু বাড়িতে রেখে গেছেন বলে রোকনের স্ত্রী নিশ্চিত করেচেন।

তিনি বলেন, আমার স্বামী প্রায় ১৭ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করে। প্রায় ৫ বছর ধরে গরু পালন করছি। গরু আমার স্বামী ক্রয় করে বিক্রি করেছে। আমরা সেই গরুর মালিককে খুঁজছি। তবে রোকন কোথায় আছে সেটি তারা জানেন না বলে জানান।

মেচুয়াঘাটা গ্রামের আবুল মিয়া বলেন, মঙ্গলবার রোকনের ছেলে ফুরাদের নিকট থেকে ৬০ হাজার ৫শ’ টাকা মুল্যের একটি গরু ৪০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে গরুটি আমার ছেলে বাড়ি নিয়ে আসে। গরুটি কালুখালীর বথুনদিয়া বাজার এলাকা থেকে ক্রয় করেছেন বলে জানান তিনি। রাত ১১টার দিকে খবর পাই দেওয়ালীর হোসেন ব্যাপারী চোরাই গরু কিনেছেন রোকনের নিকট থেকে। ৯দিন খাওয়ানোর পর বুধবার গরুটি তাদের বাড়িতে দিয়ে এসেছি।

নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাবিল উদ্দিন বলেন, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী পুর্বপাড়া গ্রামের আলিমদ্দিনের ২টি গরু চুরি হয়। মঙ্গলবার আরিচা ঘাটের শহীদ ব্যাপারীর মাধ্যমে গরু দু’টি উদ্ধার করে মালিককে প্রদান করা হয়েছে।

নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসান আলী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে নবাবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০-১৫টি গরু চুরি হয়। আরিচা ঘাটে গিয়ে ধরা পড়ে চোরাই গরু। গরু রোকন বিক্রি করেছে বলে ওই ব্যাপারী প্রকাশ করে। এখনও রোকনের বাড়িতে ১০-১২টি গরু রয়েছে। তবে রোকন পলাতক রয়েছেন।


আরো সংবাদ